মুন্সীগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে কাঠের মাচা ব্যবহার সড়কে যাতায়াতে যুক্ত হয়েছে বাঁশের সাঁকো
এম এম রহমান, মুন্সীগঞ্জ ।। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মহাকালী ইউনিয়নের বাগেশ্বর বাজারের পূর্বপাশে থাকা খালের উপর ক্ষতিগ্রস্ত ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি পারাপার হচ্ছেন হাজারো মানুষ। স্থানীয়রা গ্রামবাসীরা জানান, বাগেশ্বর এলাকার কৃষকদের হাজার হাজার একর ফসলি জমি খালের পূর্ব তীরে।
কৃষি মৌসুমে কৃষকরা খালের উপর থাকা সেতুটি পাড়ি দিয়ে কাঁচা মাটির সড়ক দিয়ে আলুর জমিতে যাতায়াত করেন। প্রায় ২০ বছর পূর্বে কৃষক ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের যাতায়াতে বাগেশ্বর হতে পূর্বদিকে চর গোপটা পর্যন্ত একটি মাটির রাস্তা নির্মাণ করা হয়। কাঁচা মাটির রাস্তা আর সেতুটি ব্যবহার করে স্থানীয় হাজার হাজার কৃষকরা তাদের জমিতে উৎপাদিত আলু, পেয়াজ, ধান সহ নানা ধরনের মৌসুমী সবজি বাজারে নিয়ে যেতেন।
এছাড়াও কৃষি উপকরণ সার , বীজ এবং জমি চাষাবাদের ট্রাক্টর জমিতে নেয়া হতো সড়কটি দিয়ে। সংস্কার অভাবে কাঁচা মাটির রাস্তাটি সেতু হতে প্রায় ১শ মিটার পর্যন্ত কৃষি জমির সাথে মিশে গেছে। যার কারণে বর্ষা মৌসুমে কৃষকরা প্রায় ৫ মাস সড়কটির ওই অংশে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে কৃষকরা ও স্থানীয়রা যাতায়াত করেন। এই রাস্তাটি ব্যবহার করে চর গোপটা চর চাপড়া, শেয়ারকান্দি এবং ঘাষিপুকুরপাড় বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ফসলি জমির ফসল বাজারজাত করা হয়। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সবজি কাঁচা মাটির সড়ক দিয়ে ব্রিজটি পাড়ি দিয়ে বাগেশ্বর হয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়।
প্রায় ১০ বছর পূর্বে বাগেশ্বর বাজারের পূর্ব পাশে থাকা ব্রিজটির স্লাব ধসে পড়ার পাশাপাশি রেলিংগুলোও খসে খসে পড়ে। সংস্কার অভাবে ব্রিজটিতে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়। সেই ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটিতে মানুষ কাঠের মাচা ফেলে পায়ে হেঁটে মাথায় বোঝা নিয়ে যাতায়াতের উপযোগী করে তোলে। সারাবছর কৃষক ও স্থানীয়রা ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি দিয়ে যাতায়াত করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৩০ বছর পূর্বে বাগেশ্বর বাজারের পূর্বপাশে থাকা খালের উপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিলো। কৃষকদের সুবিধার্থে ব্রিজের পর থেকে পূর্ব দিকে নদীর তীর পর্যন্ত মাটির রাস্তা নির্মাণ করা হয়।
সেই রাস্তা ব্যবহার করে চর চাপড়া, ঘাষিপুকুরপাড়, গোপটাচরসহ বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষি জমিতে সার, বীজ এবং কৃষি উপকর নিয়ে যাওয়া হয়। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষি পন্য রাস্তা দিয়ে এনে সেতুটি পাড়ি দিয়ে বাগেশ্বর বাজার সড়কে আসা যাওয়া করেন। শুকনো মৌসুমে কৃষি পণ্য পরিবহনের সময় ট্রলি দিয়ে যাতায়াত করার সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।বছরের পর বছর কৃষক ও স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজটির কারণে যাতায়াতে চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। কিন্তু ব্রিজটি সংস্কারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসেনি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বাগেশ্বর বাজারের পূর্বপাশে থাকা খালের উপর সেতুটির অবস্থান। সেতুটির প্রবেশ মুখ থেকে শুরু করে অপরপ্রান্ত পর্যন্ত প্রায় ৬০ শতাংশ স্লাব ধসে গেছে। অবশিষ্ট অংশেও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেই গর্তের পাশ দিয়ে মানুষ পায়ে হেঁটে যাতায়াত করছেন। সেতুটির অধিকাংশ স্থানে রেলিং এর কোনো অস্তিত্ব নেই। শুধুমাত্র রডগুলো ছাড়া আর কিছুই নেই। সেতুটির পিলারগুলোও খসে খসে পড়ছে। সেতুটির পূর্ব প্রান্তে দু”পাশের রেলিংগুলো পড়ে আছে।
স্থানীয়রা বাসিন্দা আরশাদ আলী জানান, সংস্কার অভাবে ব্রিজটির রেলিংগুলো ধসে পড়েছে। সেতুটির বিশাল একটি অংশজুড়ে স্লাব ধসে পড়ছে। সেখানে কাঠের মাচা দিয়ে চলছে যাতায়াত।এই ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজটি দিয়ে কৃষকরা সারাবছর ঝুঁকি নিয়েই কৃষি পণ্য পরিবহন করেন। কৃষকদের যাতায়াত সুবিধার্থে ব্রিজ এবং কাঁচা মাটির সড়ক নির্মাণ করে দিয়েছিলো সরকার। সংস্কার অভাবে সড়কটির প্রায় ১শ মিটার কৃষি জমির সাথে মিশে গেছে। যার কারণে সড়কের উপর বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে চলছে যাতায়াত। তিনি আরোও জানান, এই এলাকাটি একটি কৃষি প্রধান এলাকা। হাজার হাজার কৃষকরা বিস্তীর্ণ বিলে চাষাবাদ করেন। সড়ক আর সেতু থাকা স্বত্বেও সারাবছর মাথায় বোঝা করে কৃষি পণ্য বাজারজাত করতে হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়ক ও সেতুটি সংস্কারের জোর দাবি জানাচ্ছি।
ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুর রশিদ জানান,ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর উপর কাঠের মাচা ফেলে চলাচল করা হচ্ছে এটা বিপদজনক। একের পর এক সরকারের পালাবদল হলেও প্রায় ১০ বছর কৃষক ও স্থানীয়রা যাতায়াতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষকরা পড়ছেন বেশ বিপাকে। কিন্তু রাস্তা এবং সেতুটি সংস্কারে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি বিগত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় ইউপি ইউপি সদস্য শহীদুল ইসলাম মাদবর বলেন, এলাকার কৃষক ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের যাতায়াত সুবিধার্থে সড়কটি সরকারি একটি সংস্থা তাদের অর্থায়নে এই সেতুটি এবং সেতু সংযুক্ত কাঁচা মাটির নির্মাণ করেছিলো। কিন্তু সেতু এবং রাস্তাটি উপজেলা পরিষদের রাস্তা ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে আইডি ভুক্ত করা হয়নি। যার কারণে এই রাস্তা এবং সেতুটি সংস্কারে সরকারি কোন প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসেনি। তিনি আরোও বলেন, সেতু এবং রাস্তাটি সরকারিভাবে আইডিভুক্ত করতে উপজেলা পরিষদে আবেদন করা হয়েছে। তারা এসে পরিদর্শন করে গেছেন। আইডিভুক্ত হলে উপজেলা পরিষদ রাস্তাটি সংস্কার করে দিবেন বলেও জানান তিনি।
স/এস্

