সালথায় অসহায় মানুষের পাশে শান্তির আহব্বান নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন
সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
প্রতিশোধের মনোভাব নয়, ক্ষমা ও সহযোগীতার মনোভাব নিয়ে কাজ করুন-শান্তি আসবেই’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ফরিদপুরের সালথায় শান্তির আহ্বান নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের একদল তরুণ উদ্যোক্তা উপজেলার প্রতিটি গ্রাম ও পাড়া মহল্লা ঘুরে ঘুরে অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন এবং শান্তির বার্তা পৌছে দিচ্ছেন। পাশাপাশি রমজানের ফুড প্যাক উপহার দিচ্ছেন বিভিন্ন গ্রামে। উপজেলার চলমান পরিস্থিতির মধ্যে সংঘর্ষ নিরসনে কাজ শুরু করেছেন শান্তির আহ্বান নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। শুধু সংঘর্ষ নিরসনে নয়, ২০২০ সাল থেকে সংগঠনটি নানা ধরণের সমাজসেবা মূলক কাজ করছেন সালথায়।

জানা গেছে, লকডাউন আর গত ৫ এপ্রিল সালথায় তান্ডবের ঘটনায় প্রায় ৫০টি গ্রাম এখন পুরুষশূন্য। বিশেষ করে এসব গ্রামের দিনমজুর আর কৃষকরা পলাতক থাকায় তাদের পরিবার চরম বিপাকে পড়েছেন। একেতো করোনার প্রকোপ তার সাথে যোগ হয়েছে সালথা তান্ডব। সবমিলে এক দূর্ভিক্ষের মধ্যে থাকা সালথার প্রায় ৫০টি গ্রামের পাশে দাড়িয়েছেন শান্তির আহŸান নামে ওই সংগঠনটি। উপজেলার মোট ৮টি ইউনিয়নে সংঘর্ষ নিরসনে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এবং লকডাউনে অসহায় পরিবারের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে ৫০টি পরিবারের মাঝে পৌছে দিয়েছে রমজানের ফুড প্যাক উপহার।
সংগঠনটির আহŸায়ক মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, শান্তির আহŸান সংগঠনটি ২০২০ যাত্রা শুরু করে। আমাদের সংগঠনের সদস্য ছাত্র, শিক্ষক, সংবাদকর্মী, ব্যবসায়ী ও এলাকার শান্তি প্রিয় সচেতন লোক নিয়ে গঠিত। আমাদের উদ্দেশ্য, সালথায় সংঘর্ষ নিরসন করা ও গরীব-দু:খি মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আমরা স্থানীয় প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় সালথাকে প্রচলিত সংঘর্ষ থেকে ফিরিয়ে এনে আলোকিত সালথা গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি।
সংগঠনটির কার্যক্রম সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ হাসিব সরকার বলেন, সালথায় সংঘর্ষের কারণে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অনেক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আমরাও এই সংর্ঘষ প্রতিরোধে জনগনের মাঝে বিভিন্ন সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমাদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শান্তির আহŸানের পক্ষ থেকে উপজেলার প্রতিটি গ্রামে-গ্রামে জনগনের মাঝে সংঘর্ষ প্রতিরোধে যে কার্যক্রম তারা হাতে নিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। একই সাথে তারা পবিত্র রমজান মাসে করোনার কারণে যারা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, তাদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন। এ জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।

