ঢাকামঙ্গলবার , ১৯ এপ্রিল ২০২২
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

মুন্সীগঞ্জে মেঘনা নদীতে ঝুঁকি নিয়ে হাজারো মানুষের যাতায়াত

চমক নিউজ বার্তা কক্ষ
এপ্রিল ১৯, ২০২২ ৯:৩০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মুন্সীগঞ্জে মেঘনা নদীতে ঝুঁকি নিয়ে হাজারো মানুষের যাতায়াত

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জ জেলা শহর থেকে গজারিয়া উপজেলাকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে মেঘনা নদী। গজারিয়া উপজেলার জনসাধারণকে জেলা সদরে যাতায়াতে সারাবছরই ট্রলারযোগে মেঘনা নদী পাড়ি দিতে হয় বলে জানিয়েছেন যাত্রী সাধারণ।

তারা জানান, বৈশাখ মাসের শুরু থেকে মেঘনা নদী উত্তাল হয়ে ওঠে। এসময় কাল বৈশাখী ঝড়সহ বাতাস, বজ্রপাত, শিলাবৃষ্ঠিসহ কালবৈশাখী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে প্রায় প্রতিদিনই। এছাড়ও বর্ষার এই সময়টাতে নদী পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

পাশাপাশি বৈরি আবহাওয়া এবং ঝড় বৃষ্টির কারনে মেঘনা নদী আরো বেশি উত্তাল হয়ে উঠে। ট্রলারগুলোতে কোন ছাউনি না থাকার কারনে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজেই নদী পাড়ি দিতে হয় যাত্রীদের। ট্রলারগুলোতে যাত্রী নিরাপত্তার নেই কোন ব্যবস্থা।

অদক্ষ্য চালকরা অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। কিন্তু যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা করছেন ঘাট ইজারাদার এবং ট্রলার চালকরা।
জানাগেছে, জেলা সদর থেকে সারাবছর নদীপথে দুটি স্থান থেকে ট্রলারযোগে গজারিয়া যাতায়াত করা হয়। একটি হলো মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাট এলাকা থেকে ইসমানিরচর – হেসেন্দি যাতায়াত। অন্যটি হলো কিশোরগঞ্জ চরের গুদারাঘাট।

নদী পথে দৈনিক গজারিয়াবাসী এই নৌপথেই জেলা সদরে আসা যাওয়া করেন। কিন্তু নদীতে পারাপারের সময়ে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য ট্রলারগুলোতে নেই কোন লাইফ জ্যাকেট কিংবা নিরাপত্তা সামগ্রী। ট্রলারে ছাউনি না থাকায় সারাবছর রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়েই তাদেরকে নদী পাড়ি দিতে হয়। মেঘনা এবং ধলেশ্বরী নদীতে শত শত কার্গো জাহাজ, বালুভর্তি বাল্গহেড চলাচল করে।

নদী পথে যাতায়াতে দূর্ঘটনা এড়াতে ট্রলারগুলোতে যাত্রী নিরাপত্তার কিছুই নেই। বর্ষা আর কালবৈশাখী ঝড়ের মৌসুমে মেঘনা নদীতে বিপদজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঝড়ো বাতাসের কারনে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে ট্রলারগুলোতে। ঢেউয়ের সাথে পাল্লা দিয়েই ট্রলারগুলো যাত্রী নিয়ে নদী পাড়ি দিচ্ছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বৈশাখ মাসের কাছাকাছি সময়ে উত্তাল হতে শুরু করেছে মেঘনা নদী। দক্ষিনা বাতাসে দিনভর বাতাস বইছে। নদীতে সৃষ্টি হচ্ছে ছোট বড় ঢেউয়ের। কিন্তু ট্রলারগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য নেই কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রচন্ড ঢেউয়ের সাথে পাল্টা দিয়েই ট্রলারগুলো ঘাট থেকে ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। এসব ট্রলারে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের পাশাপাশি শিশু এবং বৃদ্ধদেরকেও ট্রলারযোগে নদী পার হতে দেখা গেছে।

একাধিক যাত্রীদের সাথে কথা হলে তারা অভিযোগ করে বলেন, বৈশাখীর মাসের আগ মুহুর্তে এখনই নদী উত্তাল হতে শুরু করেছে। গেলো বর্ষার সময়ে কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই ট্রলারে নদী পাড়ি দিয়েছি। সামনে আসতে পারে কাল বৈশাখী ঝড়। বৈশাখ মাস যতো এগিয়ে আসছে যাত্রীদের মতো বাড়ছে ভয়-আতঙ্ক। প্রয়োজনের তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোন রকম যাত্রী সুরক্ষা ছাড়াই ট্রলারযোগে মেঘনা পাড়ি দিচ্ছেন হাজারো মানুষ।

যাত্রীরা আরো জানান, ট্রলারে অদক্ষ চালক, অসতর্কতা, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ও ঝুঁকিপূর্ন ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে চলছে নিয়মিত যাতায়াত । ভয় আর আতঙ্ক থাকা সত্বেও কোন উপায়ন্ত না পেয়ে যাত্রীরা ট্ররারযোগে পদ্মা নদী পারাপারে বাধ্য হচ্ছে যাত্রী সাধারণ।

সচেতন মহল বলছেন , পদ্মা, মেঘনা এবং ধলেশ্বরী নদীতে ট্রলারযোগে যাতায়াতকারী যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া জরুরি। বৈশাখ মাসে কাল বৈশাখী ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রলারগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছেনা। ট্রলারগুলোতে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা হচ্ছেনা। নদী পথে যাত্রীদের যাতায়াতে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন দ্রুত কার্যকরি উদ্যোগ গ্রহন করবেন । এমনটাই প্রত্যাশা করেছেন যাত্রী এবং স্থানীয়রা।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শীলু রায় চমক নিউজকে বলেন, নদী পথে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। ট্রলার চালকরা যেন যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য শতভাগ নিরাপত্তা সামগ্রী রাখেন । এব্যাপারে চালকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এরপরও যদি ট্রলার চালকরা কোন অনিরাপদভাবে মেঘনা নদীতে যাত্রী পরিবহন করে তাহলে তাদের কিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স/এষ্