ঢাকাশনিবার , ১৪ মে ২০২২
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

কামরাঙ্গীরচরে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন, চরম ভোগান্তিতে বাসিন্দারা

চমক নিউজ বার্তা কক্ষ
মে ১৪, ২০২২ ৩:০২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কামরাঙ্গীরচরে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন, চরম ভোগান্তিতে বাসিন্দারা

আব্দুল কাদের সাইফুল : রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে গত ৪ দিন ধরে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। চুলোয় নূন্যতম গ্যাসের চাপ না থাকায় গৃহীনিরা এক বেলায়ও করতে পারছেন না রান্নাবান্না।

অধিকাংশ বাসিন্দারা নিরুপায় ও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ৩ বেলা খাবার না খেয়ে ২ বেলা খাবার খেয়ে করছেন দিনযাপন। অনেকেই পাশ্ববর্তী খাবার হোটেলে চড়াদামে খাবার খেয়ে দিন পার করছেন। ঈদের ছুটি কাটিয়ে কর্মজীবী বাসিন্দারা ঢাকায় এসে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

গনমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, লাইনে গ্যাসের চাপ কম অজুহাতে দিনের পর দিন অনেকেই পরিশোধ করেন না গ্যাসের বিল। কেউ আবার বৈধ লাইন থেকে লিংকেজ করে সংযোগ নিয়েছে। বিতরণ কোম্পানি তিতাস বলছে, কামরাঙ্গীর চর এলাকাটির বৈধ গ্রাহকদের কাছেই বকেয়া আছে প্রায় ৬৭ কোটি টাকা।

বার বার এসব গ্রাহককে সতর্ক করেও কোন কাজ হচ্ছিল না। কাজ হচ্ছিল না বছরের পর বছর অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেও। তাই এবার এলাকাবাসীকে শায়েস্তা করতে কঠোর অবস্থান নিল বিতরণ কোম্পানি তিতাস।

একটি দুটি নয় পুরো এলাকারই গ্যাস বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে গত মঙ্গলবার থেকে গ্যাস বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দিন পার করছে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকার প্রায় ১২ হাজার গ্রাহক।

এতে করে যেসব গ্রাহক নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসছে তাদেরও পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। তিতাস সূত্রে জানা যায়, আবাসিক, শিল্প এবং বাণিজ্যিক মিলিয়ে কামরাঙ্গীরচরে তিতাসের গ্রাহক সংখ্যা ১২ হাজারের মতো। কিন্তু এর থেকে প্রায় পাঁচগুণ বেশি গ্রাহক অবৈধভাবে সংযোগ নিয়ে গ্যাসের ব্যবহার করছেন বলে দাবি তিতাসের।

শুধু তাই নয় তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ হারুনুর রশিদ মোল্লাহ্ প্রথম সারির এক গনমাধ্যমকে বলেন, অবৈধ সংযোগের পাশাপাশি এই এলাকার বৈধ গ্রাহকদের কাছেই আমাদের বকেয়া আছে ৬৭ কোটি টাকার বেশি। এমন তো চলতে পারে না।

জানা যায়,রাষ্ট্রের কত কত রাজস্ব এর ফলে বাদ পড়ছে। আমরা বার বার এলাকাবাসীর কাছে গিয়েছি, কথা বলেছি, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছি বারে বার। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্ত নিতেই হয়েছে। হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া কতটা যুক্তিযুক্ত বিশেষ করে যারা নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসছে তাদের ভোগান্তির দায় কে নেবে, এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার্থে এর বিকল্প আমাদের কাছে নেই।

এর সমাধান কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সেহেতু সমাধান হতেও একটু সময় লাগবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বসে বকেয়া আদায়, অবৈধ সংযোগ বন্ধের প্রতিশ্রুতি পেলে আমরা ভেবে দেখব।

এদিকে এলাকাবাসী তিতাসের এমন কান্ডজ্ঞানহীন কার্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসা পূর্ব রুসলপুরের ১নং গলির বাসিন্দা ফয়েজ আহমেদ বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসছি। লাইনে গ্যাসের চাপ প্রায় সময়ই কম থাকে। কিন্তু আমরা তাও নিয়মিত বিল পরিশোধ করি।

কিন্তু কোন ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়া হুট করে তিতাসের পুরো এলাকার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা কোনভাবেই ঠিক হয়নি। পরিবার নিয়ে কি যে বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছি এর দায় কে নেবে?

আরও জানা যায়,একই কথা বলেন পূর্ব রসুলপুর ১ নং গলির বাসিন্দা নেসার হোসেন। তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার দুপুরের দিকে হুট করে কোন ঘোষণা ছাড়াই লাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় তিতাস। কোন কিছু না বুঝে আমরা তিতাসের অভিযোগ কেন্দ্রে ফোন করি। কিন্তু তারাও কিছু বলতে পারে না। কবে নাগাদ চালু হবে তাও কেউ জানে না।

এলাকার হাজার হাজার মানুষের খাওয়া দাওয়ার কি যে ভোগান্তি হচ্ছে কাকে বলব? নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও এমন ভোগান্তি মেনে নেয়া কষ্ট। আজ (শুক্রবার) দুপুরে পরিবার নিয়ে অন্য এলাকায় গিয়ে দাওয়াত খেয়ে আসছি। কিন্তু প্রতিদিন কি এটা সম্ভব।

নিয়মিত বিল পরিশোধ করেন দাবি করে এই গ্রাহক বলেন, আমরা বছরে ৭২ হাজার টাকা বিল দেই। কিন্তু যারা বিল না দিয়ে অবৈধভাবে বছরের পর ব্যবহার করে তারা ৫ বছরে ১০ হাজার টাকা বিল দেয়। যারা লাইন কাটতে আসে তাদের ম্যানেজ করতেই এই টাকা দেয় তারা।

আর এই টাকা নিয়ে রাইজারটা নিয়ে জমা না দিয়ে সমঝোতা করে তিতাসের লোকজন। ফলে আমরা দেখছি অবৈধ লাইনের লোকজনই ভাল আছে। এক একদিন লাইন কাটতে এসে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে চলে যায় তিতাসের কর্মীরা। মাঝখান থেকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আমাদের মতো বৈধ সংযোগ গ্রহণকারীদের। যারা নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসছি।

যদি গ্রাহকদের কাছে বকেয়া পাওয়া থাকে তাহলে তাদের নোটিস দিয়ে একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিতে পারত তিতাস এমনটা উল্লেখ করে ৫৬ নং ওয়ার্ডের কমিশনার মোহাম্মদ হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, তিতাসের এই সিদ্ধান্তের ফলে সব শ্রেণীর মানুষদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যা কোনভাবেই কাম্য নয়। আগামী দুই দিন আবার সরকারী ছুটির দিন। এ সময় তো তিতাসের অফিসও খোলা থাকবে না। তবে আমরা সোমবারে নিশ্চয়ই তিতাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করব বিষয়টির সমাধানে।

এলাকাবাসী জানান, ওই এলাকার ঝাউচরের পাশ থেকে শুরু করে পুরো কামরাঙ্গীরচরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ আছে। গত ১০ মে সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ আমরা সব লাইন কেটে দিয়েছি জানিয়ে কামরাঙ্গীর চর জোনের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা বলেন, ওই এলাকায় গ্যাসের বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য বারবার তাগাদা দিয়েও কাজ হয়নি।

এদিকে অবৈধ সংযোগ কেটে দিয়েও কাজ হচ্ছে না। কেটে দিলেই পরদিন আবার তা স্থাপন করে ফেলছে। তিতাসের লোক দিয়ে নয়, স্থানীয় মিস্ত্রি দিয়েই লাইন বসিয়ে ফেলে। বৈধ গ্রাহকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অবৈধ গ্রাহক সেখানে।

তারা জানান, আমরা আশাকরি অতিদ্রুত গ্যাস সংযোগ স্থাপন করে আমাদেরকে এ চরম ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ দিবে তিতাস গ্যাস। আমরা বউ-বাচ্চা নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছি।

ঠিকমতো খাবার খেতে না পেরে শিশু, নারী ও বৃদ্ধারা ক্রমশঃ হয়ে গেছে অসুস্থ। আমরা তিতাসের প্রতি অনুরোধ করছি, আপাতত তাদের বকেয়া টাকা আদায়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বকেয়া গ্যাস বিলের অভিযুক্ত বাসিন্দাদের আরো কিছুদিন সময় দিয়ে সহযোগিতা করবেন। তাহলেই, বাসিন্দারা এ ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ পাবেন।

স/এষ্