অঞ্জন কান্তি দাসের ইউরোপ যাবার ফাঁদ থেকে সাবধান!

নিজস্ব প্রতিনিধি : কখনো পোল্যান্ড কখনো পুর্তগাল কখনো বা ক্যনাডা! বিশ্বের এমন নামি-দামি দেশে লোভনীয় চাকরীর প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করছে গ্রীণ ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস নামে প্রতিষ্ঠান।

কোলকাতার উত্তর চব্বিশ পরগনার বনগাঁয় রামনগর রোডে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আঞ্জন কান্তি দাস। অপু নামেই তিনি সবার কাছে পরিচিত। তার মুখের কথায় বিদেশ যাবার ফাঁদে পড়ে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভারতে বিভিন্ন রাজ্যের অনেকে প্রতারিত হয়েছে।

অঞ্জন কান্তি দাস অরফে অপু নিজেই বিভিন্ন দেশের জাল অফার লেটার ও নিয়োগ পত্র তৈরি করে সরল বিশ্বাসী মানুষের সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছে। সাধারন মানুষের টাকায় নিজে বেশ কিছু দেশ ভ্রমন করে নিজের প্রোফাইল ভারি করেছেন। যার ফলে মানুষের সাথে প্রতারণা করতে তার বিশেষ সুবিধা হয়।

নেপাল থেকে আসা পাছাং কাজি কান্না ভেজা কন্ঠে জানান, দীর্ঘ দুবছর যাবৎ তাকে ইউরোপের যেকোন দেশে পাঠাবে এই প্রতিশ্রুতিতে তার কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন তাকে নানা ভয় ভিতি দেখাছে।

বাংলাদেশের নাহিদ মিয়া নামের এক ভুক্তভোগী জানান, পোল্যান্ডের চাকুরীর কথা বলে তার কাছ থেকে ভারতীয় চার লক্ষ তিশ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই অঞ্জনকান্তি।

এছাড়া, কক্সবাজারের জিগর, লক্ষ্মীপুরের মনির, কিশোরগঞ্জের নাসির সহ আরো অনেকের কাছ থেকে ক্যানাডা, পোল্যান্ড, পুর্তগাল, রাশিয়া, আজারবাইজান পাঠাবার নাম করে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক লক্ষ টাকা।

গ্রীণ ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস নামে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যাবার ব্যবস্থা করার অনুমতি থাকলেও কোন দেশে লোক পাঠাবার কোন বৈধ্য অনুমতি প্রতিষ্ঠানটির নেই।

অতিতে মানুষ পাচারের অজুহাতে পুলিশের হাতে একবার আটক হলেও মোটা টাকা ঘুষ দিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন অঞ্জন কান্তি। প্রশ্ন ওঠে কে এই অঞ্জন কান্তি? তার আসল বাড়ি কোথায়?

অঞ্জণকান্তি নিজেকে ভারতীয় পরিচয় দিলেও তিনি প্রকৃত পক্ষে বাংলাদেশের ময়মনসিংহের বাসিন্দা। পিতা, অলক বরন দাসের আদীবাড়ি চট্টগ্রাম। ময়মনসিংহে এখনো তাদের পৈত্রিক ভিটা রয়েছে।

বাংলাদেশীদের বিভিন্ন সুযোগে ও দেশে ত্যাগের প্রলভন দেখিয়ে মোটা টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারিদের ভারতীয় নাগরিক করিয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে ভোটার কার্ড, প্যানকার্ড ও আধার কার্ড করিয়ে মোটা অংকের বিনিময়ে বিশেষ কায়দায় ভারতীয় পাসপোর্ট পর্যন্ত তৈরি করে দেবার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বনগাঁর স্থাণীয় নেতা ও থানা বিশেষ কায়দায় হাত করে তিনি এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে তিনি বনগাঁর থেকে মোটা টাকা হাতিয়ে দিল্লিতে সরে পড়ার চেষ্টায় আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, অঞ্জনকান্তি বাংলাদেশের ময়মানসিংহ পলিটেকনিক কলেজে পড়াশুনা করলেও মেয়েলী ঝামেলায় জড়িয়ে পড়াশুনা অসমাপ্ত রেখে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। এখন পর্যন্ত তিনি কাউকে কোন দেশে পাঠাতে পারেনি।

অনেককে কোলকাতা থেকে দিল্লী নিয়ে সেখানে আটকে রেখে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তার আত্মীয়স্বজনের কাজ থেকে টাকা আদায় করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের টাঙ্গাইল ভুয়াপুর ও চট্টগ্রামের হাট হাজারি থানায় অঞ্জন কান্তি দাসের নামে প্রতারণার দুটি মামলা হয়েছে।

ভাল মানুষের মুখোশ আর মিষ্টি কথা পুজিঁ করে তিনি শিকার খোঁজেন। তার ফাঁদে যে একবার পা দেবে সেই আটকে যাবে চোরাবালিতে। ইউরোপ যাবার স্বপ্ন তখন দূস্বপ্ন হয়ে দু’চোখের লোনা জলে গড়িয়ে পড়বে।

তাই এই গ্রীণ ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস এর অঞ্জন কান্তি দাসের সাথে যে কোন প্রকারের আর্থক লেনদেনের থেকে সবাইকে সাবধান থাকতে অনুরোধ করেছে ভুক্তভোগীরা।

Print Friendly, PDF & Email