ঢাকাবুধবার , ২০ এপ্রিল ২০২২
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

মুন্সীগঞ্জে পরিত্যক্ত বোতলে ভরে মাছের বরফে বিক্রি হচ্ছে আঁখের রস ও মাঠা

চমক নিউজ বার্তা কক্ষ
এপ্রিল ২০, ২০২২ ৮:১৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মুন্সীগঞ্জে পরিত্যক্ত বোতলে ভরে মাছের বরফে বিক্রি হচ্ছে আঁখের রস ও মাঠা

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে থাকা বরফ তৈরির কারখানায় মাছ কিংবা পঁচনশীল পন্য সংরক্ষনের বরফে মানুষ তৃষ্না মেটাচ্ছেন। পবিত্র মাহে রমজানে ইফতারির সময়ে শরীরে প্রশান্তি জোগাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ফুটপাদের ভাসমান দোকাগুলো থেকে মাঠা এবং আঁখের রস কিনে নিচ্ছেন বাড়ীতে।

তবে এই পানীয় কতটা স্বাস্থ্য সম্নত সেই খবর রাখা সম্ভব হয়না অনেকেরই। শরীরের ক্লান্তি আর তৃষ্না মেটাতে খাচ্ছেন আঁখের রস কিংবা মাঠা কিনে খাচ্ছে মানুষ। সচেতন ভোক্তারা জানান, রমজান মাসকে ঘিরে ফুটপাতে আঁখের রস এবং অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে তৈরি মাঠা বিক্রি করছেন এক শ্রেণির মৌসুমে ব্যবসায়ী।

নানা ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করে মাঠা তৈরি করে বিক্রি করছেন ফুটপাতে। মাঠা এবং আঁখের রসে ব্যবহার করছেন নোংরা পানিতে তৈরি মাছের বরফ। শুধু তাই নয়, আঁখের রস এবং মাঠা বিক্রি করা হচ্ছে পরিত্যক্ত টোকানো বোতলে ভরে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সুষ্ট তদারকির অভাবে পবিত্র রমজান মাসেও মানুষকে নোংরা পানির বরফ এবং ভেজাল মাঠা খাওয়াচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। এতে মানব শরীরে নানা ধরনের রোগ ব্যাধির সৃষ্টি হচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে আঁখের রস কিংবা মাঠা বিক্রির দোকানগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে মাছের বরফ। নোংরা পানি আর অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি এসব বরফ মানুষ না জেনেই পান করছেন। আঁখের রস বিক্রেতারা মেশিনের উপর বড় বড় বরফ খন্ড রেখে আঁখের রসগুলো বের করছেন। বরফ গলে আঁখের রসের সাথে মিলে যাচ্ছে।

সেই আঁখের রস টোকানো পরিত্যক্ত বোতলে ভরে ভোক্তাদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে। পবিত্র রজমান মাস উপলক্ষে এক শ্রেণির মৌসুমী মাঠা বিক্রেতারাও ফুটপাতে বসেছেন মাঠা নিয়ে। ড্রাম ভর্তি মাঠার উপর মাছি ভন ভন করছে। প্লাষ্টিকের বস্তায় রাখা টোকানো বোতলে মাঠা ভরে বিক্রির জন্য প্রদর্শন করে রাখা হয়েছে। অনেকে মাঠার সাথে বরফের ভাঙা টুকরোও ভোক্তাদের দিয়ে দিচ্ছেন।

অভিজাত রেষ্টুরেন্টে নতুন বোতলে মাঠা বিক্রি করলেও ফুটপাতের দোকানগুলোতে টোকানো বোতালেই মাঠাÑ আঁখের রস বিক্রি করতে দেখা গেছে। বিক্রেতাদের দেয়া তথ্য মতে বরফের উৎস জানতে শহরের হাটলক্ষীগঞ্জ এলাকার বরফ কারখানায় গিয়ে দেখা গেছে।

মাছ বিক্রেতা, শরবত বিক্রেতাসহ নানা প্রয়োজনী মানুষ বরফ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। শ্রমিকরা জুতো পড়েই কাজ করছেন বরফের উপর। বাইরের ধুলোবালি ক্রেতা এবং শ্রমিকের জুতোর পানি মিশে একাকার। বরফ তৈরির কারখানার শ্রমিকরা জানান, মরদেহ, মাছ কিংবা পঁচনশীল পন্য সংরক্ষণের জন্য তৈরি এসব বরফ বিয়ের অনুষ্ঠানে, আঁখের শরবত বিক্রেতা কিংবা মাঠা বিক্রেতারা নিয়ে যাচ্ছেন ।

পঁচনশীল পণ্য সংরক্ষনের সুবিধার্থে তারা এসব বরফ তৈরি করেন। কিন্তু কারখানা থেকে নিয়ে মানুষ সেটাকে কিভাবে ব্যবহার করেন সেটার দায় দায়িত্ব তাদের নয়। তবে বেশিরভাগ বরফ মাছ বিক্রে হয়ে থাকে মাছ বিক্রেতাদের কাছে। রমজানের শুরু থেকে বরফ তৈরির কারথানায় বরফ বিক্রি কয়েকগুন বেরে গেছে বলেও জানান শ্রমিকরা।

একাধিক আঁখের রস ও মাঠা বিক্রেতারা জানান, কারখানার মালিকরা খাবারের জন্য আলাদা করে কোন বরফ তৈরি করেনা। মাছে ব্যবহার করা বরফই এখন সামাজিক অনুষ্টাণে এবং ফুটপাতের শরবতের দোকানে চলে বেশি। কারখানার মালিকরা ভালো বরফ তৈরি করে ১০ টাকা বেশি দাম নিলে সেই দাম দিয়েই তার কিনতো। কিন্তু সকলে বরফ কারখানার মালিকতের কথার উপর বিশ্বাসের করেই এসব বরফ এনে তারা মানুষকে খাওয়াচ্ছেন।
জেলা সিভিল ডা. মঞ্জুরুল আলম বলেন, বরফ তৈরির পানির উৎসটা কি সেটা আগে জানতে হবে। বরফ হলেই যে খাওয়া যাবে তা ঠিক নয়। এটা কি টিউবওয়েলের পানি ,নাকি নদীর পানিতে তৈরি হয়েছে। মাছে ব্যবহার করা বরফ কখনও খাওয়ার উপযোগী নয়।

তিনি আরো বলেন, বরফটি স্বাস্থ্য সম্নত কিনা সেটা আগে ক্লিয়ার হতে হবে। নোংরা পানির তৈরি বরফ খেলে মানুষ টাইফয়েড, আমাশয় এবং জন্ডিসে আক্রান্ত হবে। আমরা নিয়মিত ভেজাল খাদ্যের উপর নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে যাচ্ছি। বরফ আর মাঠ বিক্রির বিষয়টিও মোবাইল কোর্টের আওতায় নিয়ে আসবো।

জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসিফ আল আজাদ বলেন, বরফ তৈরির কারখানাগুলা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখবো। তারা যদি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কিংবা নোংরা পানিতে খাবার উপযোগী বরফ তৈরি করে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স/এষ্