কেরাণীগঞ্জে আন্তঃজেলা ইজিবাইক চোর চক্রের মূলহোতা কবিরসহ আটক-৩
নিজস্ব প্রতিবেদক ।। রাজধানী ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ইজিবাইক চোর চক্রের অন্যতম মূলহোতা কবিরসহ তিন জনকে আটক করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
র্যাব সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইজিবাইক চুরির ঘটনা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন চোরচক্র সংঘঠিতভাবে গরিব, অসহায় ও সাধারণ মানুষের একমাত্র আয়ের উৎস ইজিবাইক চুরি করে তাদের ক্ষতি সাধন করে আসছে।
সূত্র বলছে, এলক্ষে র্যাব-১০ এর একটি দল গত ২৬ মার্চ ২০২৪ তারিখ নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার ও বন্দর এলাকায় একাধিক স্হানে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে চোরাইকৃত ১৪টি ইজিবাইক উদ্ধার পূর্বক ইজিবাইক চোরচক্রের ৫ জনকে গ্রেফতার করে।
আজ সোমবার দুপুরে র্যাব-১০ এর সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এম. জে. সোহেল এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, এ লক্ষে গতকাল রোববার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আনুমানিক বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে র্যাব-১০ এর একটি দল ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ এলাকায় একটি অভিযান চালায়।
এম. জে. সোহেল জানান, অভিযানকালে র্যাব সদস্যরা আন্তঃজেলা ইজিবাইক চোর চক্রের অন্যতম মূলহোতা মোঃ কবির (৫০), তার সহযোগী মোঃ দুলাল শিকদার (৫১) ও মোঃ সেলিম (৪১)সহ তিন জনকে আটক করে।
এ সময় তাদের নিকট থেকে চোরাইকৃত ৩টি ইজিবাইক ও ১টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
নারায়নগঞ্জ ও বরগুণা জেলায় তাদের গ্রামের বাড়ি বলে জানা গেছে।
র্যাব বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় গেছে, আটককৃত মোঃ কবির ইজিবাইক চোর চক্রটির মূলহোতা এবং দুলাল শিকদার কবিরের প্রধান সহযোগী। দুলাল শিকদার ঢাকার কেরাণীগঞ্জ, শ্যামপুর ও যাত্রাবাড়ীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে টার্গেট খুঁজে ও ইজিবাইক চুরের জন্য সুবিধাজনক স্থান নির্ধারণ করে কবিরকে জানায়।
অতঃপর কবির দুলালকে নিয়ে তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী যাত্রাবাড়ী, ধোলাইপাড়, জুরাইন, হাসনাবাদ, কদমতলীসহ বিভিন্ন ইজিবাইক স্ট্যান্ডে গিয়ে তাদের পূর্বপরিকল্পিত ও সুবিধাজনক স্থানে যাওয়ার কথা বলে ইজিবাইক ভাড়া করে।
এতে কোন ইজিবাইক চালক ওই স্থানে যেতে অস্বীকৃতি জানালে দুলাল ও শিকদার তাদেরকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অধিক ভাড়া দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রাজি করিয়ে নিয়ে যেত। অতঃপর তাদের সুবিধাজনক স্থানে পৌঁছামাত্র দুলাল ভাড়া দেওয়ার জন্য বিভিন্ন তালবাহান করে বিলম্ব করতে থাকে এবং অপরদিকে কবির বিভিন্ন চেতনানাশক ঔষধ ব্যবহার করে ওই ইজিবাইক চালককে অজ্ঞান করে ফেলে রেখে তার ইজিবাইক নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেত।
র্যাবের এ ককর্মকর্তা জানান, পরবর্তীতে কবির ও দুলাল ওই চোরাইকৃত ইজিবাইক তাদের অপর সহযোগী মোঃ সেলিমের নিকট হস্তান্তর করত। সেলিম চোরাইকৃত বিভিন্ন ইজিবাইক তার নিকট রেখে সেগুলোর রং, আকৃতি ও কাঠামো পরিবর্তন করে পার্শবর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জসহ দূরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ৩০/৪০ হাজার টাকায় বিনিময়ে বিক্রি করত। বিক্রয়লব্ধ অর্থ কবির, দুলাল ও সেলিম তারা সবাই মিলে ভাগ করে নিত।
র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, কবিরের নেতৃত্বে চক্রটি প্রায় ১ বছর যাবৎ ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে ইজিবাইক চুরি করে সেগুলোর রং, আকৃতি ও কাঠামো পরিবর্তন করে অনত্র বিক্রি করে আসছিল। এক্ষেত্রে তারা তাদের নির্ধারিত টার্গেটকে ফাঁদে ফেলার জন্য নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অধিক ভাড়া দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রাজি করতো। পরবর্তীতে তাদের পরিকল্পিত স্থানে পৌঁছামাত্র বিভিন্ন চেতনানাশক ঔষধ ব্যবহার ইজিবাইক চালককে অজ্ঞান করে ইজিবাইক চুরি করত।
র্যাব বলছে, গ্রেফতারকৃত কবিরের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় ১টি চুরির মামলা এবং গ্রেফতারকৃত সেলিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, মাদক ও হত্যাসহ মোট ৪টি মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।
তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরসহ সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান র্যাবের এ কর্মকর্তা।
স/এষ্

