শীতের পোষাক তৈরিতে কারখানাগুলোতে বেড়েছে ব্যস্ততা
এম এম রহমান,মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জে শীত মৌসুমকে সামনে রেখে জেলা সদরে গড়ে ওঠা ক্ষুদ্র পোষাক তৈরি কারখানাগুলোতে শীতের পোষাক বা শীতবস্ত্র তৈরিতে শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। দীর্ঘদিনের লকডাউনে বন্ধ থাকার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সদর উপজেলার মিরকাদিম, রামপাল এবং পঞ্চসার ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা প্রায় ৪ শতাধিক মিনি গার্মেন্টস মালিকরা এখন শীতের পোষাক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বছরে দুটি ঈদ, শীত এবং গরমের উপর নির্ভর করে রাজধানী ঢাকা থেকে কাপড়সহ অন্যান্য কাঁচামাল এনে পোষাক তৈরী করেন এসব ক্ষুদ্র পোষাক শিল্পের সাথে জড়িতরা। শীত আসার পুর্বেই বাজারে পোষাক পৌছে দেয়ার লক্ষে পোষাক উৎপাদনে মনোযোগী হন পোষাক তৈরি শিল্পের শ্রমিকরা।
জানাগেছে, কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের দিয়ে পোষাকগুলোতে নানা ধরনের ডিজাইন আর সেলাই মেশিন দিয়ে সেলাই এবং হাতের কাজ করা হয়। কোন কোন মিনি গার্মেন্সে সানি স্টার কম্পিউটার মেশিনের মাধ্যমে বাচ্চাদের আকর্শনীয় ডিজাইনের জামা তৈরী করা হয়।
শীতের মৌসুম চলে আসাতে অধিকাংশ ছোট বড় কারখানাগুলোতে এখন তৈরি হচ্ছে শীতের পোষাক। পোষাক তৈরীর কারখানায় দৈনিক ৬শ থেকে ৭শ টাকা মজুরিতে কাজ করেন।অনেকে আবার প্রোডাকশনের উপর কাজ করছেন। একজন দক্ষ শ্রমিক রাত মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায় আয় করেন।
এসব মিনি কারখানায় তৈরী হওয়া শীতের পোষাক পাঠানো হয় রাজধানী ঢাকার সদরঘাট এবং পার্শবর্তী নারায়নগঞ্জের পাইকারী মার্কেটে।এছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এখানে এসেও পোশাক কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, পোশাক কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা তুঙ্গে। সব বয়সের মানুষের জন্য নানা ধরনের শীতবস্ত্র তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। শিশুদের জন্য বাহারি রঙের সুয়েটার, ছেলেদের জন্য জ্যাকেট থেকে শুরু করে ব্লেজার, মেয়েদের জন্য হাল ফ্যাশনের শীত পোশাক সবই তৈরি হচ্ছে সেখানে- যা ইতিমধ্যে শোভা পাচ্ছে পাইকারি শোরুমে।
প্রতিটি কারখানায় শীত পোশাক তৈরির ধুম লেগেছে। নাওয়া-খাওয়া ভুলে কারিগররা তৈরি করছেন বাহারি ডিজাইনের শীত পোশাক। কেউ সাইজ করে কাটছেন কাপড়। আবার কেউ সেই কাপড় সেলাই করে তৈরি করছেন জ্যাকেট ও ব্লেজারের আকৃতি। অন্য স্থানে করা হচ্ছে ডিজাইনভিত্তিক অ্যাম্ব্রয়ডারির কাজ।
সব শেষে লাগানো হচ্ছে মাপমতো বোতাম ও চেইন। কারখানার সেলাই মেশিনের শব্দ বলে দিচ্ছে কারিগরদের ব্যস্ততা। এসব পোষাক কারখানায় মূলত পোষাক বিক্রির উপর নির্ভর করে শ্রমিকদের মজুরি। শ্রমিকরাও চাহিদা অনুযায়ী পোষাক তৈরী করেছেন। কারখানার মালিকরাও পোষাক প্যাকিটিং করে স্থুপ আঁকারে গোডাউনে জমা করছেন।
একাধিক শ্রমিকের সাথে আলাপকালে তারা জানান, দরজায় কড়া নাড়ছে শীত। এজন্য এখন থেকেই সদর উপজেলার পোশাক পল্লী ব্যস্ত হয়ে উঠেছে শীতবস্ত্র তৈরিতে। বাজার ধরতে বর্তমানে প্যান্ট, রেডিমেট জামাসহ অন্যান্য পোষাক তৈরি বাদ দিয়ে অনেকেই শীত পোশাক তৈরি করছেন। তারা শীত পোশাক তৈরি করে থরে থরে সাজিয়ে রাখছে। শীতের পোশাকের উৎপাদন চাহিদা বেড়ে যাওয়াতে শ্রমিকরাও পাচ্ছেন ভালো মজুরি।
একাধিক পোশাক তৈরির কারখানার মালিক জানান, শীতবস্ত্র সময়মতো মার্কেটে পৌছানোর জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়েছেন। কারখানায় বিভিন্ন ধরনের দেশি-বিদেশি কাপড় দিয়ে শীতবস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে কিনতে শুরু করেছে।
পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে মালিক ও কারিগররা। ইতিমধ্যে পাইকারি দোকানগুলোতে শোভা পাচ্ছে শীতবস্ত্র। তারা আরো বলেন, এবার শীত মৌসুমে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পোশাক পল্লীতে প্রায় ১০ কোটি টাকা বেচাকেনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে শীত যদি একটু বেশি পড়ে, তবে বিক্রি আরও বেড়ে যাবে।
স/অ

