প্রত্যাশিত মূল্য পাবে কিনা এই দু:শ্চিন্তায় কেন্দুয়ার গরুর মালিকেরা
রাখাল বিশ্বাস, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) –
“অই ডাকে শুন ধেনু ঘন ঘন/ধবলিরে আনো গোহালে/ যখন আঁধার হবে বেলাটুকু পোহালে”/ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার এই পংতিগুলোর মতই যেন প্রতিদিন তাড়া করে গরু গোহালে নেওয়ার এমন দৃশ্য নেত্রকোনা কেন্দুয়ার সৌখিন এবং সিজনাল গরু লালন-পালনকারী ব্যাবসায়ীদের।
তারা সারা বছর গরু পালন করেন কুরবানি ঈদে বিক্রি করে কিছু লাভবান হওয়ার আশায়। গরুর এমন অনেক মালিক আছেন যারা প্রতিদিনের গোখাদ্য ক্রয় করার সামর্থ থাকে না। তার পরও ধার- দেনা করে গরু পালন করছেন অনেকেই। কিন্তু প্রত্যাশিত মূল্য পাবেন কিনা এবার এই দু:শ্চিন্তায় আছেন তারা। তেমনই গরুর মালিক কেন্দুয়া পৌরসভাধীন ওয়াশেরপুর গ্রামের আব্দুস ছালাম ও তরিকুল ইসলাম। তারা ব্রাহমা প্রজাতির দুই ষাঁড় গরুর মালিক।
আব্দুস ছালাম জানান, তার গরুটির নাম নিরব। ৬ বছর বয়সের গরুটির ওজন প্রায় ২০ মন। গরুটিকে তিনি প্রতিদিন খড়, ভূষি, কুড়া এবং কাঁচা ঘাস খাওয়ান। এতে দৈনিকি ৪শ টাকার মত খরচ হয়। গত কুরবানি ঈদে ৩ লাখ টাকা দাম হয়েছিল। তিনি ৬ লাখ টাকা দাম হাঁকছেন। করোনার কারণে ন্যায্যমূল্য পাবেন কিনা সে আশংখা করছেন।
একই গ্রামের তরিকুল ইসলামের ব্রাহমা প্রজাতির সুলতান নামে ষাঁড় গরুটির ওজন ২৫ মন বলে জানান। তরিকুল বলেন সুলতানের বয়স প্রায় ৪ বছর। সুলতানের মতই তার হাব-ভাব। দৈনিক ৪শ টাকার খাবার খাওয়াই। গত রোজা ঈদে ৩ লাখ টাকা দাম হয়েছিল। ৫ লাখ টাকায় বিক্রির আশা করছেন তিনি। সুলতানকে সার্বক্ষনিক দেখাশুনা করেন তরিকুলের স্ত্রী লিজা আক্তার এবং তার বালক ছেলে। তিনি বলেন করোনার কারণে হাট না বসলে লোকশানের সম্ভাবনা বেশি। তাই অনলাইনে বিক্রির প্রত্যাশা করছেন।
এদিকে কান্দিউড়া গ্রামের মঞ্জু মিয়া জানান, তার ব্রাহমা জাতের গরুটির নাম কালাচান। এটির ওজন ১০-১২ মণ হবে। কুরবানি ঈদে এখনও হাট বসার লক্ষন দেখছি না। তাই অনলাইনে বিক্রি করতে চাই। তিনি বলেন ২ লাখ টাকা হলে বিক্রি করে দেব। কেন্দুয়া উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: খোরশিদ দেলোয়ার জানান, কেন্দুয়া উপজেলা ছাগল ভেড়াসহ ১৩ হাজার ৩৩৪টি গরু কুরবানির জন্য প্রস্তুত। ১ হাজার খামারি তাদের গরু মোটা-তাজা করণ করে উপযুক্ত করেছেন। ঈদ প্রায় এগিয়ে এলেও এখনও বেঁচা-বিক্রি শুরু হয়নি।
এ ব্যাপারে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মইনউদ্দিন খন্দকার জানান, উপজেলায় ইজারাকৃত ২৫টি হাট-বাজার রয়েছে। এগুলোতে পশু বেঁচা-কেনাও হয়। কিন্তু করোনার কারণে পশুর হাটগুলো বন্ধ রয়েছে। আগামী ১৪ জুলাই এর পর পশু হাটের অনুমতি দিতে পারে সরকার। তবে অনলাইনে বেচা- কেনা করতে পারেন মালিকেরা।
স/বি

