ঢাকাশুক্রবার , ২৪ ডিসেম্বর ২০২১
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

বোয়ালমারীর ১০ ইউনিয়নের নৌকার অবস্থা নাজুক

চমক নিউজ মফস্বল বিভাগ
ডিসেম্বর ২৪, ২০২১ ১০:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বোয়ালমারীর ১০ ইউনিয়নের নৌকার অবস্থা নাজুক

হাসান মাহমুদ মিলু, বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ১০ ইউনিয়ন আগামী ২৬ ডিসেম্বর ভোট অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সব ইউনিয়নেই আ’লীগের মনোনীত প্রার্থীদের অবস্থান বেশ নাজুক। নৌকার তুলনায় বিভিন্ন ইউনিয়নের বিদ্রোহী ও বিএনপি সমভাবাপন্ন স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অবস্থান অপেক্ষাকৃত পোক্ত।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বিএনপি দলীয় প্রতীকে এই নির্বাচনে অংশ না নিলেও সমভাবাপন্ন স্বতন্ত্র পরিচয়ে নির্বাচন করছেন দলটির ১৪ নেতা। তাদের মধ্যে একজন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান রয়েছেন। অপরদিকে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় আ’লীগের ১৬ মনোনয়ন প্রত্যাশী বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।

বোয়ালমারী সদর ইউনিয়নে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক নির্বাহী সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম হামিদুল বারী ওরফে বরুন মিয়া। ইউনিয়নে তার অবস্থান বেশ শক্ত। উপজেলার সদর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি আ. ওহাব মোল্যা তারার বিপরীতে বোয়ালমারী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন আ’লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল হক শেখ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আব্দুল হক এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। এই ইউনিয়নে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আব্দুল হক এবং বরুন মিয়ার মধ্যে।

গুনবহা ইউপিতে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. সিরাজুল ইসলাম। এই ইউনিয়নে আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা কৃষকলীগের যুগ্ম আহবায়ক কামরুল ইসলাম। ইউনিয়ন আ’লীগের সহ-সভাপতি পদ থেকে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া মো. আমিনুল ইসলাম বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ইউনিয়নেও বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলামের সাথে বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল ইসলামের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

দাদপুর ইউনিয়নে আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সাজ্জাদুর রহমান হাই। অপরদিকে উপজেলা আ’লীগের সদস্য পদ থেকে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া শামীম মোল্যা, ইউনিয়ন আ’লীগের প্রচার সম্পাদক থেকে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া মোশারফ হোসেন ও ইউনিয়ন আ’লীগের সহ-সভাপতি থেকে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া হারুন-অর-রশীদ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ইউনিয়নে আ’লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী শামীম মোল্যা ও মো. মোশারফ হোসেনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

চতুলে ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. কামরুল ইসলাম উজ্জল, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক পদ থেকে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া বিদ্রোহী প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আলিমুজ্জামান বাবলু শরিফের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। অপরদিকে আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া ইউনিয়ন আ’লীগের সহ-সভাপতি খন্দকার মো. আবুল বাশারের অবস্থান বেশ নাজুক।

ঘোষপুর ইউনিয়নে আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া উপজেলা আ’লীগের অর্থ সম্পাদক মো. ফারুক হোসেনের বিপরীতে জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সদ্য অব্যাহতি পাওয়া সদস্য মো. ইমরান হোসেন নবাব বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানেও নবাবের অবস্থান বেশ পোক্ত।

শেখরে উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান মো. রইসুল ইসলাম পলাশ ও উপজেলা আ’লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদ থেকে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের মধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এই ইউনিয়নে আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া কামাল আহমেদের অবস্থান অপেক্ষাকৃত দুর্বল।

ময়নায় উপজেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান মো. মশিউল আজম মৃধার অবস্থান বেশ মজবুত। পক্ষান্তরে নৌকার মনোনয়ন পাওয়া জেলা মৎস্যজীবীলীগের সদস্য পলাশ বিশ্বাসকে পরাজিত করতে আওয়ামী বিরোধীরা ধর্মীয় উস্কানিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছেন।

পরমেশ্বরদী ইউনিয়নে আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ইউনিয়ন আ’লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো. সোলাইমান মোল্যা। উপজেলা আ’লীগের সদস্য ও ইউনিয়ন আ’লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া বিদ্রোহী প্রার্থী মান্নান মাতুব্বরের অবস্থান এখানে বেশ জোরালো। এই ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী মান্নান মাতুব্বর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ নজরুল ইসলামের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

রূপাপাত ইউনিয়নে আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহসভাপতি মহব্বত আলী। উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি পদ থেকে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া বিদ্রোহী প্রার্থী হেমায়েত হোসেন ও অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী রুপাপাত ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদকের ছেলে মিজানুর রহমান সোনা মিয়ার মধ্যে এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আভাস মিলেছে।

একমাত্র সাতৈর ইউনিয়নেই আওয়ামীলীগের প্রার্থী কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। সাতৈর ইউপিতে আ’লীগের মনোনীত প্রার্থী ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মুজিবর রহমানের অবস্থান বেশ ভালো। এই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার নাজিরুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রাফিউল আলম মিন্টুর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ইউনিয়নবাসীর অভিমত।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ১০ নভেম্বর চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ২৫ নভেম্বর, বাছাই ২৯ নভেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৬ ডিসেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ ৭ ডিসেম্বর এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৬ ডিসেম্বর।

উপজেলার ১০ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৮১ জন। এর মধ্যে ঘোষপুর ইউনিয়নের ভোটার সংখ্যা ১৭ হাজার ১৪ জন, সাতৈর ইউনিয়নে ২১ হাজার ৪৬ জন, দাদপুর ইউনিয়নে ১৮ হাজার ৯৮ জন, ময়না ইউনিয়নে ২০ হাজার ৪৯৩ জন, বোয়ালমারী সদর ইউনিয়নে ৭ হাজার ৩৯৩ জন, গুনবহা ইউনিয়নে ১৭ হাজার ১৪৫ জন, চতুল ইউনিয়নে ১৬ হাজার ১৮০ জন, পরমেশ্বরদী ইউনিয়নে ১৫ হাজার ৪২১ জন, রূপাপাত ইউনিয়নে ১৬ হাজার ৫৯৩ জন এবং শেখর ইউনিয়নে ১৯ হাজার ৯৯৮ জন।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল তারিখের নির্বাচনে এ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে পাঁচটিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী, তিনটিতে আ. লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও দুটি ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছিলেন। পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. নূরুল আলম মিনা মুকুল চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।

স/এষ্