গোয়াইনঘাটে পাহাড়ী ঢল ও ভারী বর্ষণে নিম্মাঞ্চল প্লাবিত
গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি : গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে তলিয়ে গেছে কৃষকের প্রায় পাঁচ শতাধিক হেক্টর জমির বোরো ধান। আর আউস বীজ তলিয়ে গেছে ২১ হেক্টরের মত।
তবে, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে ফসলি জমি নিমজ্জিত হওয়ার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত চারদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে দেখা দিয়েছে মানুষের ভোগান্তি।
এতে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, ক্ষেতের জমি তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে।
অপরদিকে কোন কোন এলাকার রাস্তাঘাট ভেঙে এবং তলিয়ে গিয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পাশাপাশি মানুষের বসতবাড়িসহ কয়েকটি হাট বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। এতে মানুষের এক ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সিলেট সদরের সাথে যোগাযোগের উপযোগী একমাত্র রাস্তা সারি-গোয়াইনঘাট রাস্তার বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। যার ফলে সিলেটের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার চরম শংকায় রয়েছেন গোয়াইনঘাটবাসী।
বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে গোয়াইনঘাট-রাধানগর রাস্তা।
জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টিপাত ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে গত বুধবার থেকে গোয়াইনঘাটের ডাউকি, সারি এবং পিয়াইন নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দুপুরের দিকে উপজেলার পুর্ব জাফলং, মধ্য জাফলং, পূর্ব আলীরগাঁও, পশ্চিম আলীরগাঁও, পশ্চিম জাফলং, রুস্তমপুর, ডৌবাড়ী, তোয়াকুল ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকাসহ উপজেলার সবকটি ইউনিয়নের নিম্মাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে পড়ে।
এতে করে তলিয়ে যায় উপজেলা সদরের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকা থেকে যোগাযোগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ গ্রামীণ জনপদের অধিকাংশ এলাকার রাস্তাঘাট। একই সঙ্গে প্লাবিত হয়ে পড়ে উপজেলার কয়েকটি হাটবাজার।
এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রায়হান পারভেজ রনি বলেন, পাহাড়ি ঢলে বন্যা দেখা দেয়ায় উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে এ পর্যন্ত ৪২০ হেক্টরের মত বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। হাওরগুলো পরিদর্শন করছি। তবে দুয়েক দিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ফসলের তেমন একটা ক্ষয়-ক্ষতি হবেনা বলে আশা করা হচ্ছে।
স/এষ্

