ঢাকাবুধবার , ২০ এপ্রিল ২০২২
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

মুন্সীগঞ্জে জড়াজীর্ণ ভবনে বহুমুখী সংকটে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

চমক নিউজ বার্তা কক্ষ
এপ্রিল ২০, ২০২২ ২:৪৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মুন্সীগঞ্জে জড়াজীর্ণ ভবনে বহুমুখী সংকটে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের পানাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে পাঠদান চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা জানান, বিদ্যালয়টিতে বিভিন্ন সময়ে তৈরি করা হয়েছে একাধিক ভবন।

বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টিতে। বিদ্যালয়টির পুরাতন ভবনটি অনেকটাই জড়ীড়ীর্ণ। সেই জড়াড়ীর্ণ ভবনের ভিতরে এখনও একাধিক ক্লাস রুমে শিক্ষার্থীদেরকে পাঠদান দেয়া হচ্ছে। পুরাতন ভবনটির দেয়াল এবং ছাদের আস্তর খসে খসে পড়ছে। বিদ্যালয়টিতে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে।

অপরিকল্পিতভাবে একের পর এক ভবন তৈরি করে বিদ্যালয়ের বিশাল মাঠটিকে দুইভাগে বিভক্ত করে ফেলা হয়েছে। রাস্তার পাশে গেট এবং বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়টিতে আসা যাওয়া করছে। বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ। বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনগুলো ভেঙে একটি বড় ভবন নির্মাণ করলে স্কুলটিতে মনোরম পরিবেশে তৈরি হবে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানাগেছে, ১৯৩৯ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টিতে পানাম, জোড়ার দেউল ও এর আশপাশ এলাকার শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করেন। স্কুলটিতে প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেনি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান দেয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে ১২ জন শিক্ষকের পরিবর্তে ১১ জন শিক্ষক পাঠদানে দায়িত্ব পালন করছেন। সহকারি শিক্ষকের একটি পদটি শুন্য রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে সর্বমোট শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ৪২৬ জন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে বয়ে গেছে ব্যস্ততম সড়ক। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রবেশ মুখে নেই কোন গেট কিংবা পরিপূর্ণ বাউন্ডারিওয়াল। শিক্ষার্থীরা ব্যস্ততম সড়কের উপর দিয়েই বিদ্যালয়ে প্রবেশ করছেন। বিদ্যালয়টিতে পুরাতন ভবনটি জড়াজীর্ণ। ক্লাস রুমগুলোতে দেয়াল ও ছাদের আস্তর খসে খসে পড়ছে।

বিদ্যালয়টিতে ছোট বড় ৪টি ভবনে শিক্ষার্থীদেরকে পাঠদান দেয়া হচ্ছে। তবুও ভবন সংকটে শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে ক্লাস করছেন শ্রেনী কক্ষগুলোতে। বিদ্যালয়টিতে একাধিক ভবন তৈরি করে বিদ্যালয়ের বিশাল খেলার মাঠটিকে দুইভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে। বিদ্যালয়টিতে নেই কোন শহীদ মিনার। এছাড়াও নানা ভোগান্তি মাথায় নিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করতে দেখা গেছে।

বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হলে তারা জানান, বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের প্রবেশ মুখে গেইট নেই। নেই কোন বাউন্ডারি ওয়াল। আংশিক বাউন্ডারিওয়াল থাকলেও সেটা এতোটাই নিচু যে শিশু বাচ্চারাও ওয়ালের উপর দিয়ে যেতে পারে। বিদ্যালয়ে প্রবেশ কিংবা ছুটির সময়ে শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পাড়ি দিচ্ছেন। পুরাতন ভবনে গাদাগাদি করে ক্লাস নিতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়টিতে শহীদ মিনার না থাকার কারনে শিক্ষার্থীরা ভাষা শহীদদেরও শ্রদ্ধা জানাতে পারছেনা। বিদ্যালয়টিতে নানামুখী সংকটের কারনে দিন দিন শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিদ্যালয়টিতে থাকা একাধিক ভবনও শিক্ষার্থীদের ক্লাস রুমের চাহিদা পূরণ করতে পারছেনা।

দ্রুত সময়ে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করলে স্কুলের সৌন্দর্য ফিরে আসার পাশাপাশি শ্রেনী কক্ষের সংকট দূর হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা দরকার। বিদ্যালয়টিতে এখন বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষার মানও অনেক ভালো।

বিদ্যালয়টিতে বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংখ্যাও বেশি। তবে বিদ্যালয়টিতে বিদ্যমান যেসকল সমস্যা রয়েছে এগুলো সমাধান করা খুবই প্রয়োজন। এতে শিক্ষার্থীরা মান স¤œত শিক্ষা অর্জনে আরো বেশি মনোযোগী হতে পারবে বলেও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদ্যালয়টিতে একাধিক ভবনের পরিবর্তে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৪টি ভবনে চলছে পাঠদান। বিদ্যালয়টিতে ১৯৬৫ সালে যে ভবনটি তৈরি করা হয়েছিলো সেটা জড়াজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। সেই ভবনে ২টা কক্ষে পাঠদান চলছে।

এছাড়াও বিদ্যালয়টিতে ১৯৯৬ সালে ১টি, ২০০৩সালে ১ টি এবং ২০০৭ সালে ১টিসহ মোট ৪টি ভবন তৈরি করা হয়। ভবনগুলো অনেক ছোট। বিদ্যালয়টিতে একাধিক ভবন তৈরি করে বিদ্যালয়টিকে মাঠটিকে দু”ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। বিদ্যালয়ে থাকা পুরাতন ভবনটি ভেঙে ফেলা দরকার।

বিদ্যালয়টিতে ৪টি ভবনের পরিবর্তে ১টি বহুতল ভবন নির্মাণ করলে ভালো হতো বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যালয়টির চারপাশে বাউন্ডারি ওয়াল, শহীদ মিনার স্থাপন এবং বিদ্যালয়ের প্রবেশ মুখে গেট নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।

সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছা. নাছিমা খানম চমক নিউজকে বলেন, বিদ্যালয়টিতে অনেক জায়গা রয়েছে। কোন পরিকল্পনা না করে একের পর এক ভবন তৈরি করা হয়েছে। রাস্তার পাশে যে ভবনটি হয়েছে সেটা ৪তলা হবে। বিদ্যালয়টিতে একটি বহুতল ভবন হলেই যথেষ্ট ছিলো।

তিনি আরো বলেন, সরকার একটি স্কুল একটি ভবন প্রকল্প চালু করেছে। সেই প্রকল্পে বিদ্যালয়টিতে নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও বিদ্যালয়টির বাউন্ডারি ওয়ালসহ যেসব চাহিদা রয়েছে সেগুলোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বিদ্যালয়টিতে থাকা বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স/এষ্