টঙ্গীবাড়ীতে রেলিং বিহীন ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে যানবাহন চলাচল
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি- মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আব্দুল্লাপুর বাজারের পশ্চিম পাশে পুরাতন লঞ্চঘাট এলাকায় যাতায়াতে খালের উপর নির্মিত ব্রিজটি সংস্কার অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রেলিংগুলো ভেঙে যাওয়ার কারণে ব্রিজটিতে এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
ঝুঁকি নিয়েই মানুষ যানবাহনে চলে ব্রিজটি দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ব্রিজটি সংস্কারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জনসাধারণকে বার বার প্রতিশ্রুতি দিলেও বিজ্র এবং ব্রিজের সাথে সংযুক্ত সড়কটি সংস্কারে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। স্থানীয় সুত্র জানায়, প্রায় ৩০ বছর আগে এই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিলো। তৎকালীন সময় থেকেই গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটি পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আব্দুল্লাপুর পুরাতন লঞ্চঘাট, সলিমাবাদ এবং বেতকা এলাকায় যাতায়াত করছেন।

দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে সংস্কার অভাবে ব্রিজটির রেলিংগুলো খসে খসে পড়ছে। বর্তমানে ব্রিজটির ৭০শতাংশ রেলিং ধসে যাওয়ার পাশাপাশি ব্রিজটির উপরে বিভিন্ন স্থানে ছোট- বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিনিয়ত ব্রিজটির কাঠামো থেকে আস্তর খসে খসে পড়ছে। ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভারী কোনো যানবাহন চলাচল করছেনা। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ব্রিজটির বেশকিছু স্থানে রেলিং কোন অস্থিত্ব নেই। যেখানে রেলিংআছে সেসব রেলিংগুলোর আস্তর খসে খসে পড়ে রডগুলো বেরিয়ে আছে।
অনেক স্থানে ধসে পড়া রেলিংয়ের রডগুলো উধাও হয়ে গেছে। অটোমিশুক সহ অন্যান্য হালকা যানবাহন চলাচল করলেও অধিকাংশ মানুষ পায়ে হেঁটেই ব্রিজটি পারাপার হচ্ছেন। এর প্রধান কারণ হলো ব্রিজটির পশ্চিম পাশে থাকা সড়কটির বেহাল অবস্থা। শুধু তাইনয়, ব্রিজটির এ্যপ্রোচসড়গুলোও বেশ খাড়া আর বিপদজনক। আব্দুল্লাপুর বাজার থেকে ব্রিজটিতে যেকোন গাড়ী ওঠানামা করাও বেশ ঝুঁকি।
ব্রিজটি এবং এ্যাপ্রোচ সড়কগুলো সংস্কার না করায় ঝুঁকি জেনেও বিকল্প সড়ক না থাকায় এই ব্রিজটিই ব্যবহার করছেন এলাকার মানুষ। তাছাড়া ব্রিজটি যে বহু বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিলো তার প্রমান ব্রিজের দিকে দৃষ্টিপাত করলেই বুঝা যায়। ব্রিজের নিচের অংশে আস্তর খসে খসে পড়ছে। স্থানীয়দের সাথে কথা হলে তারা জানান, এরশাদ সরকারের আমলে ব্রিজটি নির্মার্ণ করা হয়েছিলো। দীর্ঘদিন সংস্কার না করার রেলিংগুলো খসে খসে পড়ে যাচ্ছে। ব্রিজের উপর বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। চোখের সামনে ব্রিজটির বেহাল দশা দেখেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রশাসন ব্রিজটি সংস্কারে কার্যকরি উদ্যোগ নিচ্ছেনা।
তারা আরো জানান, ব্রিজটি দিয়ে সলিমাবাদ, পুরাতন লঞ্চঘাট এবং বেতকা এলাকার মানুষের যাতায়াতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কার অভাবে ব্রিজটি দিনের পর দিন আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এই ব্রিজটি ভেঙে এখানে একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা খুবই জরুরি। তাতে এলাকার মানুষ যাতায়াতে শতভাগ সুবিধা পাবে। একাধিক পরিবহন চালকরা জানান, প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই ব্রিজটি পার হতে হচ্ছে। রেলিং ধসে যাওয়ার পাশাপাশি ব্রিজটির বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দুইটি গাড়ী একই সময়ে ব্রিজটিতে ওভারটিকিং করা নিরাপদ নয়। গাড়ী একপাশ দিয়ে প্রবেশ করে । সেই গাড়ী অপর প্রান্তে গেলে আবার অপর প্রান্তে গাড়ী ব্রিজটি পারাপার হন। তাছাড়া ব্রিজটির এ্যাপ্রোচ সড়কগুলোও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে ব্রিজটির পশ্চিম পাশে পুরাতন লঞ্চঘাট পর্যন্ত রাস্তাটিতে ব্যাপক খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
ব্রিজ এবং রাস্তা সব খানেই ভোগান্তি বেড়েছে। দ্রুত সময়ে ব্রিজ এবং ব্রিজের সাথে সংযুক্ত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন যাত্রী, পরিবহন চালক ও স্থানীয়রা।
ক্ষতিগ্রস্ত বিজ্রটি সংস্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো.শাহ মোয়াজ্জেম বলেন, অভ্যন্তরিন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের অধিনে এই ব্রিজটি রয়েছে। প্রকল্পটিতে বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এখনও বাজেট পাশ হয়নি। বাজেট পেলে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্রিজটিতে সংস্কার কাজ করা হবে।

