ঢাকাবুধবার , ২৪ আগস্ট ২০২২
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

সংকট কাটাতে সচেষ্ট সরকার, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নতুন সিদ্ধান্ত

চমক নিউজ বার্তা কক্ষ
আগস্ট ২৪, ২০২২ ৯:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংকট কাটাতে সচেষ্ট সরকার, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নতুন সিদ্ধান্ত

বিশেষ প্রতিনিধি : চলমান সংকট মোকাবেলা করে দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানতে, কৃষিজ উৎপাদন অব্যহত রাখতে, শিল্প কারখানা সচল রাখতে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে আরও বেশ কয়েকটি নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের চেষ্টায় সরকারি ও সায়ত্তশাসিত অফিসের কর্মঘন্টা কমানো এবং ব্যাংকের সময়সূচি বদল করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও দুদিন বন্ধ রাখার নির্দেশনা এসেছে।

কৃষিজ উৎপাদন যাতে বাধাগ্রস্থ না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে সেচ সুবিধার জন্য মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত গ্রামে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাকে কীভাবে আরও কার্যকরী করা যায় সেটা নিয়েও আলোচনা হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন সরকার সংশ্লিষ্টরা।

রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। যার প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। জ্বালানি তেলের দাম একলাফে প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়েও সংকট দেখা দেয়। জ¦ালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকে দ্রব্যমূল্য। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে গত ১৮ জুলাই এলাকাভিত্তিকভাবে এক ঘন্টা লোডশেডিং, প্রতিটি মসজিদের এসি নামাজের সময় ছাড়া অন্য সময় বন্ধ রাখা, দোকানপাট ও মার্কেট রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ, গাড়িতে তেলের ব্যবহার কমানো, ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখাসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার।

এর আগে গত ৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সবগুলো বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার প্রধান এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেছিলেন, জ্বালানির দাম বাড়ায় ভর্তুকির যে চাপ তৈরি হয়েছে, তাতে একমাত্র বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার মাধ্যমেই পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করা সম্ভব।

ওই বৈঠক থেকেই সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের অফিস-আদালতে কিংবা বাসায় এসি ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে রাখা, আলোকসজ্জা না করা, বিয়ে বা অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শেষ করা, বাজার, মসজিদ, শপিংমলে বিদ্যুতের ব্যবহার কমিয়ে আনা, যে কোনো রাতের অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শেষ করার সুপারিশ করা হয়। সেসব সুপারিশ করার দেড় মাস পর অফিস ও ব্যাংকের কাজের সূচি বদলের সরকারি ঘোষণা এল।

কর্মঘণ্টা কমে বদলে গেল অফিস সূচি:

সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী আগামীকাল বুধবার থেকে সকল সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস খোলা থাকবে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। এতদিন সরকারি কর্মীরা অফিস করতেন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা।
গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের সামনে সভার সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন।

ব্যাংক চলবে ৯টা-৪টা:
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী বুধবার থেকে ব্যাংকের কাজ চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। এতদিন ব্যাংকের দাপ্তরিক কাজের সময় ছিল সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
বুধবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এটার দুইটা সুবিধা। একটা হল বিদ্যুতের সাশ্রয় হবে, আর ট্রাফিক জ্যামটাও একটু ডিস্ট্রিবিউটেড হয়ে যাবে।’

অফিসে পর্দা থাকবে না, কমাতে হবে এসির ব্যবহার:
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরও কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, ‘সরকারি অফিসগুলোতে বিদ্যুত সাশ্রয়ে কোথাও কোনো পর্দা টানানো থাকবে না। লাইট যথাসম্ভব কম লাগিয়ে কাজ করতে হবে। এয়ার কুলারও যথাসম্ভব কম ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি এখন দুদিন:
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি এখন থেকে দুদিন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় গতকালের মন্ত্রিসভার বৈঠকে। বর্তমানে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কেউ কেউ সপ্তাহে দুদিন ছুটি রাখে। তবে সরকারি সিদ্ধান্ত হলো সাপ্তাহিক ছুটি এক দিন। তাই দেশের সরকারি স্কুল-কলেজগুলোতে সপ্তাহে এক দিন ছুটির নিয়মই মানা হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী বছর থেকে সাপ্তাহিক ছুটি দুদিন হওয়ার ঘোষণা ছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এ ছুটি এ মুহূর্তে দুদিন হওয়ার চিন্তাভাবনা হচ্ছে বলে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে দুদিন বন্ধের সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আনোয়ারুল ইসলাম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে সপ্তাহে দুদিন বন্ধ থাকবে। তবে কোন দুদিন বন্ধ থাকবে সেটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঠিক করে জানিয়ে দেবে।
পরবর্তীতে মঙ্গলবার বিকালেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুক্র ও শনিবার বন্ধ থাকবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাইফুর রহমান খানের সই করা অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রামে মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ:
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পদক্ষেপে দেশে লোড শেডিং ফিরে আসায় চলতি আমন মৌসুমে সেচ দিতে সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। এমন অবস্থায় সেচের সুবিধা নিশ্চিতে গ্রামে মধ্য রাত থেকে ভোর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে (আরইবি) নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নানা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে এমন সিদ্ধান্তটিও আসে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী ১০ থেকে ১৫ দিন যাতে গ্রাম এলাকাতে মধ্য রাত থেকে ভোর পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। যাতে ওই সময়টায় সেচে কোন ব্যাঘাত না ঘটে। কারণ ওটা পিকআওয়ার। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত আনইটারেকটিভ ইরিগেশন (সেচ) যাতে এনশিওর করা যায়, সে জন্য আরইবিকে যতটুকু সম্ভব বিদ্যুৎ সাপ্লাই নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।’
এই প্রসঙ্গে সারা বিশ্বে পানি সংটের কথা তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয়ই জানেন আর রিপোর্ট দেখে এসেছেন যে গত জুলাই মাসে যে বৃষ্টি হয়েছে, সেটা কিন্তু গত বছরের জুলাই মাসের তুলনায় ৫৭ শতাংশ কম। সারা পৃথিবীতেই কিন্তু খরা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে।’

শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত:
এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, সেই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
তিনি বলেন, ‘সভায় বিবিধ বিষয়ে আরও দুই-তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। একটি হলো বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাটাকে কীভাবে আরও ইফেকটিভ করা যার এর মধ্যেই। ইনস্ট্যান্টলি তো বাড়ানো সম্ভব হবে না। সে জন্য আলোচনা হয়েছে কতগুলো, যেগুলো আমাদের খুবই ইম্পারেটিভ (গুরুত্বপূর্ণ)। ইন্ডাস্ট্রিগুলো (শিল্প) যাতে ডিস্পারেট (বাধাগ্রস্ত) না হয়। যেমন ফার্টিলাইজার প্রোডাক্টশন। ফার্টিলাইজার ইন্ডাস্ট্রিগুলো যদি বন্ধ করতে হয়, তাহলে এটা আবার চালু করতে লম্বা সময় লাগে।’

সিটি করপোরেশনের নতুন নির্দেশনা:
এদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কোন ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রাত ক’টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে, তা ঠিক করে দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাত ১০টায় রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকান বন্ধ করে দিতে হবে। সিনেমা হলসহ সব ধরনের বিনোদনমূলক প্রতিষ্ঠান রাত ১১টার পর আর খোলা রাখা যাবে না। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হবে জানিয়ে গতকাল একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের।
এতে জানানো হয়, রেস্তোরাঁ ও খাবার দোকানের রান্নাঘর বন্ধ হবে রাত ১০টায়, তবে খাবার সরবরাহ কাজের শেষ সময় রাত ১১টা। প্রেক্ষাগৃহসহ বিনোদনমূলক প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনা খোলা থাকবে রাত ১১টা পর্যন্ত। সাধারণ ওষুধের দোকান রাত ১২টা পর্যন্ত এবং হাসপাতালের সঙ্গে সংযুক্ত নিজস্ব ওষুধের দোকান রাত ২টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এছাড়া রাত ৮টার মধ্যে সব দোকান পাট, শপিংমল, মার্কেট ও বিপণি বিতান বন্ধ করতে হবে। কাঁচাবাজার, ব্যবসায়িক বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা রাত ১০টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে।

স/এষ্