ঢাকাশনিবার , ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

মুন্সীগঞ্জে পরিত্যক্ত প্লাষ্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতে তৈরি হচ্ছে সুতা

চমক নিউজ বার্তা কক্ষ
সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৩ ৫:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মুন্সীগঞ্জে পরিত্যক্ত প্লাষ্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতে তৈরি হচ্ছে সুতা

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি ।। মুন্সীগঞ্জ সদর বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে প্লাষ্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে সুতা তৈরির বহু কারখানা। এসব কারখানায় পরিত্যক্ত প্লাষ্টিক বর্জ্য থেকে রিসাইকলিং করে রঙ বেরঙের সুতা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তারা জানান, বিভিন্ন গার্মেন্টস থেকে প্যাকিটিং করা প্লাষ্টিকের ওয়েষ্টিজ, প্লাষ্টিকের পরিত্যক্ত কাগজ নানা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কারখানাগুলোতে নাইলন সুতা তৈরি করা হচ্ছে। এসব সুতা স্থানীয় সুতা পাকানো কারখানায় বিক্রি করা হচ্ছে।

এই সূতা পাকিয়ে সুতা পাকানোর কারিগররা চর্কায় ঘুরিয়ে প্লাষ্টির দড়ি হিসেবে ব্যবহার উপযোগী মোটা দড়ি তৈরি করছেন। এই সুতা স্থানীয়ভাবে নাইলন সুতা নামে পরিচিত। যা বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়।

পোশাক কারখানা থেকে ফেলে দেয়া পলিথিন, নানা রকম প্লাস্টিকের মোড়ক বা বর্জ্য রিসাইক্লিং করে তৈরি করা সুতার কারখানার সংখ্যা এখন প্রায় ৪০টি।

এসব কারখানাগুলোর বেশি রয়েছে পঞ্চসার, মিরকাদিম ও রামপাল এলাকায়। এসব কারখানায় তৈরি হচ্ছে রং বেরঙের সুতা। সেই সুতা পাকিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নাইলনের দড়ি।

যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে। বিশেষ করে এই ধরনের নাইলনের সুদা বা দড়ি মাছ ধরার কাজে জেলেরা ব্যবহার করেন বেশি। এছাড়াও কৃষকরা তাদের বাড়ী ঘরের বেঁড়া, বাঁশের বাঁধ তৈরিতেও নাইলন সুতা বা দড়ি ব্যবহার করেন। আগের দিনে প্লাস্টিকের এই বর্জ্যগুলো পরিবেশ দূষণ করতো।

মাটি, নদী, খাল-বিলের সর্বনাশের দিকে ঠেলে দিতো। কিন্তু এখনকার সময়ে এসব পরিত্যক্ত প্লাষ্টিক বর্জ্য এখন সুতা তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে কারখানার মালিকরা লাভবান হচ্ছেন। পাশাপাশি এই পেশায় হাজার হাজার বেকার নারী ও পুরুষদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।

জানাগেছে, কারখানার মালিকরা বিভিন্ন গামেন্টস ফ্যাক্টরির পরিত্যক্ত প্লাষ্টিকের ওয়েষ্টিজ পেপার কাটার মেশিনে কাটা হয় বর্জ্য। রোদে শুকিয়ে তারপর মেশিনে গলিয়ে তৈরি করা হয় চাপটি। গরম চাপটি পানিতে ডুবিয়ে ঠান্ডা করে আরেক মেশিনে ছোট ছোট দানা তৈরি করা হয়।

এই দানার সঙ্গে বিভিন্ন কালারের রং মিশিয়ে মেশিনের সাহায্যে মিক্সার করে শুকানো হয়। পরবর্তীতে সেগুলোকে প্লাস্টিক স্টুটার মেশিনে দিয়ে তৈরি হয় সুতা। কারখানাগুলোতে পরিত্যক্ত ও অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিক সামগ্রী দিয়ে তৈরি হচ্ছে সুতা।

এতে দূষণ রোধের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সামগ্রী দিয়ে সুতা তৈরিতে দূষণমুক্ত হচ্ছে পরিবেশ। বর্তমানে এ কাজে নিয়োজিত রয়েছে প্রায় দুই হাজারেও অধিক মানুষ। পরিত্যক্ত প্লাষ্টিক থেকে সুতা তৈরির পেশায় নিয়োজিত শ্রমিকরা ফিরিয়ে এনেছেন তাদের পরিবারের স্বচ্ছলতা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কারখানাগুলোতে নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা প্লাস্টিক বর্জ্য মেশিনে কেটে রোদে শুকাতে দিচ্ছেন। মেশিনে সেই গুঁড়া প্লাষ্টিকগুলো মেশিনে গলিয়ে এক ধরনের চাপটি বা রুটির মতো তৈরি হচ্ছে। শ্রমিকরা সেগুলোকে ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখছেন। সেখান থেকে সুতার মেশিনে ঢুকিয়ে করছেন সুতা তৈরি।

কারখানাগুলোতে শ্রমিকরা ঘামি জড়ানো পরিশ্রম করছেন। এসব সুতা স্থানীয় দড়ি তৈরির চর্কার মাধ্যমে নাইলনের দড়ি তৈরির পেশার সাথে জড়িতদের কাছে বিক্রি করছেন। সুতা পাকানোর কারিগররা এখান থেকে সুতা নিয়ে মোটা চিকন সব ধরনের নাইলনের দড়ি তৈরি করছেন।

একাধিক কারখানার মালিকদের সাথে কথা হলে তারা জানান, এসব সুতা তারা ভারত চীনসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছেন। প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে সুতা উৎপাদন বাড়াতে ও দেশজুড়ে সুতা ছড়িয়ে দিতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন তাদের। বিশেষ করে এসব কারখানাগুলোতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সর্বরাহ প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন অনেকে।

তারা বলছেন, বিদ্যুৎ ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে গেলে তাদের উৎপাদন ব্যাহত হয়। বিশেষ করে বর্তমানে অব্যাহত অতিমাত্রার লোডশেডিংয়ের কারণে তারা চাহিদা অনুযায়ী সুতা উৎপাদন করতে পারছেনা।

এসব কারখানার সাথে জড়িত মালিক, শ্রমিকদের প্রশিক্ষনের পাশাপাশি আর্থিক লোনের ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক সুতা তৈরির মালিক ও শ্রমিকরা।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, পরিত্যক্ত প্লাষ্টিক বর্জ্য পরিবেশের জন্য মারাত্নক হুমকি। বিশেষ করে নদী নালা এবং জমির উর্বরতা কমিয়ে দেয় প্লাষ্টিক বর্জ্য। কারখানাগুলোতে রিসাইকরিংয়ের মাধ্যমে সুতা তৈরিতে একদিকে পরিবেশ রক্ষা হচ্ছে ।

অন্যদিকে এই পেশায় কর্মসংস্থানও হচ্ছে বহু মানুষের। প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে সুতা তৈরির কারখানার সংখ্যা বাড়াতে সরকারকে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে।

সরকার যদি এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ করেন তাহলে বেকারত্ব দূর হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা পাবে বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল।

স/এষ্