মুন্সীগঞ্জে ফুটপাতে বিরিয়ানীর নামে কি খাচ্ছে মানুষ
এম এম রহমান, মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জ জেলাজুড়ে রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা মেজবানির ডেকে রান্না করা বিরিয়ানী বিক্রির দোকানগুলোতে মানুষ বিরিয়ানীর নামে কি খাচ্ছে। তারা জানেন না, কিভাবে তৈরী হচ্ছে এসব বিরিয়ানি। শুধুমাত্র বিরিয়ানির গন্ধ পেয়ে ছুটে যান মানুষগুলো।
যে কোন অভিজাত হোটেলের চেয়ে কম দামে পাওয়া যায় বলে এসব বিরিয়ানি খাচ্ছেন মানুষ। সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, বড় বড় রান্না করার ডেকে করে বিক্রি হচ্ছে এসব বিরিয়ানি, কাচ্ছি এবং মোরগ পোলাও। কোথায় কোন পরিবেশে রান্না হচ্ছে, রান্নাতে খাসি, গরু এবং মুরগীর মাংস কোথায় থেকে আমদানি করা হচ্ছে। বাবুর্চির চর্ম এবং ছোঁয়াছে রোগে রোগাক্রান্ত কিনা সেটাও জানা নেই কারও।
খাবার হোটেল এবং বিরিয়ানির দোকানে থাকা কর্মচারিদের সকলেই সিভিল সার্জন কার্যালয় হতে স্বাস্থ্য সনদ নিতে হয়। কিন্তু জেলার বিভিন্ন স্থানে থাকা বিরিয়ানির দোকানগুলোতে নিরাপদ খাদ্য আইনের কোনটাই পালন করছেনা এসব দোকানের মালিক এবং কর্মচারিরা।
জানাগেছে, গরুর মাংসের নামে কিনে হাড়-গুড়। ১০ কেজি পরিমান গরুর মাংস কিনলে তাতে হারগুড় থাকে ৭ কেজি। বিরিয়ানীতে মুরগি কিংবা গরুর মাংস বলতে হাড় পাওয়া যায়। মাংসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়খুবই কম। এসব বিরিয়ানিতে ক্যামিকেল ও বিষাক্ত মসল্লা ব্যবহার করা হয়। ফলে এসব বিরিয়ানি, তেহারি এবং কাচ্ছিতে গন্ধ বেশি থাকে।
অনেকে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কন্টাক্ট নিয়ে নিজের বাসা-বাড়িতে বিরিয়ানি বানায়। সাপ্লাই দেয়। যেখানে বেশিরভাগই মরা মুরগির মাংস খাওয়ানো হচ্ছে। সাথে খাওয়ানো হচ্ছে বিষাক্ত বিদেশি মসল্লা।
যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্নক হুমকি।বিরিয়ানি, তেহারি, কাচ্চিতে মরা মুরগি,গরু এবং খাসির মাংস খাওয়ালে তা ভোক্তার জানার কথা নয়। আর না জেনে না দেখে বিশ্বাসের উপর এসব খাচ্ছে মানুষ। এরমধ্যে সবচেয়ে মারাত্নক হচ্ছে ব্যবহৃত মসল্লা। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, রাস্তার পাশে থাকা বিরিয়ানী, কাচ্ছি, তেহারি খেয়ে মানুষ পেটে ব্যাথাসহ নানা রকম জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিরিয়ানির নামে এসব অখাদ্য-কুখাদ্য খেতে খেতে শরীরের লিভার, পিত্তাশয়, কিডনীজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে অনেকে।
জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক আসিফ আল আজাদ বলেন, এসব দোকানের রান্নাঘরগুলো কোথায় সেগুলো সনাক্তের পাশাপাশি তারা কোন ধরনের মসল্লা ব্যবহার করছে এসব বিষয়ে মনিটরিং করা হচ্ছে।
ভোক্তাদেরকেও আমরা রাস্তার পাশে থাকা দোকানের খাবার না খেতে নিরুৎসাহিত করছে। তিনি আরো বলেন, এসব খাবার খেলে শরীরে নানা ধরনের রোগ ব্যাধি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বিরিয়ানি তৈরীর কাজে ব্যবহৃত বিদেশি বিরিয়ানির মসল্লাগুলো জব্দে দোকানগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
স/অ

