মধ্যনগর আওয়ামীলীগ সমাবেশের প্রতিক্রিয়া
মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সারা দেশেরন্যায় বিএনপি জামাতের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে,উন্নয়ন শোভাযাত্রা ও শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩১শে জুলাই সোমবার বিকেলে শোভাযাত্রাটি মধ্যনগর বাজার পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে, বাজারের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের চত্বরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শান্তি সমাবেশে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন নুরী তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাসেল আহমেদ।একাধিক নেতৃবৃন্ধের অভিযোগ রয়েছে রাসেল আহম্মেদ ছিলেন সাবেক উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং তিনি সদ্য আওয়ামীলীগ কর্মী।
এতে করে আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি সদসাবেক চেয়ারম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার দেবল ও সাংগঠনিক সম্পাদক অনুজ কান্তি দে সহ অনেককেই আলোচনা সভায় বক্তব্যের সুযোগ দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য-সাবেক চেয়ারম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার দেবল বলেন,গত কালের শান্তি সমাবেশের পরে অনেকেই আমাকে কল করে রাসেল আহম্মেদ এর আওয়ামী লীগের যোগদানের বিষয়টি জানতে চেয়েছন। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দের মধ্যে সহ সভাপতি সজল কান্তি সরকার ও শ্রমসম্পাক উপানন্দ সরকার এর নিন্দা জানিয়েছেন।
সজল কান্তি সরকার আরো বলেন,রাসেল আহম্মেদের আওয়ামী লীগে যোগদানের বিষয়টি আমি লোক মুখে শুনেছি।দাপ্তরিক চিঠি অথবা আমাদের দলীয় কোন মিটিংয়ে তাকে আওয়ামী লীগের সদস্য পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় নি।যদি সে আওয়ামী লীগের সদস্য হয়েও থাকে অনেক সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে রেখে তাকে উপস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া কোন দূরবিসন্ধি কি না ভাবনার বিষয়?
সাবেক বিএনপির নেতা রাসেল আহমেদের ঐসময়ের রাজনৈতিক কিছু ছবিও তুলে ধরেন।বিষয়টি সোসাল মিডিয়া ফেসবুকের মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে একাধিক ফেসবুক আইডি থেকে। মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সদস্য সঞ্জিব রঞ্জন তালুকদার টিটু বলেন,গতকালের শান্তি সমাবেশে যা হয়েছে তা অত্যান্ত দুঃখজনক।
সমাবেশে অনেক সিনিয়র ও সাবেক ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ থাকার পরেও একজন সদ্য অনুপ্রবেশকারীকে দিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনা ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দদেরকে যথাযথ সম্মান না দেওয়া মোঠেও কাম্য নয়।দলের মধ্যে কুন্দল সৃষ্টি করার জন্যেই এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হতে পারে।
মধ্যনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃকুতুবউদ্দীন তালুকদার জানান প্রকৃত আওয়ামী লীগ কর্মীদের বাদ রেখে বিএনপি থেকে আসা নব্য আওয়ামীলীগ দিয়ে গতকালের সমাবেশ সঞ্চালনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংগঠনের জন্য খুবই অশুভনীয়।
মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার তাঁর নিজস্ব ফেসবুক প্রোফাইল থেকে শান্তির মিছিলের শ্লোগানের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মধ্যনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ সরকার বলেন,রাসেল আহমেদ আওয়ামীলীগের সদস্য যার ডকুমেন্ট রয়েছে।এবং সমাবেশের আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ও দলের সকল দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দকে মোবাইলে জানানো হয়েছে। কিন্তু অনেকেই কি কারণে জানি না আমাদেরকে অসহযোগিতা করেছে। এবংকর্মসূচির পরিচালনা আমিই করেছি।বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রাসেল আহম্মেদ ও চামরদানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর খসরুর সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্দেশানুযায়ী প্রোগ্রাম সফল হয়েছে।
স/বি

