সুমনের ৪ রঙের চায়ের খ্যাতি এখন সর্বত্র
খালিদ হোসেন মিলু বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি : হরেক রঙের বাহারে, সকাল হল আহারে/চুলার পাড় উড়ছে ধোঁয়া, এক কাপ চা…!’ সেই সাথে বাজতে থাকে কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই – কোথায় হারিয়ে গেল সোনালি সেই বিকেল গুলো আজ আর নেই।
এমন গানের সঙ্গে এক কাপ ধোঁয়া উঠা গরম চা হলে কেমন হয়? চা পান করে না এমন মানুষ বিরল। সারাদিনের আড্ডা, মিটিং কিংবা খুব মন খারাপেও চা হলো নিত্যসঙ্গী।
গানে কফি হাউজের আড্ডাবাজ মানুষ গুলো আজ না থাকলেও কিন্তু এখানে প্রতিনিয়ত জমে উঠে চায়ের জমকালো আড্ডা।
সুমন কফি এ্যান্ড ট্রি ষ্টল। স্থানীয় ভাবে আবার অনেকে রঙিলা চা ঘর নামেও পরিচিত। দোকানের নামের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক ধরণের মাধুর্য। আর এই দোকানেই পাওয়া যায় উত্তর বঙ্গের বিখ্যাত ৪ রঙের চা’।
এক কাপ চায়ের মধ্য ৪টি স্থরে ৪রং নিয়ে এই ফোর কালার ট্টি। প্রতিটি স্থরে আলাদা রঙ ও স্বাদ। এছাড়া এখানে বিভিন্ন ধরনের চা পাওয়া যায়।
গ্রীন চা, ব্লাক চা, লেবু, আদা ,দুধ মিশ্রনেই তৈরী হয় এই চা। চার রঙের চায়ের মধ্যে কোনো কেমিক্যাল নেই। চায়ের চারটা রং পরিস্কার বোঝা যায়। এই চা নিয়ে লোকমুখে নানা গল্প শোনা যায়, তবে আমরা জানবো এই চায়ের আসল রহস্য।
চীন দেশ হলো চায়ের আদি জন্মভূমি। গ্রিকদেবী থিয়ার নামানুসারে চায়ের নামকরণ করা হয়েছিল। চীনে ‘টি’-এর উচ্চারণ ছিল ‘চি’। পরে সেটা হয়ে যায় ‘চা’। পানির পরেই বিশ্বের সর্বাধিক উপভোগ্য পানীয় হলো চা।
চায়ের কাপে তুফান তুলতে বাঙালির জুড়ি মেলা ভার। তবে এ দেশের মানুষকে চায়ের অভ্যাস শিখিয়েছিল ইংরেজরা। রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে হোক কিংবা বাড়িতে গল্পের বইয়ে ডুবে থেকেই হোক, এক কাপ চা মন ভালো করে দেয় নিমিষেই। সঙ্গে শরীর রাখে চাঙ্গা।
বাহারি রঙ এবং নানা ধরনের চা প্রথমে সিলেটের নীলকণ্ঠ চা কেবিন তৈরি হতো কালক্রমে এই কালার ট্রি এখন দেশের বিভিন্ন
এলাকায় পাওয়া যায়।
ফোর কালার ট্রি এর রহস্য জানতে অনেকের মধ্য কৌতূহল জাগে।
উত্তরা অঞ্চলের বরেন্দ্রভূমি খ্যাত নওগাঁ জেলার নিভৃত পল্লী বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্র ভান্ডারপুর।
ভান্ডারপুর বাজারে কাঁচাবাজার পট্টির উত্তর পাশে সেডের আটচালার নিচে সৌখিন যুবক সুমনের সুমন ট্রি ষ্টল। চা প্রেমীদের দেওয়া নাম রঙিলা চা ঘর। এখানে সকাল থেকে রাত অবধি চা প্রেমীদের আনাগো চোখে পড়ার মত। বাহারি রঙের হরেক প্রকার চায়ের স্বাদ নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে চা প্রেমীরা এসে ভিড় জমায়।
উপজেলার কোলা ইউনিয়নের ভান্ডারপুর গ্রামের উত্তর পাড়ার মোসলিম উদ্দিন এর ছেলে সুমন।বাবার অভাবের সংসারে তেমন বেশি লেখাপড়ার সুযোগ হয়নি সুমনের। বাবা-মা,স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়েই সুমনের পরিবার। বাবার সংসারের হাল ধরতেই সুমন বাধ্য হয়েই এ পেশায় নিজের নাম লিখিয়েছেন।
আজ থেকে ১৬ বছর আগে ২০০৬ সালে শুরু করেন চায়ের দোকান।চা বিক্রেতা সুমনের উদ্যোক্তা হওয়ার শুরুতে সামান্য কিছু টাকা নিয়ে শুরু হয় এই ব্যবসা।
শুরুতে চা বিক্রি কম হলেও বর্তমানে সুমনের ফোর কালার ট্টি জনপ্রিয় হয়ে উঠায় এখন প্রতিদিন ৫ থেকে ৬হাজার টাকা চা বিক্রি হয়। চা বিক্রির টাকা দিয়ে সুমনের পরিবারে ফিরেছে স্বচ্ছলতা।
সুমনের চায়ের দোকানে বাহারি রঙের বিভিন্ন প্রকার চা তৈরী হয়। লাল চা,দুধচা, মসলা ছাড়া লাল চা,হারবাল চা,ব্লাক কফি,কোল্ড কফি,গ্রীণ ট্রি, মালাই চা, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার ফাস্টফুড সহ বিভিন্ন প্রকার চা তৈরী হয়।
তার দোকানে নিজের হাতে তৈরি ‘ফোর কালার ট্রি ‘৪রঙের চায়ের খ্যাতি উত্তরবঙ্গ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
এক কাপ চায়ের মধ্য চারটি স্থরে ৪টি রং প্রতিটি স্থরে আলাদা স্বাদ ও ঘ্রাণ রয়েছে। দুধ, দুধচা, কফি,লাল চা এবং লিকার এর মিশ্রণে তৈরী হয় এই বিশেষ ধরনের বাহারি রঙের নানান স্বাদের চা সুমন ৪কালার ট্রি। তার দোকানের চায়ের প্রকার ভেদে আলাদা মূল্যে নির্ধারণ করেছেন।
লাল চা-৫টাকা, দুধচা-১০টা,ফোর কালার চা ২০টাকা থেকে শুরু করে ৩০টাকা পর্যন্ত চায়ের দাম হয়ে থাকে।
ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকা থেকে সুমন ট্রি ষ্টোল এ্যান্ড কফি হাউজে চা পান করতে এসে ভিড় করে বিভিন্ন বয়সের মানুষ।
স/এষ্

