মুন্সীগঞ্জে হত্যা মামলায় সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কারাগারে
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি ।। মুন্সীগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয়া রিয়াজুল ফরাজি হত্যা মামলায় মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. নাজমুল হাসান সোহেল (৩৬) কে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আজ মঙ্গলবার সকালে রিয়াজুল ফরাজি হত্যা মামলায় ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব- ইন্সপেক্টর এনামুল হক মন্ডল।
মুন্সীগঞ্জ আমলী-১ আদালতে আসামীকে উঠানো হলে উক্ত আদালতের সিনিয়র সহকারি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইউসুফ মামলাটির শুনানী জন্য আগামী ২৫ আগস্ট দিন ধার্য করেন এবং আসামী সোহেলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুন্সীগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দিন। সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের নুরু মিয়ার পুত্র। এর আগে গত সোমবার বিকেলে মালয়েশিয়া পালানোর জন্য নাজমুল হাসান সোহেল ভিসা ইস্যু করতে রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টনে একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে যান।
এদিকে শিক্ষার্থীদের উপর আক্রমনের ভিডিও সামজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিও দেখে ছাত্র সমাজ তাকে চিনে ফেলে এবং আটক করে নারায়নগঞ্জের শহীদ মিনারে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে র্যাবের একটি টিম সোহেলকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জে দায়িত্বরত সেনাবাহিনীর কাছে তুলে দেন। এরপর রিয়াজুল ফরাজি হত্যা মামলার এজাহার ভুক্ত ৩৫ নং আসামী সোহেলকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
উল্লেখ্য- মুন্সীগঞ্জে গত ৪ আগস্ট সকাল ১০ টার দিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র জনতার ওপর হামলা চালায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ সহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় হামলাকারীরা ছাত্র জনতার ওপর গুলি বর্ষন এবং শত শত ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাস সৃস্টি করেন। লাঠি, লোহার রড, হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে শত শত নিরস্ত্র ছাত্র জনতাকে গুরুতর আহত করেন। তাদের এই হামলায় একাধিক সাংবাদিকও ছাড় পায়নি।
সংষর্ঘের সময় ভিডিও করায় অনেক সংবাদ কর্মী মারধরের শিকার হয়েছেন। বহু সাংবাদিককে আওয়ামী লীগের স্বস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়ার পাশাপাশি ভিডিও করতে বাঁধা প্রদান করেন। শুধু তাই নয়, আহত শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে গেলে সেখানেও আওয়ামী লীগ ও ছাত্র লীগের বর্বোরোচিত হামলার শিকার হন। অনেক আহত শিক্ষার্থী তাদের কারণে যথা সময়ে হাসপাতালে গিয়েও চিকিৎসাসেবা নিতে পারেনি।
এমনটাই জানিয়েছেন প্রত্যাক্ষদর্শী এবং উপস্থিত স্থানীয় লোকজন। শান্তি প্রিয় মুন্সীগঞ্জে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছিলেন। নিরস্ত্র ছাত্র- জনতার ওপর এমন নেক্কারজনক হামলার ঘটনায় সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ছাত্র আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় মুন্সীগঞ্জ শহরের উত্তর ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজুল ফরাজি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
এছাড়াও আরোও ২ জন ব্যক্তি নিহত এবং শতাধিক শিক্ষার্থী ও ছাত্র-জনতা আহত হন। রিয়াজুল হত্যা মামলার ঘটনায় তার স্ত্রী রুমা বেগম বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
স/বি

