রাজধানীতে ‘আন্তর্জাতিক নার্স দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা
আব্দুল কাদের সাইফুল : আন্তর্জাতিক নার্স দিবস বিশ্বব্যাপী নার্সদের স্বীকৃতি ও সম্মান প্রদর্শনের দিন হিসেবে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপিত হয়। পাশাপাশি, আধুনিক নার্সিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা লেডি ইউথ দ্য ল্যাম্প খ্যাত ফ্লোরেন্স নাইটঙ্গেল এর ২০২তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। তার জন্মদিন উপলক্ষে বিশাল আকৃতির কেক কর্তন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১২ ই মে) সকালে রাজধানীর মহাখালীর নার্সিং মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরাসহ স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন নার্সিং মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, আজ আন্তর্জাতিক নার্স দিবস। সারাবিশ্বে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। যিনি দিবসটি আবিষ্কার করেছেন আমি তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। নার্সিং পেশা একটি মহৎ পেশা।
সাধারণত, এ পেশায় নারীদেরকে মনোনীত করা হয়। কেননা, নারীরা মায়ের জাত, তাদের প্রতি মমত্ববোধ সবসময় জাগ্রত থাকে। ফ্রন্টলাইনার যোদ্ধা হিসেবে করোনাকালীন সময়ে মোট ৩৫ জন নার্স মৃত্যুবরণ করেছেন। আমরা তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
তিনি বলেন, আপনারা রোগীর সেবা করার সময় মুখ দিয়ে নয়, মন দিয়ে যত্নসহকারে সেবা করবেন। আপনাদের সঠিক সেবায় একজন রোগী অনেকাংশে সুস্থ হয়ে উঠবেন। করোনাকালীন সময়ে আপনাদের অনেক অবদান রয়েছে। এমনকি, বাংলাদেশে প্রথম করোনা টিকা একজন নার্সকে প্রদান করা হয়। যারফলে, তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে অঙ্কিত থাকবেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরা বলেন, নারীরা মায়ের জাত বলেই নার্সিং পেশায় সবসময় বিশ্বব্যাপী নারীদেরকে প্রাধান্য দেয়া হয়। একটা সময় ছিল যখন এ পেশায় গ্রামের মেয়েরা যুক্ত হতে থাকলেন। তখন অনেকেই তাদেরকে নিয়ে সমালোচনা করতে লাগলেন। কিন্তু, আস্তে আস্তে বর্তমানে সেই ধ্যান-ধারণা মানুষের দূর হয়ে গেছে। বাংলাদেশের যে কোন হাসপাতালে রোগীর সেবা প্রদানের জন্য প্রথমেই ভাবা হয় এ নার্সকে।
তিনি বলেন, যদি কখনো কোনো নার্সকে অন্যত্র বদলি করা হয়। তখন অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ আপনারা যেন তাদের স্ব স্ব অভিজ্ঞতায় নির্দিষ্ট জায়গায় বদলি করবেন। তাহলে, সেই নার্স তার প্রশিক্ষিত বিষয়ের উপর রোগীদেরকে ভালো করে সেবা দিতে পারবেন। এমনকি, বদলি করার আগে তার নির্দিষ্ট জায়গায় বেশ কয়েক বছর কাজ করার সুযোগ দেবেন বলেও আমি বিশ্বাস করি।
সমাপনী বক্তব্যে নার্সিং মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার বলেন, আন্তর্জাতিক নার্সিং ২০২২ উদযাপন সফলভাবে করতে পেরে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। এ ধরনের একটি বিশাল আয়োজন সফল করে তোলার জন্য আপনাদের সকলের সহযোগিতায় এগিয়েছে বলে, আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আমাকে যারা অনুষ্ঠান সফল করতে সহায়তা করেছেন বিশেষ করে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্মকর্তাগণ, নার্সিং মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ, সাংবাদিকবৃন্দ সর্বোপরি, বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে আগত নার্সগণ আপনাদের সকলের প্রতি আবারও শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইল।
তিনি বলেন, বিদেশে যে কোন রাষ্ট্রে মেধার ভিত্তিতে যদি নার্স নিয়োগ দেয়া হয়। সেক্ষেত্রে, আমি মনে করি আমাদের নার্সরাও সেসব জায়গায় যুক্ত হতে যোগ্য রয়েছেন। আমি স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, আপনারা আমাদের নার্সদেরকে মেধার ভিত্তিতে বিশ্বের ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ করে দেবেন বলে বিশ্বাস করি। এতে করে তারা আমাদের মুখ উজ্জ্বল করবেন বলে বিশ্বাস করি আমি।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নিতীশ চন্দ্র সরকার, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ এ কে এম আমিরুল মোরশেদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডাঃ বর্ধন জং রানা, অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ ও নার্সগণ।
স/এষ্

