মুন্সীগঞ্জে পলি জমে অস্থিত্ব সংকটে সর্দারকান্দি খাল
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের সর্দারকান্দি খালটিতে পদ্মার পলি এসে নদীর প্রবেশ মুখ থেকে সর্দারকান্দি গ্রামের উত্তর সীমানা পর্যন্ত ভরাট হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, খালটি সর্দারকান্দি গ্রামের দক্ষিন পাশে থাকা পদ্মার শাখা নদী হতে উৎপত্তি হয়ে উত্তর দিকে সর্দারকান্দি গ্রাম হয়ে চেঙ্গাবুনিয়াকান্দি এবং রাঢ়িপাড়া খালে সংযুক্ত হয়েছে।
খালটি দিয়ে সর্দারকান্দি, চেঙ্গাবুনিয়াকান্দি, বালুয়াকান্দি এলাকার কৃষি জমির পানি নিস্কাশন হতো। এছাড়াও কৃষক এবং স্থানীয়রা এই খালের উপর দিয়ে বাংলাবাজার এবং পদ্মা নদীতে যাতায়াত করিত। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষি পন্য খালের উপর দিয়ে বাড়ী নিয়ে যেতো।
প্রায় ৭ বছর আগেও খালটিতে পদ্মার তীব্র স্রোত অতিবাহিত হতো। গেলো কয়েক পদ্মা নদী হতে পলি এসে খালটিতে জমা হয়। এতে করে নদীর প্রবেশ মুখ হতে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত খালটি এখন পরিত্যক্ত কৃষি জমিতে পরিনত হয়েছে।
স্থানীয়রা অনেকে খালের উপর বিভিন্ন ধরনের সবজি আবাদ করেছেন। খালটি এমনভাবে ভরাট হয়েছে যে, বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে খালটি শুকিয়ে যায়। এছাড়াও খালটি সম্ভুহালদারকান্দি এলাকায় এবং সর্দারকান্দি গ্রামের উত্তর প্রান্তে অগভীর শুকনো জলাশয়ে পরিনগ হয়েছে।
খালটিতে পানি না থাকার কারনে গেলো শুকনো মৌসুমে কৃষকরা বিপাকে পড়েছিলো। বর্ষা মৌসুম ছাড়া খালে জোয়ার ভাটার আগমন ঘটছেনা। খালটিতে নানা প্রতিবন্ধকতার কারনে খালটি স্থানীয় গ্রামবাসী এবং কৃষকদের কোন আসছেনা বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা অনেকে।
কৃষকদের অভিযোগ, পদ্মা নদী হতে খালটি উৎপত্তি হয়ে খালটি উত্তর দিকে চেঙ্গাবুনিয়াকান্দি এবং বাংলাবাজার খালে মিলিত হয়েছে। খালটির বিভিন্ন স্থানে দখলদারদের কবলে চলে গেছে। খালের জায়গায় অনেকে বসতবাড়ী এবং স্থাপনা নির্মাণ করে খালটিতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছেন। খালটির উপর একাধিক ব্রিজ ও কাঠেরপুল এখনও কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
বর্তমানে খালটি দখল, দূষণ আর পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়াতে খালটি পড়েছে অস্থিত্ব সংকটে। খালটি শুকনো মৌসুমে শুকিয়ে থাকে । আর বর্ষার সময়ে খালটিতে পানি প্রবাহ থাকলেও গভীরতা না থাকায় কোন নৌযান চলাচল করতে পারে না।
কিন্তু কৃষকদের স্বার্থে খালটি খননে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। যার কারনে কৃষকরা তাদের জমিতে ব্যবহারের প্রয়োজনীয় পানি খালে পাচ্ছেনা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পদ্মার নদীর প্রবেশ মুখ থেকে সর্দারকান্দি গ্রামের শেষ সীমানা পর্যন্ত খালটি শুকিয়ে চৌচির। বিভিন্ন স্থানে খালটি পার্শবর্তী জমির সমান ভরাট হয়ে গেছে। সেখানে স্থানীয়া বিভিন্ন ধরনের সবজি আবাদ করেছেন। খালের প্রবেশ মুখটি নদী থেকে প্রায় ১০ ফিট উঁচু হয়ে আছে। সর্দারকান্দি হতে বাংলাবাজার, শান্তি নগর যাতায়াতে খালের উপর একটি কাঠের পুল নির্মাণ করা হয়েছিলো।
বর্ষার সময়ে মানুষ পুলটির মাধ্যমে খাল পাড়ি দিতো। কিন্তু বর্তমানে শুকনো খালের উপর দাঁড়িয়ে আছে কাঠের পুলটি। বিভিন্ন এলাকার মানুষজনদেরকে শুকনো খালের উপর দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল বেপারি জানান, বর্ষা ছাড়া শুকনো মৌসুমে খালে কোন পানি থাকে না। প্রায় ৭ বছর আগেও খালটি সচল ছিলো। পদ্মা নদীর পলি এসে প্রথমে খালটির প্রবেশ মুখটি উঁচু হয়ে যায়। বর্ষার সময়ে জোয়ারের পানির সাথে বালি এসে পুরো খালটি ভরাট হয়ে গেছে।
প্রতি বছর খালটি একটু একটু করে ভরাট হতে হতে আজ গভীরতা হারিয়ে শুকিয়ে পড়ে আছে। তিনি আরো বলেন, খালটির প্রবেশ মুখ হতে সর্দারকান্দি গ্রামের উত্তর সীমানা পর্যন্ত খনন করলেও গ্রামবাসী এবং কৃষকরা উপকৃত হতো। কৃষি মৌসুমে কৃষকরা জমির ফসলে দেয়ার মতো পানি খালে পায়নি।
বছরের পর বছর খালটি পলিজমে অস্থিত্ব হারাতে যাচ্ছে। এছাড়াও খালটির বিভিন্ন স্থানে খালের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে বহু স্থাপনা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বার বার খালটি খননের আশ্বাস দিলেও তারা খালটি খননে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি বলেও জানান তিনি।
কৃষক মো. আমির হোসেন জানান, পলি জমে খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট হয়ে গেছে। খালের গভীরতা কমে যাওয়াতে প্রায় ৭বছর ধরে নৌকাযান চলাচল বন্ধ। যেসব স্থানে খালে পানি আছে সেখানে কচুরিপনাসহ নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।
খালের প্রবেশ মুখ থেকে প্রায় ৫শ মিটার পর্যন্ত এখন খালের অস্থিত্ব নেই। কৃষি জমিতে পরিনত হয়েছে। তিনি আরো জানান, বেশ কিছু স্থানে শুকনো খালে মানুষ সবজি আবাদ করেছেন। কৃষি কাজের প্রয়োজনীয়র পানি পাওয়া যাচ্ছেনা খালে। দ্রুত সময়ে খালটিকে খননে কোন ব্যবস্থা না নিলে কৃষকরা বিপাকে পড়বেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, কৃষি জমির পানি নিস্কাশন এবং কৃষকদের সুবিধার্থে খালটি খনন করা খুবই জরুরি। এভাবে খালটি পড়ে থাকলে কোন একটা সময়ে মানচিত্রে স্মৃতির চিহ্ন হয়ে থাকবে । দ্রুত খালটি খননে উদ্যোগ নিবে সরকার । এনমটাই প্রত্যাশা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স/এষ্

