গরম বাতাসে কেন্দুয়ার হাওরের ধানক্ষেত পুড়ে যাওয়ায় কৃষকের কান্না
রাখাল বিশ্বাস, কেন্দুয়া প্রতিনিধি– নেত্রকোণা কেন্দুয়ার হাওরগুলোতে সবুজ ধান গাছের শীষে ধানফুল ফুটে অন্যরকম এক রঙে হাওরের ধানক্ষেত গুলো যখন দোলছিল, তেমনি সময় রোববার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আচমকা ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়ে চলতে থাকে গভীর রাত পর্যন্ত।
রাত ৯টায় শুরু হয় গরম বাতাস। চলে ঘন্টাব্যাপী। সকালে কৃষক ক্ষেতে গিয়ে দেখতে পান ধানগাছগুলোর সবুজশীষের ধান ক্রমেই সাদা হয়ে যাচ্ছে। বহু ক্ষেতের ধানগাছ পুড়েও গেছে। স্বপ্ন ভাঙ্গা কৃষক ক্ষেতের আলেই বসে মাথায় হাত দিয়ে কান্না শুরু করেন।
এমন দৃশ্য কেন্দুয়া উপজেলার প্রায় হাওরেই আছে বলে বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়। কান্দিউড়া গ্রামের কৃষক গিয়াস উদ্দিন, সুধন বিশ্বাস, ওয়াশের গ্রামের আজিজুল হক এ দৃশ্য দেখে হতাশ হয়ে পড়েন। কমলপুর গ্রামের কৃষক ইনচান মিয়া কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, ক্ষেত জমা নিয়ে ২ একর ৩০ শতাংশ জমিতে ৭৫ হাজার টাকা ব্যায় করে বোরো ধান করেছিলাম।
আর ১৫ দিন পরেই পাকা ধান কাটতে পারতাম। কিন্তু গত রাতের গরম বাতাসে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। ক্ষেত জুড়েই এখন চুঁচা ধান।
মাচিয়ালি গ্রামের বাচ্চু ডাক্তার, কানন শেখ, নূরুল আমীন, মহুরিয়া গ্রামের রতন মিয়া, শাহিন মিয়া, আবু বকর মিয়া, সাগুলী গ্রামের আলহাজ মিয়া, ফরিদ মিয়া জানান, প্রাকৃতিক এমন ঘটনা এর আগে ঘটেনি। রাতের গরম হাওয়ার কারণে ক্ষেতের ধানেরশীষ পুড়ে যাচ্ছে।
সকাল হতে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুঁচা (সাদা) হয়ে যাওয়া ধান ক্ষেতের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পেতে থাকে। পুরো হাওর জুড়েই এখন সাদা রং। কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম শাহজাহান কবির জানান, এ বছর উপজেলায় ২০ হাজার ৭শ ৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। খুব ভাল ফলন হচ্ছিল। কিন্তু ধানের ফুল আসার সময় রোববার রাতের গরম ঝড়ো হাওয়ায় এ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। খবর পেয়ে সকালেই উপ-সহকারীদের হাওরে পাঠানো হয়েছে।
আমি নিজেও যাচ্ছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ অবস্থা হয়েছে। আমাদের কিছুই করার ছিল না। আমরা সরজমিন সম্পন্ন করে উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠাবো।
স/বি

