কামারশালা থেকে কেজিএফ সিরিজের মিউজিক ডাইরেক্টর রবি বাসরুর
মুন্নি আক্তার : রবি বাসরুর। কেজিএফ সিরিজের মিউজিক ডাইরেক্টর। অত্যন্ত গরীব পরিবারে বড়ো হয়েছেন। চব্বিশ বছর বয়সে জমানো ও ধার দেনা করা টাকার বিনিময়ে পুরোনো হারমোনিয়াম, তবলা কিনে রওনা দিয়েছিলেন মুম্বাই, দু চোখে মিউজিশিয়ান হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। মায়ানগরী তার আগমণ মেনে নেয় নি।
যেদিন রবি মুম্বাই পৌঁছান তার পরের দিনই মুম্বাই সিরিয়াল রেল ব্লাস্ট হয়। হারমোনিয়াম, তবলা সমেত স্টেশনে ঢাউস ব্যাগ নিয়ে ঘুরতে থাকা রবিকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। পরে রবি ছাড়া পেলেও তার সেই ব্যাগ আর ফিরে আসেনি। সমস্ত আশা আকাঙ্খা স্বপ্ন একটা মুহূর্তে ধুলিসাৎ হয়ে যায়।
কর্নাটকে ফিরে যাওয়ার ভাড়া টুকুও হাতে ছিল না। অনেক কষ্ট করে কিছুদিন পর বাড়ি ফেরেন। বাড়ি ফিরেই পাওনাদারদের তাগাদা। হাতে সম্বল বলতে পারিবারিক কামারশালা ছাড়া কিছু নেই। ওতে কাজ করে ঐ বিপুল অঙ্কের দেনা টাকা শোধ করা মুশকিল।
বাড়িতে কাওকে কিছু না বলে রবি একদিন হাসপাতালে চলে যান, নিজের একটা কিডনি বিক্রি করতে। শেষমুহূর্তে অবশ্য ফিরে আসেন নিজের ভুল বুঝতে পেরে।
আবার নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেন। তবে আর মুম্বাইয়ের দিকে পা বাড়ান নি। ছোটো হলেও নিজের রাজ্যে থাকা কন্নড় ইন্ডাস্ট্রিই বেছে নেন কাজ করার জন্য। টুকটাক ছোটোখাটো কাজ করতে করতে হাতে কেজিএফ আসে। কেজিএফ থেকেই রবির বলিউডে কাজ করার স্বপ্নও সফল হয়।
হাতে আসে সলমান খানের অন্তিম দ্য ফাইনাল ট্রুথ। তারপর কেজিএফ টু। নায়ক ও ডাইরেক্টরের সাথে রবি বাসরুরকে নিয়েও লোক এখন উন্মাদ।তবে রবি আছেন রবিতেই। এখনো রবি বাসরুরে গেলে বাড়ির কামারশালায় লোহা ঠোকেন। কিছুদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও আপলোড করে লিখেছিলেন, আজ গোটা দিনে ৩৫ টাকার কাজ করলাম। আর হ্যাঁ, বসরুর রবির সারনেম নয়, গ্রামের নাম।
নিজের নামের পরে রবি নিজের গ্রামের নামটাই ব্যবহার করেন। তাই রবি বিশ্বকর্মা নয়, লোকজন রবি বাসরুরকেই চেনে। এই গল্পগুলো থাক টাইমলাইনে। কেজিএফ শুধু একটা সিনেমা নয়, অনেকের কাছে অনেক কিছু হয়ে থাকবে। অনেককে অনেক কিছু দিয়ে যাবে।
স/এষ্

