রূপগঞ্জ থানা এলাকায় মুক্তা নামের এক নারীর মৃত্যু রহস্যে ঘেরা, প্রশ্ন হত্যা নাকি আত্মহত্যা?
মোঃ রফিকুল ইসলাম মিঠু ।। গত ৬ই জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার আওতাধীন পাচাইখা টিলাপাড়া মোস্তফা শিকদারের বাড়ি থেকে মুক্তা আক্তার (১৮) নামক এক নারীর লাশ উদ্ধার করেন ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দেলোয়ার। পরবর্তীতে মেয়ের মাকে বাদী করে রুপগজ্ঞ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করেন।
মামলা নং ৬৭ ।নিহত মুক্তা আক্তার এর মা মোসাম্মত পারভীন বেগম (৩৮) স্বামী দেলোয়ার হোসেন দেলু সাং-হাজীপাড়া বাড়ি নাম্বার ৪৪৪ থানা – দক্ষিন খান জেলা ডিএমপি ঢাকা রূপগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে লিখিত দরখাস্ত করেন যে তার বড় মেয়ে মুক্তা আক্তার কে বিগত পাঁচ মাস আগে এনামুল (২১) পিতা – আলাউদ্দিন, মাতা নাসিমা বেগম সাং-মহিষা খালি বর সাধন, থানা ও জেলা কিশোরগঞ্জ এর সাথে বিয়ে দেন।
বিয়ের পর থেকে আমার মেয়ে একটি দিনের জন্যও শান্তিতে দিনাতিপাত করতে পারেননি। গত ৬ ই জুলাই বিকাল ৫ টায় আমার কাছে একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন করে বলা হয় আমার মেয়ে মারা গেছে। এই সংবাদ পেয়ে আমি আমার স্বামী কে নিয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে আমার মেয়ের মৃত দেহ দেখতে পাই। পরবর্তীতে মেয়ে কেন কি কারনে আত্নহত্যা করলো এই ব্যাপারে জানতে চাইলে এস আই দেলোয়ার আমাকে পাগল বলিয়া আখ্যা দেন।
তিনি একটা লেখা কাগজ আমার হাতে দিয়ে বলেন এখানে একটা স্বাক্ষর করেন করে ময়না তদন্ত শেষে মেয়ের লাস নিয়ে যাবেন বলে চলে যান। একটি রাত অতিবাহিত হওয়ার পরে কত ঘুরাঘুরির পর মেয়ের লাস পেয়ে লাস নেয়ার আগে সুরতহাল রিপোর্ট চাইলে তিনি বলেন আমার নাম্বার নিয়ে যান পথে কোন সমস্যা হলে আমাকে ফোন ধরিয়ে দিবেন। ৭ ই জুলাই মেযের লাস নিয়ে আমি ময়মনসিংহ আমার বাবার বাড়িতে নিয়ে দাফন কার্য সম্পাদন করি।
আমার মেয়ের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখমের দাগ রয়েছে। আমার মেয়ে মৃত্যুর ১ ঘন্টা আগে আমার সঙ্গে কথা বলেছে, সে আমার কাছে (মুক্তা) বেড়াতে আসবে বলেছে। এমনকি ঘটনা ঘটেছিল যে আমার মেয়ে আত্নহত্যা করলো। ইতিপূর্বে ও আমি মেয়ের মুখ থেকে অনেক কথা শুনেছি। কয়েকবার আটকে রাখতে চেষ্টা করে ও ব্যার্থ হয়েছি। কারণ মেয়ে মনে করতো নিজের পছন্দ মত বিয়ে করেছি। বাবা মা-কে আর কত কষ্ট দিব।
পারভীন বেগম আরো বলেন, এস আই দেলোয়ার টাকা নিয়ে আমার মেয়ের হত্যাকে আত্নহত্যা বলে আসামিদের বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করছেন। আমার মেয়ের সঙ্গে ধস্তাধস্তি জাবরদস্তি হয়েছিল তার প্রমান ঘরের মেঝে। আরো অনেক ছবিতে দেখাযায় হাটু মেজেতে লেগে আছে। গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আবার দেখেন আমার মেয়ে মারাগেল আমাকে আত্নহত্যা মামলার বাদী বানালো। দারোগার স্বার্থ কি? মারাগেল স্বামীর ঘরে বাদী হলে তারা হবে আমাকে কেন বাদী করলো।
কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন ওনাকে দেখে মনে হয় আরেক আকবর, আরেক নূর হোসেন। আমি এসপি স্যারের কাছে যাব। আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাইবো। তিনি তার মেয়ে জামাই, বেয়াই,বিয়ান,মেয়ের ননস কে জিজ্ঞেস করার জোর দাবী জানান।
তার ভাষ্যমতে মেয়ের শশুর বিভিন্ন সময় তার গায়ে হাত দিত। মেয়ের বাবা দেলুর দাবী আমি সঠিক বিচার চাই। এই বিষয়ে সিভিল সার্জনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি জানাবেন বলে আর জানাননি। রুপগঞ্জ থানার ওসির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন আমি ছুটিতে আছি আগামী রবিবার আসেন কথা হবে।
চলবে…

