মুন্সীগঞ্জে জড়াজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে জাড়াজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পরিষদের কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা জানান, প্রায় ২৫ বছর ধরে জড়াজীর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে।
২০০০ সালের পরবর্তী সময় থেকে ভবনটি টুকটাক সংস্কার করে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে চেয়ারম্যানরা। যে জায়গাটিতে জড়াজীর্ণ ভবনে এখন ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চলছে সেই জায়গাটি স্থানীয় খাদিম মাদবর এক ব্যক্তি মৌখিকভাবে দান করেছিলো।
এরপর এখানে সরকার ভবনটি নির্মাণ করেন। ভবনটি বহু বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিলো। বর্তমান ভবনটির ছাদ নষ্ট হয়ে যাওয়াতে বৃষ্টির সময়ে পানি পড়ে। রুমের ভিতরে ছাদের আস্তর আর প্লাষ্টার খসে খসে পড়ছে। বিভিন্ন স্থানে প্লাষ্টার খসে পড়ে ছাদের রডগুলো বেরিয়ে গেছে।
বিভিন্ন গ্রাম থেকে সেবা নিতে এসে লোকজন বিপাকে পড়ছেন। জাড়াজীর্ণ ভবনে গাদাগাদি করে মানুষ সেবা গ্রহন করতে বাধ্য হচ্ছে। ভবনটিতে সেবা নিতে এসে মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একের পর এক চেয়ারম্যান নির্বাচিত চেয়ারম্যান এই জড়াজীর্ণ ভবনেই চালিয়ে গেছে পরিষদের কার্যক্রম। সাবেক চেয়ারম্যান মহসিনা হক কল্পনা দীর্ঘ ৫টি বছর এই ভবনটিতে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। পরিষদের এই জায়গাটি মৌখিকভাবে দান করেছিলো স্থানীয় এক ব্যক্তি। তার ওয়ারিশরা জায়গাটি সরকারকে লিখে দিতে রাজি।
কিন্তু ওয়ারিশদের কাছ থেকে জায়গাটা লিখে নিয়ে সরকারকে বুঝিয়ে দিবে সেই কাজটি করতে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি তিনি। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের ভবন নির্মাণের জায়গা খুঁজে বের করতেও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে সাবেক চেয়ারম্যানরা।
বিগত বছরগুলোতে চেয়ারম্যানরা জনগনকে ইউনিয়ন পরিষদের ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রতি দিয়েছিলো । কিন্তু তারা জনগনকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি কেউ। ফলে আজও ইউনিয়ন পরিষদের নতুন কমপ্লেক্স ভবন থেকে বঞ্চিত মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের জনসাধারণ।
জানাগেছে, ২৪টি গ্রাম আর ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন। ইউনিয়নটির বর্তমান জনসংখ্যা ২৫ হাজার ৭শত ৮৩ জন। ইউনিয়নটির আয়তন ৬.১৮ বর্গ মাইল। ব্যক্তি মালিকানা জায়গাতে স্বাধীনতা বহু বছর আগে এই ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ভবনের জায়গাটি খাদিম মাদবর নামের ব্যক্তি মৌখিকভাবে জায়গাটি দিয়ে দেয় কিন্তু কাগজে কলমে লিখে দেয়নি।
বর্তমানে সেই খাদিম মাদবরের ওয়ারিশগনরা জায়গাটি ইউনিয়ন পরিষদের নামে লিখে দিতে সম্নতি জানিয়েছেন। প্রায় ২৫ বছর আগে থেকেই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে চেয়ারম্যানরা টুকিটাকি সংস্কার করে চালিয়ে আসছেন পরিষদের কার্যক্রম।
ভবনের ছাদের উপর জন্ম নিয়েছে গাছ। গাছের শিকরের কারনে ছাদে দেয়া দিয়েছে ফাঁটল। ড্যামেজ হয়ে গেছে ছাদ। রুমগুলোর ভিতরে ছাদের আস্তর খসে খসে পড়ছে।জড়াজীর্ণ ভবনটিতে দুইটা ছোট কক্ষ এবং একটি হল রুম রয়েছে।
১ম কক্ষটিতে সচীব এবং তথ্য ও সেবাকেন্দ্র। দ্বিতীয় কক্ষটিতে চেয়ারম্যান কক্ষ। হল রুমটিতে ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউন। যেখানে বিভিন্ন মালামাল রাখা হয়।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের ভবনতো নয় দেখতে যেনো পরিত্যক্ত কোয়াটার। দেখে বুঝার উপায় নেই যে এখানে প্রায় ২৫ হাজার ৭শত ৮৩ জন জনসাধারনের দৈনদিন জরুরি কার্যক্রম চলে এই ইউপি ভবনটিতে। পুরো ভবনটির ছাদ ও দেয়ালে শেওলা ও ময়লা জমে জরাজীর্ন হয়ে পড়েছে। রুমের ভিতরে ছাদের আস্তর খসে খসে পড়ছে। দরজা, জানালাগুলোও বেহাল দশা।
ছাদের উপর শ্যাওলা জমে সেখানে বিভিন্ন ধরনের গাছপালা জন্ম নিয়েছে। টয়লেটটিও ব্যবহার অনুপোযোগী। ভবনের ভিতরে সেবা প্রার্থীদের গাদাগাদি। ভবনটির সামনে আশপাশ এলাকায় ময়লা আবর্জনার স্থুপ। সচীব ও উদ্যোক্তাদের কক্ষে ছাদের আস্তর খসে খসে পড়ছে। ভবনটিতে অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই ইউনিয়নে সকল সেবা কার্যক্রম চালাচ্ছেন চেয়ারম্যান, সচিব ও মেম্বারসহ স্থানীয় সেবা গ্রহীতারা।
রুম সংকটের কারণে দৈনদিন কাজের পাশাপাশি গ্রাম আদালতে বিচারিক কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে নানা বেগ পেতে হচ্ছে জনপ্রতিনিধিদের।
এই ভবনে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ছাড়াও পাশে আরেকটি জরাজীর্ন দুইটি টিনসেট ভবন পরিত্যক্ত অবস্থা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। একটি ভবন প্রানী সম্পদ কার্যালয় , অন্যটি কৃষি বিষয়ক পরামর্শ কেন্দ্র।
মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. রিপন হোসেন চমক নিউজকে বলেন, বর্তমানে যে জায়গাটিতে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন রয়েছে এই জায়গাটি ব্যক্তি মালিকানাধীন।
জায়গাটি লিখে নেয়ার জন্য আমি আমার ব্যক্তিগত অর্থ থেকে ৪ লক্ষ টাকা বাজেট দিয়েছি। ঈদের পর জায়গাটা রেজিস্ট্রি করে সরকারকে বুঝিয়ে দিবো। এরপর এখানে ইউনিয়ন পরিষদের কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন করবো।
স/এষ্

