সড়কে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, কাজ বন্ধের নির্দেশ
ময়মনসিংহ ব্যুরো প্রধান শেখ বিপ্লব –
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের রায়গঞ্জ বাজার থেকে চরঘোড়ামারা চৌরাস্তা পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়কে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে গৌরীপুর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়।
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আইআরআইডিপি প্রকল্পের আওতায় ৮৪ লাখ ১৬ হাজার ৫৯৯ টাকা ব্যয়ে রায়গঞ্জ বাজার থেকে চরঘোড়ামারা চৌরাস্তা পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়কের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে গত বছর পহেলা ডিসেম্বর। চলতি বছরের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো। দশ ফুট প্রস্থের এই সড়কের নিচে প্রথমে ১০ ইঞ্চি বালু, ৬ ইঞ্চি বালু-সুড়কির মিশ্রণ ও শেষে ৬ ইঞ্চি সলিড সুরকি দেয়ার কথা। সবশেষে ৩ ইঞ্চি কার্পেটিং। কাজটি বাস্তবায়ন করছে পার্শ্ববর্তী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পিএইচ এন্টারপ্রাইজ।

সরেজমিনে দেখা যায়, বালুর পরিবর্তে দেয়া হয়েছে ভিটবালু ও রাবিশ মিশ্রিত নিম্নমানের খোয়া। এছাড়াও পুরো কাজে ব্যবহার করা হয়েছে তিন নম্বর ইট।
সিংজানি গ্রামের মদিনা আক্তার বলেন- সড়কটি আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে গেছে, শুরু থেকেই দেখছি একেবারে খারাপ বালু ও খোয়া দিচ্ছে, দুই মাসও টিকবে না এ সড়ক।
চরঘোরামারা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব্দুল মান্নান বলেন- আমাদের দীর্ঘদিনের দাবী ছিল এই সড়কটি পাকা করণের। কিন্তু এমন বাজে কাজ জীবনে দেখি নাই। সড়কে নিম্নমানের ইট, বালু, সুরকি ব্যবহার করছে ঠিকাদার।
রায়গঞ্জ গ্রামের আব্দুল হান্নান বলেন- ঠিকাদার কোন নিয়মকানুন মানে না, সড়কের মাপ সঠিক নেই, মালামাল খুব নিম্নমানের। এছাড়া রাতের আঁধারে কাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
পিএইচ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আল আমিন উপজেলা প্রকৌশলীর নির্দেশে কাজ বন্ধের কথা স্বীকার করে বলেন- একগাড়ি নিম্নমানের মাল চলে গেছিল, পরে তা ফেরত নেয়া হয়েছে। তবে পানি দিলেই এগুলো ঠিক হয়ে যেতো।
গৌরীপুর উপজেলা প্রকৌশলী অসিত বর্মন দেব বলেন- সড়কটিতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি জানার পর ঠিকাদারকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
স/বি

