শুভ নববর্ষ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ- কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন যুবরাজ
মোল্লা তানিয়া ইসলাম তমাঃ “নিশি অবসানপ্রায়, ওই পুরাতন বর্ষ হয় গত! আমি আজি ধূলিতলে এ জীর্ণ জীবন করিলাম নত। বন্ধু হও, শত্রু হও, যেখানে যে কেহ রও, ক্ষমা করো আজিকার মতো পুরাতন বর্ষের সাথে, পুরাতন অপরাধ যত।”- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।।
“তোরা সব জয়ধ্বনি কর! তোরা সব জয়ধ্বনি কর!
ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখির ঝড় তোরা সব জয়ধ্বনি কর”!! – কাজী নজরুল ইসলাম ।। পহেলা বৈশাখ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন, তথা বাংলা নববর্ষ। দিনটি সকল বাঙালি জাতির ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের দিন ।
পহেলা বৈশাখ বাংলাদেশে জাতীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে থাকে । বঙ্গাব্দের সূচনা নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ বা ধারণা প্রচলিত আছে। কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক হল নববর্ষ । স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশায় তথা সুখ,শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে এলাকাবাসী তথা দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৫৪নং ওয়ার্ডের জননন্দিত কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন যুবরাজ ।
শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, নববর্ষ আসে তারুণ্যের আলোকিত প্রদীপ হাতে নিয়ে । ইহা নির্মল আনন্দের উৎসধারা – আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে চলার প্রেরণা । এটি বাঙালির সার্বজনীন লোকউৎসব । এই দিনটি আমাদের কাছে মুক্তির বার্তা নিয়ে আসে । মুক্তি হলো প্রাত্যহিকতার জীর্ণ জীবন থেকে, মুক্তি হলো প্রতিদিনের ক্ষুদ্র ও আত্মসর্বস্ব জীবনের গণ্ডি থেকে, মুক্তি হলো চিত্তের দীনতা ও হতাশা থেকে । এই দিন আমাদের কাছে পরম আশ্বাসের ও পরম প্রার্থনার । কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন যুবরাজ আরও বলেন, এই পুণ্য দিনে আমরা লাভ করি এক মহাজীবনের উদার সান্নিধ্য ।
বর্ষারম্ভের পুণ্য মুহূর্তে নবোদিত সূর্যের আলোর ঝরনা ধারায় আমরা শুচিত হয়ে অনুভব করি পরম প্রেমময়ের আনন্দ স্পর্শ । আমাদের স্বার্থপরতা ও ক্ষুদ্রতার গন্ডি পেরিয়ে আমরা এই দিনে মিলনের উদার উৎসব প্রাঙ্গণে এসে সম্মিলিত হই ।
আমাদের জাতীয় চেতনা বা বাঙালি সত্তা তথা বাঙালি সমাজ-সংস্কৃতির অস্থিমজ্জার সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে বাংলা নববর্ষ । নববর্ষ অনবদ্য আনন্দের এক মিলনোৎসব – এটি অখণ্ড বাঙালি জাতির তথা অবিছিন্ন সত্তার উৎসব । এটি আমাদের অতীত ঐতিহ্যকে জাগ্রত করে, বর্তমানের মূল্যায়ন ঘটায়, জাতির আগামী দিনের রুপ রেখার দিক নির্দেশনা দেয় । নববর্ষ আমাদের গৌরব । এই দিনে অনাগত দিনের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার জন্য জাতি নিজেকে প্রস্তুত করে । নববর্ষ সকল মানুষের কাছে নতুন জীবনের দ্বার উন্মোচিত করে ।
এই দিনে ক্ষুদ্রতা ও সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে আমরা কামনা করি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের । কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন যুবরাজ আরও বলেন, নববর্ষ মানুষের কাছে নব জীবনের দ্বার উন্মোচিত করুক । নববর্ষে আমরাও যেন বিশ্বকবির আহ্বানে সাড়া দিয়ে বলি – “নব আনন্দে জাগো আজি নব রবিকিরনে, শুভ্র সুন্দর প্রীতি উজ্জ্বল নির্মল জীবনে” । সকল অশুভ শক্তিকে পেছনে ফেলে নতুন দিনের শুভ সূচনা হোক, জাতি খুঁজে নিক নতুন মুক্তির দিশারী ।
নববর্ষ উদযাপনের মধ্য দিয়ে বাঙালির বাঙালিত্ব বিশ্বাসত্ব হোক, বাঙালি সংস্কৃতি মর্যাদা পাক বিশ্বের দরবারে । আপন আত্মা ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধির দিকে বাঙালি যত্নবান হয়ে উঠুক । নববর্ষে বাঙালিত্ব এবং বাঙালি সংস্কৃতির পবিত্র উদযাপনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জীবনের সকল অন্ধকার দূরীভ‚ত হয়ে নতুন বছর ভরে উঠুক নতুন জীবনের আশার আলোয় ।
আসুন, পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে আমরা আমাদের মধ্যকার সকল বিভেদ ও দ্বিধা দূর করতে সচেষ্ট হই । আমরা জাগ্রত হই অখণ্ড জাতীয় চেতনায় – আমরা আবদ্ধ হই আগামীর গর্বিত প্রেরণায়।

