“সিভিতে রেফারেন্সের গুরুত্ব এবং উল্লেখ করার নিয়মাবলী”

বর্তমান যুগে চাকুরীর বাজারে সিভিতে রেফারেন্স উল্লেখ করা প্রচলিত একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

www.linkhaat.com

সিভিতে রেফারেন্স কেন দরকার হয়? দামী রেফারেন্স ছাড়া কি চাকুরী হয়? কাকে রেফারেন্স হিসাবে রাখবো? এ রকম অসংখ্য প্রশ্ন আমাদের মাথায় সারাক্ষণ কিলবিল করে। আমরা দ্বিধায় ভুগতে থাকি। ফলে আমাদের নৈতিক মনোবল ও আত্মবিশ্বাস একদম তলানীতে নেমে যায়। চাকুরী না পেলে আমরা দামী রেফারেন্সের অভাবকেই মূল কারণ হিসাবে ধরে নিই এবং একসময় হতাশ হয়ে পড়ি।

সিভিতে রেফারেন্স থাকলে নিয়োগদাতার জন্য ক্যান্ডিডেট সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে ও জানতে কিছুটা সুবিধা হয়। চাকুরী পাওয়ার জন্য রেফারেন্সের ভূমিকা খুবই কম। রেফারেন্স নয়, বরং আপনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, কার্যকরী যোগাযোগের ক্ষমতা, দক্ষতা, যোগ্যতা এবং নিজেকে উপস্থাপনের ক্ষমতা আপনার জন্য একটি চাকুরী পাওয়ার নিশ্চয়তা তৈরী করতে পারে।

চাকুরীতে সততা ও দক্ষতার পরিচয় দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একজন মানুষ কতটুকু দক্ষ বা তার উপর কতটা নির্ভর করা যায়, সেটি একটি ইন্টারভিউ দিয়ে যাচাই-বাছাই করা নিয়োগদাতার জন্য খুবই কঠিন বিষয়।

নিয়োগদাতা লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা এবং কোন কোন সময় ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে স্কিল ও টেকনিক যাচাই-বাছাই করার মাধ্যমে ক্যান্ডিডেটকে চাকুরীতে নিয়োগ দেবার চেষ্টা করেন। এজন্য অনেক সময় অনেক সিনিয়র পোষ্টে কয়েকবার পর্যন্ত ইন্টারভিউ দিতে হয়।

রেফারেন্স থাকলে নিয়োগদাতার জন্য খোঁজ খবর নেয়ার মাধ্যমে ক্যান্ডিডেটকে চাকুরীর জন্য নির্বাচন করার প্রক্রিয়া কিছুটা সহজ হয়।

অনেক সময় নিয়োগদাতা সিভির রেফারেন্সে আপনার সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে পারেন। দেখা গেলো নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান আপনার রেফারেন্সে ফোন করে খোঁজ নেয়ার সময় আপনার রেফারেন্স ব্যক্তিগণ আপনার নাম ও পরিচয় সঠিকভাবে বলতে পারছেন না। বিষয়টি খুবই দৃষ্টিকটু। তাই সিভিতে রেফারেন্স ভেবে-চিন্তে রাখাটা বেশ যুক্তিযুক্ত।

সিভিতে রেফারেন্স উল্লেখ করার কিছু নিয়মাবলী :

১.সিভিতে রেফারেন্স হিসাবে তাঁদেরকে রাখুন যাঁরা আপনাকে সবচেয়ে ভালো চিনেন, ভালো জানেন। রেফারেন্স ছাড়াও আপনার সিভি গ্রহণযোগ্য। কিন্তু রেফারেন্স ছাড়া সিভি আপনার যোগাযোগ দক্ষতার দূর্বলতাকে প্রকাশ করতে পারে।

২.পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই এমন ফ্রেশাররা আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে থেকে প্রফেশনাল কাউকে এবং পরিচিত শিক্ষককে রেফারেন্স হিসাবে রাখতে পারেন। তবে একটা বিষয় ভেবে রাখা দরকার যে, শিক্ষকগণের পক্ষে অনেক সময় সব ছাত্রের নাম মনে রাখা সম্ভব হয় না। অভিজ্ঞরা নিকটাত্মীয় প্রফেশনাল কাউকে এবং চাকুরী জীবনের বস বা প্রফেশনাল কোন বন্ধুকে রেফারেন্স হিসাবে রাখতে পারেন। কেউ না থাকলে নিজ পরিবারের প্রফেশনাল কাউকে রেফারেন্স হিসাবে রাখতে পারেন।

৩.সিভিতে রেফারেন্স হিসাবে দুইজন অথবা সর্বোচ্চ পাঁচজন রাখা যথেষ্ট। সিভিতে রেফারেন্স উল্লেখকারীর নাম, পদবী, প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, ফোন নাম্বার, ইমেইল এবং সর্ম্পকের বিবরণ থাকতে হবে।

৪.যাঁদেরকে সিভিতে রেফারেন্স হিসাবে রাখছেন, তাঁদেরকে বিষয়টি আগে থেকেই জানিয়ে রাখতে হবে এবং অনুমতি গ্রহণ করে রাখতে হবে। তা না হলে পরবর্তীতে সেটি আপনার জন্য হিতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে।

পরিশেষে একটা বিষয় মনে রাখা দরকার-সিভির রেফারেন্স এবং কাউকে চাকুরীর জন্য অনুরোধ করা এক জিনিস নয়। চাকুরী এবং ক্যারিয়ার গঠনে রেফারেন্সের ভূমিকা যৎসামান্য। সুতরাং এটা নিয়ে অহেতুক না ভেবে এবং সময় নষ্ট না করে সবাইকে নিজের স্কিল বৃদ্ধির উপর বেশী করে গুরুত্ব দেয়া উচিত।

লেখক : মো: তবিবুর রহমান।
এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (বেসরকারী বিক্রয় ও বিপনণ প্রতিষ্ঠান)

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email