মুন্সীগঞ্জে স্বাধীনতার ৫১ বছরেও গাড়ীতে চড়ার স্বপ্ন পূরন হয়নি যাদের
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের মেঘনা নদী তীরবর্তী বকচর ও চর আব্দুল্লাহ গ্রামের অভ্যন্তরিত সড়কগুলো যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হয়নি। ফলে স্বাধীনতার ৫১ বছরেও এই দুইটি গ্রামের হাজারো জনগোষ্টির গাড়ীতে চড়ে যাতায়াতের স্বপ্ন আজও পূরণ হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা।
তারা জানান,স্বাধীনতার বহু বছর আগে থেকে মেঘনা নদীর তীরে সিকদারকান্দি, বকচর ও চর আব্দুল্লাহ গ্রামে বসবাসকারী বাসিন্দারা যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। গ্রামগুলো সড়ক পথে ইউনিয়নের পশ্চিমাংশের অন্যান্য গ্রাম থেকে বিচ্ছিন্ন। এসব গ্রামের লোকজন বহু বছর আগে থেকে সরাসরি ট্রলারযোগে মুন্সীরহাট হয়ে জেলা সদরে যাতায়াত করিত।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পার্শবর্তী চরকেওয়ার ইউনিয়নের বর্ষার চর এলাকায় একাধিক ব্রিজ নির্মাণ আর রাস্তাঘাট হওয়াতে জাজিরা, সৈয়দপুর, সিকদারকান্দি, বকচর এর লোকজন সড়ক পথে চরমশুরা হয়ে জেলা সদরে যাতায়াত করেন।
সৈয়দপুর মিনাবাজার হতে সিকদারকান্দি গ্রাম হয়ে দক্ষিন দিকে বকচর ও চর আব্দুল্লাহ গ্রামের শেষ সীমানা পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘের কাঁচা মাটির সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু কাঁচা মাটির রাস্তাটি পাকা করে যান চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়নি বলে দুইটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার জনগোষ্টিকে ঘর থেকে বের হলেই হাঁটতে হচ্ছে মাইলের পর মাইল রাস্তা। ট্রলারযোগে রজতরেখা নদী পাড়ি দিয়ে চিতলিয়া বাজার হয়ে জেলা সদরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাজিরা বর্ষারচর নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণ হওয়ার কারণে চরকেওয়ার ইউনিয়নের চরমশুরা হয়ে এখন জাজিরা, সৈয়দপুরের মানুষ মিনাবাজার হয়ে জেলা সদরে যাতায়াত করছেন। কিন্তু মিনাবাজার হতে বকচর ও চর আব্দুল্লাহ পর্যন্ত দীর্ঘ ৫ কিলোমিটার কাঁচা মাটির সড়কে চলেনা কোন যানবাহন।
এতে করে বকচর গ্রামের মানুষ পায়ে হেঁটে মিনাবাজার হয়ে জেলা সদরে যাতায়াত করেন। চর আব্দুল্লাহ গ্রামের মানুষ দীর্ঘ পথ হাঁটার ভোগান্তি এড়াতে আগের মতোই ট্রলারযোগে নদী পাড়ি দিয়ে চিতলিয়াবাজার হয়ে জেলা সদরে যাতায়াত করছেন। বকচর ও চর আব্দুল্লাহ গ্রামের অভ্যন্তরিন সড়কগুলোতে অটো রিক্সা চলাচলের উপযোগী কোন রাস্তা নেই। কাঁচা মাটির রাস্তা থাকলেও সেখানে কোন অটো মিশুক চলেনা।
বাধ্য হয়ে গ্রামের হাজার হাজার জনগোষ্টি পায়ে হেঁটে নদীর তীরে গিয়ে ট্রলারযোগে নদী পাড়ি দিয়ে চিতলয়িাবাজার হয়ে জেলা সদরে যাতায়াত করছেন। জেলা সদরে যাতায়াতে চর আব্দুল্লাহ , বকচর হয়ে জাজিরা পর্যন্ত সড়কটি পাকা করে সেই সড়কটিতে যদি যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে তোলা হতো তাহলে গ্রামবাসীদের বহু বছরের যাতায়াত ভোগান্তির অবসান হতো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একের পর এর সরকারের পালাবদল হলেও চিতলিয়া বাজার এলাকায় রজতরেখা নদীর উপর কোন ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। যার ফলে নদীর পূর্ব তীরের গ্রাম সৈয়দপুর, জাজিরা, বকচর এবং চরআব্দুল্লাহ গ্রামের লোকজন এখনও নদী পথে সারাবছর ট্রলারযোগে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বকচর ও চর আব্দুল্লাহ গ্রামে স্বাধীনতার ৫০ বছরেও গড়ে উঠেনি আধুনিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। ফলে এখনও হাজারো জনগোষ্টিকে নদী পাড়ি দেয়ার পাশাপাশি হাঁটতে হচ্ছে মাইলের পর মাইল রাস্তা।
স্থানীয় মুরুব্বি আবুল দেওয়ান জানান, চর আব্দুল্লাহবাসী বছরের পর বছর ধরে নদী পাড়ি দিয়ে চিতলিয়া বাজারে যাতায়াত করে আসছে। নদী পারাপারে ভোগান্তিটা তেমন কিছুনা। চর আব্দুল্লাহ গ্রামের উত্তর প্রান্ত থেকে দক্ষিন প্রান্ত পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার কাঁচা মাটির রাস্তা।
যদি বকচর হয়ে সড়ক পথে শহরে যেতে চাই তাহলে ৫ কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেঁটে সৈয়দপুর মিনাবাজারে গিয়ে গাড়ীতে উঠতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, দুইটি গ্রামের অভ্যন্তরিন কাঁচা মাটির রাস্তাগুলো পাকা করলে এখানে মানুষ গাড়ীতে চলাচল করতে পারতো।
এলাকার বেকার লোকজন অটো মিশুক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। মানুষেরও বহু বছরের যাতায়াত ভোগান্তির অবসান হতো। পাশাপাশি রজতরেখা নদী পারাপারের ভোগান্তি থেকেও মুক্তি মিলতো। দ্রুত সময়ে চর আব্দুল্লাহ হতে মিনাবাজার পর্যন্ত সড়কটি পাকা করনের দাবি জানাচ্ছি।
বকচর গ্রামের বাসিন্দা মো. সেলিম জানান, আগের দিনে ট্রলারযোগে মুন্সীরহাট হয়ে শহরে যাইতাম। হাটবাজার করার দরকার হলে মুন্সীরহাট, বাগেরহাট এবং চিতলিয়াবাজারে যাইতাম। তখনকার সময়ে নদী পথই ছিলো যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। বর্তমানে দুইটি গ্রামের ভিতর দিয়ে কাঁচা মাটির সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এই সড়কগুলো পাকা করলে গাড়ীতে চড়ে নদীর তীরে গিয়ে ট্রলারযোগে চিতলিয়া এবং সড়ক পথে মিনাবাজার হয়ে মুন্সীগঞ্জ শহরে যেতে পারতাম।
সচেতর নাগরিকরা বলছেন, রজতরেখা নদীতে ব্রিজ নির্মাণ না করার কারণে সারাবছর নদীর পূর্ব তীরের গ্রামের মানুষগুলো খেয়া ট্রলারের উপর নির্ভর করে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। পার্শবর্তী চরকেওয়ার ইউনিয়নের সাথে সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলেও সড়কগুলো যান চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়নি।
জেলা সদরের প্রতিটা গ্রামের মানুষ ঘর থেকে বের হলেই গাড়ীতে চড়ে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের সুবিধা পাচ্ছে। কিন্তু চরআব্দুল্লাহ ও বকচর গ্রামের মানুষের ভাগ্যে গাড়ীতে চড়ে গ্রাম থেকে বের হওয়া এখনও স্বপ্নের মতো। সচেতন মহলের দাবি, ইউনিয়নটির প্রতিটি গ্রামের সাথে সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে মাত্র তিনটি ব্রিজ।
রজতরেখা নদীর উপর চিতলিয়া বাজার এলাকায় বড় একটি সেতু, কালিরচর – চরআব্দুল্লাহ বরাবর আরো একটি সেতু নির্মাণ করা দরকার।
এছাড়াও মিঝিকান্দি খালে একটি ছোট্র একটি ব্রিজ হলে ইউনিয়নটির প্রতিটি গ্রামের সাথে সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এতে বহু বছরের নদী পারাপার ও হেঁটে চলার ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে প্রায় ২০ হাজার জনগোষ্টি।
স/এষ্

