ঢাকাবুধবার , ১০ মে ২০২৩
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

কংক্রিট গ্রাস করছে হাতিরঝিলের সৌন্দর্য

চমক নিউজ বার্তা কক্ষ
মে ১০, ২০২৩ ৮:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কংক্রিট গ্রাস করছে হাতিরঝিলের সৌন্দর্য

মতিউর রহমান হিরা ।। রাজধানী ঢাকার অন্যতম দর্শনীয় স্থান হাতিরঝিল। নানা নান্দনিকতার আধার এই লেক একদিকে যেমন ধরে রেখেছে অসীম জলরাশি, তেমনি সড়ক ও নৌযোগাযোগেও এগিয়ে রেখেছে নাগরবাসীকে।

হাতিরঝিলের পরিপূর্ণ সুফল পেতে একসময় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবৈধ বিজেএমইএ ভবনও এখন অদৃশ্য। ভবন ভাঙ্গার পর নগরবাসী যখন অপেক্ষায় ঝিলের সৌন্দর্য ফিরে পাওয়ার, ঠিক তখনি শুরু হয় মহাকর্মযজ্ঞ। জলাশয় উমুক্ত করার নামে চলছে বালু ফেলে ভরাটের কাজ। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলা এই কর্মযজ্ঞে এখন পরিপূর্ণ ভরাটের পথে ঝিলের কিছু অংশ।

বালু ভরাট করে আসলে হচ্ছেটা কী? রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে সংযোগ সড়কসহ ৪৬.৭৩ কিলোমিটারের এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে কমলাপুর হয়ে চলে যাবে কুতুবখালী। তবে এক্সপ্রেস ওয়ের দ্বিতীয় পর্বের দ্বিতীয় অংশ তেজগাঁও থেকে মগবাজার যাওয়ার পথে সোনারগাঁও হোটেলের পিছনে হাতিরঝিলের অংশে পড়বে বেশ কয়েকটি পিলার। বর্তমানে চলছে তারই কর্মযজ্ঞ। যদিও এই প্রকল্পের জন্য জলাধারের কোনো ক্ষতি হবে না বলে দাবি প্রকল্প সংশিষ্টদের।

সরেজমিনে সেখানে গেলে কথা হয় প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার সঙ্গে। তিনি বলেন, পত্রিকায় এখন প্রতিবেদন হলে প্রকল্পটার ক্ষতি হবে। এটা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। এইটাকে ইস্যু করে এখন অনেকে না বুঝে বিরোধীতা করবে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে পরিবেশবাদীরা।

অবাধে জলাধার ভরাট করা হলেও এখনো জল ছেড়ে ডাঙার ওঠার অনুমতি পায়নি নির্মতা প্রতিষ্ঠান। ঢাকা দক্ষিণ সিটির আপত্তির মুখে থমকে আছে পান্থকুঞ্জ পার্ক ও মালিবাগ ব্যবহারের অনুমতি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আমাদের চাপে রেখেছে। মালিবাগের পর আমাদের কাজ করতে দিচ্ছে না।

এদিকে চোখের সামনে প্রিয় নগরীর প্রিয় ঝিলের এমন বিপর্যয়ে ক্ষুব্ধ নগরবাসী। আল আমিন নামের রাজধানীর এক বাসিন্দা বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশকে ধ্বংস করে আবার স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। এটা কোনোভাবেই আমাদের কাম্য ছিল না।

জামাল নামের বেসরকারি একজন চাকুরে বলেন, একসময় হাতিরঝিলের বিষফোঁড়া বলা হতো বিজিএমইএ ভবনকে। এখন এলিভেটেড এক্সপ্রেসের রাস্তা কোন ফোঁড়া হয়ে দাঁড়ায় সেটাই দেখার বিষয়।

সেলিম নামের একজন প্রকৃতি প্রেমিক বলেন, ঝিলের এই অবস্থা দেখে অনেক কষ্ট হয়। হাতিরঝিলের যেখানে এলিভেটেড এক্সপ্রেসের রাস্তার কাজ চলছে এখানে জলাধার ধ্বংস করা হয়েছে। এটি না করা হলে সেখানে দাঁড়ালেই ঠান্ডা বাতাস পেতাম।
নানা প্রতিবন্ধকতায় বার বার হোঁচট খাওয়া ও দফায় দফায় সিদ্ধান্ত বদল দেশের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ের নেচার অনুযায়ী সে দ্রুতগতিসম্পন্ন বাস, ট্রাক নিয়ে বাইপাস করার কথা এই শহরকে। তবে সে কেন ছোট ছোট গাড়ি নিয়ে এই মূল শহরে ঢুকবে, মূল শহরে যানবাহনের চাপ সৃষ্টি করবে। এটা হাতিরঝিল ও পান্থকুঞ্জ পার্ক ধ্বংস করবে, সেটা আমাদের কোনো প্ল্যানিং ডকুমেন্টে নেই।

এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ের মূল পরিকল্পনায় নাই। তাহলে কারা এ ধরনের নতুন নতুন বিষয় যুক্ত করে?

এদিকে প্রকল্পের নকশায় হাতিরঝিল ও পান্থকুঞ্জ পার্ক যুক্ত করায়ও উঠেছে নানা প্রশ্ন। রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের শেষ ধাপে এসে আমরা অবগত হয়েছি যে, হাতিরঝিলের এই এলাকায় এ কার্যক্রমটি গ্রহণ করা হবে। কংক্রিটে আচ্ছাদিত হলে হাতিরঝিলের মূল সৌন্দর্য নষ্ট হবে-এটা সত্য।

১৩ হাজার ৮ শত ৫৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরে পরিচালিত এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকের মাষ্টার প্ল্যান ও স্ট্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান থেকেও কোনো মতামত নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নগরবাসীর স্বপ্ন ছিল বিজিএমইএ ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর হাতিরঝিলের দুই অংশের মিলন ঘটবে। যা শুধু জলের আধার নয়, এই জল হয়ে হাতিরঝিলের বৃহৎ অংশে চলাচল করা নৌযান চলে আসবে কারওয়ার বাজারে। ফলে এটা নগরবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে নতুন এই কর্মযজ্ঞ সেই স্বপ্নকে যে ধূলিসাৎ করতে যাচ্ছেÑসেটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

স/এষ্