বনানীত ও শাহজাহানপুরে জোড়া খুন, আটক-৩, আহত-৬
মনির হোসেন জীবন : রাজধানীর বনানী ও শাহজাহানপুরে পৃথক জোড়া খুনের ঘটনায় এক কিশোরসহ দুই জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় নারীসহ আরও ৬ জন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন, কিশোর মো. মারুফ (১৬) ও মো. আল-আমিন (৩১)।
নিহত আল আমিন কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার মৃত মুসলিম উদ্দিনের পু্ত্র এবং মারুফ কুমিল্লা জেলার মেঘনা থানার জয়পুরা গ্রামের মো, মাসুম মিয়ার পু্ত্র।
বনানী থানা পুলিশ বলছে, . আল-আমিন খুনের ঘটনায় প্রাথমিক জিঙাসাবাদের জন্য পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। তবে, তাৎক্ষণিক ভাবে তাদের নাম জানা যায়নি। নিহত আল আমিন বনানীর ওয়ারলেস গেট এলাকায় এবং মারুক শাহজাহানপুরের মুগদা গলির মানিক নগর এলাকার বসবাস করতো।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন- আমজাদ হোসেন (৩৫), কলেজ ছাত্র মাসুদ আলম (১৮), নুর আলম (৩০) ও জলি আক্তার (৪০), সুমি বেগম (৩৫), নাসির হোসেন (৪০), ডালিয়া বেগম (৪০)। এঘটনায় আহত ছয় জনকে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসা সহ ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তি ও শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলেজ মাঠ এলাকায় পৃথক এসব ঘটনা ঘটে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ওসি) মো. বাচ্চু মিয়া দুই জন মারা যাবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও আহতরা জানান, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে বনানীর কড়াইল বস্তিতে পূর্ব শত্রুতার জের হিসেবে স্হানীয় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় মো. আল-আমিন (৩১) নামে এক যুবক ছুরিকাঘাত হয়ে গুরুতর আহত হন। এছাড়া এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সাতজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আল-আমিনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী কায়েস ও আহত মাসুদ আলম জানান, কড়াইল বস্তিতে মুদি দোকানের ব্যবসা ছিল আল আমিন। এশার নামাজ পড়তে নূরানী মসজিদে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে কে বা কারা তাকেসহ আরও কয়েকজনকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। খবর পেয়ে আল আমিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আল-আমিনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯ টার দিকে শাহজাহানপুরের রেলওয়ে কলেজ মাঠ এলাকায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে মো. মারুফ (১৬) নামের এক কিশোর নিহত হয়েছে।
পুলিশ বলছে, নিহত মো. মারুফ পরিবারের সঙ্গে শাহজাহানপুরের মুগদা গলির মানিক নগর এলাকায় বসবাস করতো। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত পৌনে ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মারুফের পিতা মো, মাসুম মিয়া জানান, বুধবার রাতে আমরা খবর পেয়ে স্হানীয় রেলওয়ে কলোনি কলেজমাঠ এলাকায় গিয়ে দেখি রক্তাক্ত অবস্থায় আমার ছেলে মারুফ পড়ে আছে । পরে তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মারুফের মামি শিউলি আক্তার জানান, মারুফের মা সুমি আক্তার মারুফের জন্মের সময় মারা যায়। বাবা মো. মাসুদ বিয়ে করে অন্যত্র চলে যায়।
নিহতের পরিবারের লোকজন জানান, কে বা কারা আমার ছেলেকে ছুরিকাঘাত করেছে এ বিষয়ে আমি এখনও পর্যন্ত কোন কিছু জানি না। বলতে ও পারছিনা। নিহত মারুফ রাজারবাগ এলাকায় একটি ওয়ার্কশপে কাজ করতো।
ওসি মো. বাচ্চু মিয়া জানান, ময়নাতদন্তের জন্য নিহত দুই জনের মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা আছে। পৃথক ঘটনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা এবিষয়ে আইনগত ব্যবস্হা গ্রহন করবেন বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
অপরদিকে, বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরে আজম মিয়া জানান, করাইল বস্তিতে পূর্ব শত্রুতা ও বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মারামারির ঘটনায় আল-আমিন (৩১) নামে এক জন মারা গেছেন। এঘটনায় নারীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্হলে গিয়ে পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
ওসি জানান, এঘটনায় প্রাথমিক জিঙাসাবাদের জন্য পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। এব্যাপারে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদেরকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে বলে
জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
স/এষ্

