এডমিড কার্ডের নামে প্রধান শিক্ষকের ৮’শ টাকা আদায়
পিয়াস আহমদ, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনার কেন্দুয়া গড়াডোবা আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের ২০২৩ সালের এসএসসি ও সমমানের প্রত্যেক পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে এডমিট কার্ডের নামে অতিরিক্ত ৮০০ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক মোঃ কামরুজ্জামান ভূঞা, এ মর্মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গড়াডোবা আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মোঃ কামরুজ্জামান ভূঞা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোন রকম নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছে মতো মনগড়া স্কুলের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
অত্র প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা জানায়, আমরা অত্র স্কুলের নির্বাচনী বাছাই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি এবং সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হই। যার ফলে স্কুলের নির্দেশ মোতাবেক ফি দিয়ে আমরা এস এস সি পরীক্ষার ফরম পূরণ করি। এমনকি বিদায় অনুষ্ঠানের জন্যেও আমরা টাকা দিয়েছি। আগামী ৩০ এপ্রিল (রবিবার) এস এস সি পরীক্ষা কত উৎসাহ উদ্দীপনা আমাদের ও আমাদের পরিবারের মাঝে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আমরা এখনো (প্রায় অর্ধেক পরীক্ষার্থী) পরীক্ষার এডমিড কার্ড হাতে পাইনি। বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) আমরা স্কুলে গিয়েছিলাম এডমিড কার্ডের জন্য। কিন্তু গিয়ে দেখি স্কুলের দরজায় তালাবদ্ধ।
তখন প্রধান শিক্ষক স্যারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এডমিড কার্ড নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হলে আমার বাড়িতে প্রত্যেকেই ৮০০ টাকা করে নিয়ে চলে আসো। অন্যথায় এডমিড কার্ড দেয়া হবে না। পরীক্ষার্থীরা আরো বলে, শিক্ষার্থীদের যেকোন প্রয়োজনীয় কাগজ বা স্বাক্ষরের দরকার হলে মোঃ কামরুজ্জামান ভূঞা স্যারের বাড়িতে যেতে হয়, যেন স্যারের বাড়িই স্কুলের অফিস রুম। পরীক্ষার আর মাত্র ১ দিন বাকি, পরিবার থেকেও আমাদের চাপ দিচ্ছে এডমিড কার্ড দেখানোর জন্য কিন্তু দেখাতে পারছি না। আমরা এখন চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। আমরা মধ্যবিত্ত ও নিম্মবিত্ত পরিবারের স্যারকে কোথায় থেকে টাকা দেব।
স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী মোস্তাফিজ উজ্জ্বল বলেন- ঘটনাটি আমিও শুনেছি টাকা চাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ সত্য আমার সাথেও ২০১২ সালে কামরুজ্জামান ভূঞা স্যার এরকমটা করেছিলেন। গড়াডোবা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল আকন্দ জানান, টাকা চাওয়ার বিষয়টি সত্য। আমি নিজেও মর্মাহত হয়েছি। একজন প্রধান শিক্ষকের পক্ষে ছাত্র/ছাত্রীদের কাছে নিয়মবহির্ভূত টাকা চাওয়া সম্পূর্ণ বেআইনী।
গড়াডোবা আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মোঃ কামরুজ্জামান ভূঞার মোবাইল নম্বরে একাধিক বার কল করলে তিনি কল রিসিভ করেননি। কেন্দুয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সাইফুল আলম জানান, তিনি ছুটিতে আছেন, অভিযোগের কথা শুনে অফিস থেকে লোক পাঠিয়েছেন। সত্যতা পেলে আইনী ব্যবস্থা নিবেন।
কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাবেরী জালাল জানান, অভিযোগ পেয়েছেন সত্য, কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক তাঁকে জানিয়েছেন, এডমিট কার্ডের জন্য তিনি টাকা রাখেননি। বকেয়া বাবদ টাকা রাখছেন। ইউএনও আরও জানান, তিঁনি ডিসি (জেলা প্রশাসক) স্যারকে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং কোন পরীক্ষার্থীর এডমিট কার্ড বাবদ কোন টাকা নিলে ওই পরীক্ষার্থীর নাম-ঠিকানা দিলে তিঁনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিবেন।
স/বি

