রাজশাহীতে শিশু ও বৃদ্ধদের বেড়েছে ডায়েরিয়ার প্রকোপ
মঈন উদ্দীন: বর্ষার মৌসুমেও রাজশাহীতে বৃষ্টি নেই। এ অঞ্চলের তাপমাত্রা ৩৫-৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠা-নামা করছে। ফলে ভ্যাপশা গরমে রাজশাহীর জনজীবন একেবারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তাই তীব্র এই গরমে বরেন্দ্র অঞ্চলে ডায়েরিয়ার প্রকোপ বেড়ে গেছে। এতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে। ভর্তি হওয়া রোগীর অধিকাংশ শিশু ও বৃদ্ধ বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে- চলতি মাসের গত ১৭ দিনে হাসপাতালে ১ হাজার ৩৭২ জন রোগী ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। সোমবার রামেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের আলাদা করে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। ভর্তি হওয়া শিশুদের কেউ কয়েকদিন থেকে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। দ্রুত ডায়েরিয়া নিয়ন্ত্রণে না আসায় বেশ কয়েকদিন ধরেই আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে বাবা-মায়েরা হাসপাতালে বেডে কিংবা মেঝেতে অবস্থান করছেন।
রামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মোহাইমেনুল হক আতিক বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমের কারণে রাজশাহী অঞ্চলে শিশু ও বৃদ্ধরা ডায়েরিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এর অধিকাংশ শিশু রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কারণ রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে এই ডায়েরিয়া থেকে শিশুরা দ্রুত সুস্থ হয় না। আর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুর এমন অবস্থা (সুস্থ হতে সময় লাগছে)।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাজশাহীতে বেশ কিছুদিন থেকে (চলতি মাসে) তাপমাত্রা ৩৫-৪০ ডিগ্রী পর্যন্ত উঠানামা করছে। সেই সূর্য্যরে তাপও বেশ তীব্র। এই সময়ে শিশু কিংবা বয়স্কদেও ডি-হাইড্রেশন ও সান স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই এই গরমে সবাইকে নিয়মিত ব্লাড প্রেসার চেক করার পাশাপাশি মাংসের পরিমাণ একেবারে কমিয়ে দিয়ে ফল ও শাকসবজি বেশি বেশি করে খাওয়া উচিত।’
রামেক হাসপাতালে পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘তীব্র গরমের কারণে রাজশাহী অঞ্চলে ডায়েরিয়ার প্রকোপ একটু বেড়েছে। জায়গার সংকুলানের কারণে অনেক সময় কোনো রোগ মহামারী আকারে দেখা দিলে আমরা চাহিদা অনুযায়ী রোগীদের জায়গা দিতে পারি না। তবে ডায়েরিয়া রোগী বর্তমানে যে পর্যায়ে রয়েছে তাতে চিকিৎসা সেবা দিতে খুব বেশি বেগ পোহাতে হচ্ছে না। ডায়েরিয়ার প্রকোপ আরো বেড়ে গেলেও আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। আশা করছি, চিকিৎসা সেবা প্রদানে তেমন কোনো সমস্যা হবে না।’
স/এষ্

