যৌতুক মামলায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট
খোরশেদ আলম বাবুল, শরীয়তপুর প্রতিনিধি: স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা আদেশ দিয়েছেন শরীয়তপুর সদর আমলী আদালতের বিচারক মো. নেজবাউল। এর আগে গত ১০ নভেম্বর আসামীদের বিরুদ্ধে সমন জারী করা হয়। ২৯ ডিসেম্বর বুধবার ধার্য তারিখে মামলার প্রধান আসামী স্ত্রীর পিতা-মাতা আদালতে হাজির হলে তাদের জামিনে মুক্তি দিয়ে প্রধান আসামী স্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন।
আর্জি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের জুলাই মাসে যশোরের বাসুয়ারী এলাকার বিশ্বজিৎ সরকারের মেয়ে মাধবী সরকারকে মামলার বাদী শরীয়তপুর পৌরসভার কাশাভোগ গ্রামের নয়ন দাস প্রেমের সম্পর্ক গড়ে বিয়ে করে। বিয়ের চার মাস পার না হতেই মেয়ের নামে যশোর বা গোপালগঞ্জে বাড়ি করে দিতে জামাতাকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে স্ত্রীর পিতা-মাতা। মেয়ের নামে বাড়ি করে না দেয়ায় স্বামীর সংসার থেকে মেয়েকে নিয়ে যায়। গত এক বছরে স্বামী নয়ন দাস স্ত্রী মাধকে ফিরিয়ে আনতে প্রথমে উকিল নোটিশ ও পরে আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করে। মামলায় স্ত্রী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে আসামী করা হয়।
মামলার বাদী জানায়, স্ত্রীকে যৌতুক দিতে না পারায় তার ভালোবাসার বিয়ের বিচ্ছেদ হতে যাচ্ছে। সে স্ত্রী ও তার পরিবারের অনেক নির্যাতনের শিকারও হয়েছেন। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে স্ত্রীর এলাকার চেয়ারম্যান এর গ্রাম্য আদালতে একাধিক শালিশী করেছে। স্ত্রী ও তার পরিবারের সিদ্ধান্তের পরিবর্তন আনতে পারিনি। অবশেষে আদালতের আশ্রয় নেই।
বাদীর আইনজীবী এডভোকেট মুরাদ হোসেন মুন্সি জানায়, যৌতুক চাওয়ার অভিযোগ এনে স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীর দায়ের করা মামলায় আজ সহযোগী আসামী (স্ত্রীর পিতা-মাতা) আদালতে হাজির হয়। আদালত সহযোগী আসামীদের জামিন দিয়েছেন। প্রধান আসামী স্ত্রী আজ হাজির না হওয়ায় আদালত আসামীকে গ্রেফতারের আদেশ দিয়েছেন। স্বামীর বিরুদ্ধে স্বীর দায়ের করা যৌতুক মামলার ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে। এই মামলায় তার উল্টোটা ঘটেছে। তিনি আশাবাদী মামলার রায় বাদীর পক্ষে আনতে পারবেন।
স/এষ্

