ঢাকাবুধবার , ১ জানুয়ারি ২০২৫
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

মুন্সীগঞ্জে আশ্রয়ণ প্রকল্পে চলছে হাত বদল বাণিজ্য

চমক নিউজ বার্তা কক্ষ
জানুয়ারি ১, ২০২৫ ১২:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মুন্সীগঞ্জে আশ্রয়ণ প্রকল্পে চলছে হাত বদল বাণিজ্য

এম.এম.রহমান,মুন্সীগঞ্জ ।। মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরের রূপসী বাংলা আশ্রয়ণ প্রকল্পে ২শ পাকা ঘর নির্মাণ করে বিগত শেখ হাসিনা সরকার। ওই সময় স্বজন প্রীতির মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়া হয় অধিকাংশ পাকা ঘর । যার কারণে বহু গৃহহীন পরিবারের ঠাঁই মিলেনি আশ্রয়ণ প্রকল্পে। যাদেরকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো তারা এখন সেখানে থাকে না।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি,অনেক ঘরেই এখন ঝুলছে তালা। টাকার বিনিময়ে ঘরগুলো হাত বদল হয়েছে একাধিকবার। হাত বদল হওয়া ঘরগুলোতে এখন অন্য লোকজন থাকছেন। পতিত হাসিনা সরকার মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করেছিলো।

কিন্তু মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নেই রয়েছে অর্ধ শতাধিক পরিবার। যারা এখনও সরকারি রাস্তায়, অন্যের জমিতে ঘরে তুলে বসবাস করছেন। চিতলিয়া বাজারের রজতরেখা নদীর পূর্ব প্রান্তে সৈয়দপুর সড়কে রাস্তার উপর প্রায় ৪০ বছর ধরে অর্ধ শতাধিক পরিবার বসবাস করছেন। এখনও তারা সেখানে বসবাস করছেন ওই সড়কে বসবাসকারী ৩টি পরিবার সরকারি পাকা বরাদ্দ পেয়েছে।

বাকীরা পাকা ঘর বরাদ্দ পাওয়ার জন্য আবেদন করে ঘুরেছেন মাসের পর মাস । কিন্তু তাদের ভাগ্যে জোটেনি সরকারি পাকা ঘর জানাগেছে, ইউনিয়নটির ভাসানচর এলাকায় রূপসী বাংলা প্রকল্পে ২শ পরিবারকে পাকা ঘৰ বুঝে দেয়া হয় প্রায় ৩ বছর আগে। শুরু থেকে এসব ঘরে যারা প্রকৃত গৃহহীন পরিবার তারাই এখন সেখানে আছেন। আর স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়া ঘরগুলোতে থাকছে না কেউ।

অনেকে মাঝে মধ্যে যাওয়া আসা করলেও স্থায়ীভাবে তারাই কেউ থাকে না সেখানে। আশ্রয়ণ প্রকল্পটিতে ২শ ঘরের মধ্যে ১শ ঘরে আছেন গৃহহীন পরিবারগুলো। ৭০টি ঘরে নিয়মিত বসবাস করছে না কেউ। ৩০টি ঘর হাত বদল হওয়াতে সেখানে ঘর বরাদ্দ না পাওয়া ব্যক্তিরা বসবাস করছেন।

রূপসী বাংলা প্রকল্পের বিভিন্ন গলিতে গঠন করা হয়েছে কমিটি। সেই কমিটির লোকজন এখন টাকার বিনিময়ে খালি ঘরগুলোতে নতুন অবৈধ মানুষজনদেরকে থাকতে দিচ্ছে। সরকার যারা ঘর বরাদ্দ পেয়েছে তাদেরকে দলিল বুঝিয়ে দেয়নি ।সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে হাত বদলের বাণিজ্য চলছে লেখানে। ঘরে থাকেনা এমন অযহাতে অনেক পরিবারকে বের করে দেয়া হচ্ছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী বিলাল ফকির বলেন, বরাদ্দ পাওয়া ঘর টিকিয়ে রাখতে অনেক পরিবার সেখানে
যাওয়া আসা করেন। তিনি প্রথম তার শ্বাশুড়িকে বরাদ্দ দেয়া ঘরে ছিলো। সেখান থেকে ওই ঘরটি কেড়ে নেয়ার
পর তিনি ২০ হাজার টাকা বিনিময়ে অন্য একটি পাকা ঘর বুঝে পেয়েছেন।

এছাড়াও আশ্রয়ণ প্রকল্পের একাধিক বাসিন্দা বলেন, এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রকৃত ভূমিহীন মানুষদেরকে ঘর দেয়া হয়েছে তারাই এখন সেখানে থাকছে।

যারা নিয়মিত থাকছে না তাদের ঘরগুলো বার বার টাকার বিনিময়ে হাত বদল হচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ পাওয়া (অহিদা বেগম) ও সেফালি বেগম বলেন, ঘর বরাদ্দ পেয়ে তারা পূর্বের জায়গায় বসবাস করছেন। তাদের দাবি, মাঝে মধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাকা ঘরে যাওয়া আসা করেন। না গেলে পাকা ঘরটি হারাতে হবে এই ভয়ে তাদের মতোই অনেকে যাওয়া আসা করেন।

সড়কে বসবাসকারী ভূমিহীন একাধিক নারী জানান, সরকারি ঘর বরাদ্দ পাওয়ার জন্য তারা আবেদন করেছিলো। অনেক ঘোরাঘুরি করেও তারা ঘর পায়নি । যার কারণে তারা এখনও সরকারি সড়কের পাশে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন ইউসুফ ফকির নামের এক গৃহহীন ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, বার বার আবেদন করে পাকা ঘর পাইনি। অন্যের বাড়ীতে অন্যের ভাঙা ঘরে থাকি। যাদের থাকার জায়গা নেই তাদের আশ্রয়ণ প্রকল্পে জায়গা হয়নি।

আর যাদেরকে পাকা ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তারা সেখানে থাকে না। তাহলে ঘরগুলো কাদেরকে দেয়া হলো?স্থানীয়দের দাবি, সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে আশ্রয়ণ প্রকল্পে যেসকল অবৈধভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে বের করে দিয়ে প্রকৃত গৃহহীন পরিবারগুলোকে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) মাহবুবুর রহমান বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের সেখানে।
থাকার কোন সুযোগ নেই বরাদ্দ ছাড়া ঘরগুলোতে কেউ থাকতে পারবে না। যারা অনিয়মের মাধ্যমে ঘরে উঠেছে
তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছি।

তিনি আরোও বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের কমিটির লোকজনদেরকে শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কাউকে ঘর হস্তারম্ভর বা কাউকে ঘর থেকে বের করে দেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়নি। এখনও যারা আশ্রয়ণহীন রয়েছে তাদেরকে আমরা পূনর্বাসনের চেষ্টা করবো।

স/এষ্