ঢাকাশুক্রবার , ১২ আগস্ট ২০২২
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

বাজার নিয়ন্ত্রণে চাই সময়োপযোগী পদক্ষেপ

চমক নিউজ বার্তা কক্ষ
আগস্ট ১২, ২০২২ ৫:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাজার নিয়ন্ত্রণে চাই সময়োপযোগী পদক্ষেপ

বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রথমত সরকারের নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের দাম কমে গেলে সরকার আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে উৎপাদকদের স্বার্থ রক্ষা করে থাকে। একইভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে আমদানি শুল্ক কমিয়ে বাজার সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব। তবে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সরকারের নীতিগত সহায়তা যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কম দামে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকার টিসিবির মাধ্যমে সেটি করেও থাকে। বর্তমানে যেভাবে চালসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে চলেছে, তাতে টিসিবির বিক্রয় কার্যক্রম শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও বিস্তৃত করতে হবে।

সরকারকে মনে রাখতে হবে, করোনাকালে শহর ও গ্রামে উভয় এলাকার সাধারণ মানুষের আয় কমে গেছে। তদুপরি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকলে তাঁদের খেয়ে–পরে বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি বোধে নিয়মমাফিক বৈঠক করলেই হবে না; অবিলম্বে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে।

দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম আকাশছোঁয়া। পেঁয়াজ, মরিচ, ভোজ্য তেলের দামের সাথে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সকল অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। তেমন বিশেষ কোনো কারণ ছাড়াই কিছুদিন পরপর সকল জিনিসের দামের এমন ঊর্ধ্বগতি প্রায়ই দেখা যায়।

বিশ্বের অনেক দেশে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে মাঝেমধ্যে ঘটে যাওয়া নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারী এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার খবর চোখে পড়ে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারো সবকিছু পূর্বের জায়গায় চলে যায়। কিন্তু আমাদের দেশে কোনো কারণ ছাড়াই নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা যায় এবং সেটা একরকম স্থায়ী রূপেই রয়ে যায়। বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ব্যতীত নিন্মগতির কোনো খবর আমাদের দেশে।

বাজারের উপর সরকারের তেমন কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ইস্যু, যেমন বাজেট, হরতাল, ঈদ, পূজা, প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সামনে রেখে ইচ্ছামত নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায়। একদিকে, ব্যবসায়ী মহল সবসময় সরবরাহে ঘাটতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির কথা বলে, অপরদিকে দেশের একদল অসাধু ব্যবসায়ী নিজেদের সুবিধামত বিপুল পরিমান পণ্য গুদামজাত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে সিন্ডিকেট গঠন করে ইচ্ছামত পণ্যের মূল্য হাঁকিয়ে বসে।

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির অজুহাত ও ব্যবসায়ীদের আচরণ একটা কমন রীতিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের কথার কোন সত্যতা যাচাই না করে তাদের মনগড়া আরোপিত বর্ধিত মূল্যই বাজারে থেকে যায়। একরকম ইচ্ছামত নিত্যপণ্যের উপর আরোপিত বর্ধিত মূল্যের জন্য যেসব দাবি করা হয় সেগুলো ভিত্তিহীন। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বর্ধিত মূল্য আদৌ যুক্তিযুক্ত কিনা সেটা যাচাই করার মতো কোন মনিটরিং টিম কখনো দেখা যায় না। এহেন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী ক্রেতারা ব্যবসায়ীদের কাছে একরকম জিম্মি।

পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় ধনীরা দিন দিন ধনী হবে এবং গরীবেরা আরও গরিব হবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কোন মানুষ যেন অনাহারে না থাকে সেদিকে অবশ্যই দেশের নীতি নির্ধারকদের সজাগ দৃষ্টি দেওয়া উচিৎ। সকল বিষয়াদি চিন্তা করে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারকে প্রয়োজনে অনেক বেশি কঠোর হতে হবে। অতিলোভী অসাধু আড়ৎদার ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। মজুতদারদের মজুতদারি শক্ত হাতে দমন করতে হবে।

প্রতিটি বাজারে নিত্যপ্রয়জনীয় জিনিসপত্রের মূল্য তালিকা টাঙানোর ব্যাপারে মালিক সমিতি বা বনিক সমিতির প্রতি কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে। মূল্য তালিকায় নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে কি না, সেটি পর্যবেক্ষণের জন্য সকল বাজারে দ্রব্যমূল্য মনিটরিং কমিটি গঠনের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে বাজার মনিটরিং করতে হবে।

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি), বাংলাদেশের একটি রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক সংস্থা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আপদকালীন মজুদ গড়ে তুলে প্রয়োজনীয় সময়ে ভোক্তা সাধারণের নিকট সরবরাহ করার মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক ভুমিকা রাখতে টিসিবি’র যাত্রা।

কিন্তু, টিসিবির মাধ্যমে গরিব মানুষের জন্য যে খাদ্যপণ্য বিক্রি করা হয়, তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল, যার কারণে কতিপয় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখতে প্রতিষ্ঠানটি হিমশিম খায়। এই টিসিবি পণ্যের সহজলভ্যতা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ করতে হবে। পরিকল্পিতভাবে চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের সহজলভ্যতা ও সরবরাহ নিশ্চিত করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

আমাদের দেশের কৃষকদের কখনো নায্যমূল্য দেওয়া হয়না। তারা সর্বক্ষেত্রেই শোষিত ও নিপীড়িত। অথচ, কৃষকরাই আমাদের দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। একদিকে মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য অন্যদিকে মালিকপক্ষের বিভিন্ন সিন্ডিকেট, সবসময় কৃষকদের নায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে আসছে। কৃষি প্রধান দেশে খাদ্যের সংকটে কেন পড়তে হবে? কেন অন্য দেশ থেকে পণ্য আমদানি করতে হবে? ভরা মৌসুমে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের মজুদের অভাবে নামে মাত্র মূল্যে বিক্রি করে।

অন্য সময়ে আবার সেই একই পণ্য বিদেশ থেকে বাড়তি দামে আমদানির জন্য তীর্থের কাকের মত চেয়ে থাকতে হয়। বিদেশীদের কাছে ধরনা দিয়ে বসে থাকার চেয়ে কৃষকদের পণ্য নায্যমূল্যে কিনে সংরক্ষণ করলে একদিকে যেমন কৃষকরা বেঁচে যাবে, অন্যদিকে নিজেরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। কৃষকদের বাঁচিয়ে তাদের নায্য পাওনা দিলে যেমন, খাদ্যে জোগান আসবে, আবার ঠিক তেমনি অর্থনৈতিক সংকটজনিত সামঞ্জস্যহীনতা দূর হবে।

লেখক

আবুল কালাম আজাদ

সাংবাদিক ও লেখক

স/এষ্