ঢাকাসোমবার , ৩ এপ্রিল ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

রাজধানী বাউনিয়ার ভূমিদস্যু দাউদ বাহিনীর ভায়বহ তৎপরতা , বিচারক আতাউর রহমান রক্তজখম


এপ্রিল ৩, ২০১৭ ৫:০১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ডিএমপি’র উত্তর ডিভিশনের বাউনিয়া এলাকায় ভূমিদস্যুদের ভয়াবহ তৎপরতা চলছে। নিরীহ মানুষের বাড়িঘর দখল, হামলা, চাঁদাবাজি চলছেই। ভূমি বিরোধ, সংঘর্ষ, জালিয়াতি, জবর দখল ইত্যাদির হোতাদের সাথে পুলিশের মাঠ পর্যায়ের কিছু লোকের প্রত্যক্ষ যোগসাজস রয়েছে। টাকার বিনিময়ে তারা যা ইচ্ছা তাই করছে।

বাউনিয়া এলাকায় গত কয়েক বছরে জায়গা সম্পত্তির দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ন্মিাঞ্চলের ভূমিদস্যুরা চর দখলের ন্যায় মানুষের বাড়িঘরে হামলা চালাচ্ছে। দুর্বৃত্তরা আইন মানে না। আইনের কিছু লোক তাদের সহযোগীও বটে “যেন চোরের স্বাক্ষী গাইটকাটা”। ২৯-০৩-২০১৭ইং সময় আনুমানিক ১২:০০ ঘটিকায় তুরাগ থানাধীন বাউনিয়া বাজার এলাকায় হরিরামপুর ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেনের কার্যালয়ে তিনিসহ এলাকার গণ্যমান্য, সম্ভ্রান্ত ও মর্যাদাশীল ব্যক্তিগণ এলাকার দাগী ভূমিদস্যুদের তৎপরতা বন্ধের ব্যাপারে এক জরুরী সভায় বসেন। ঐ সময়ে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় বিচারক আতাউর রহমান, জনপ্রতিনিধি ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন, ইউপি সদস্য আবুল হোসেন, মোঃ মোস্তফা ও আরও অনেকে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দিয়াবাড়ি ফাসির দারোগা শহীদ নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে উপস্থিত থাকার কথা। বিচারক আতাউর রহমান আহত হবার পর শহীদ দারোগা সেখানে হাজির হন।
অনুষ্ঠানে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি, প্রতারনা, জালিয়াতি ও ভূমিদস্যতা বন্ধ করে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ভূমিদস্যু দাউদ, রুবেল, কাদের, মিজান ও মুসাকে আহ্বান জানান।
পূর্বের নির্ধারিত তারিখে এলাকাবাসীর জিডি মামলা ও বহু অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের ডাকা হয়েছিল। এদের মধ্যে সাবেক পুলিশ সদস্য নজরুল আড়ালে লুকিয়ে ছিল। সে ভূমিদস্যু ও প্রতারক দাউদের আতœীয়। অপরদিকে দাউদের আত্মীয় এক মহিলা পুলিশ সদস্য এ দুজনের কুপরামর্শে এলাকার নিরীহ বাসিন্দা ও ভূমি মালিকদের উপর অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে তারা। এসব অপরাধের জন্য এলাকায় সাধারন মানুষের মধ্যে বিশেষ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। ঐদিনের সভায় এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি আতাউর রহমান জনপ্রতিনিধি দেলোয়ার হোসেন, জনপ্রতিনিধি আবুল হোসেন, মোস্তফা ও আরও অনেকে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দিয়াবাড়ি ফারির দারোগা ঘটনা ঘটার পর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিদের্শে সেখানে উপস্থিত হন।
এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি, প্রতারনা, জালিয়াতি ও ভূমিদস্যুতা বন্ধ করে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য গন্যমান্য ব্যাক্তিগন ভূমিদস্যু দাউদ, রুবেল, কাদের, মুছা ও মিজানকে আহ্বান জানান। পূর্বের নির্ধারিত তারিখে এলাকাবাসীর জিডি, মামলা ও বহু অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের ডাকা হয়েছিল। এদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য নজরুল সে নিজকে পুলিশ অফিসার বলে সর্বদা পরিচয় দেয় এবং নিরীহ মানুষকে মারধর ও খুনের হুমকি দেয়। ঐদিনে সে আড়ালে লুকিয়ে ছিল। সে ভূমিদস্যু ও প্রতারক দাউদের নিকট আত্মীয়।
বুধবার ঐ সময় ভূমিদস্যু প্রতারক জালিয়াত দাউদ, রুবেল, কাদের, মিজান ও মুসাকে তাদের অপরাধ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। ঐ সময় এলাকার সর্বজন শ্রদ্ধেয় জমিদার ও এলাকার প্রবীন বিচারক আতাউর রহমান ভূমিদস্যু দাউদগংদের বলেন, “তোমরা এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখ, অন্যের ভূমি জবর দখল করোনা, এটা অন্যায়, এলাকায় এসব অপরাধের জন্য সাধারন মানুষের মধ্যে অশান্তি বিরাজ করছে, আমাদের একদিন এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে”। তার এ বক্তব্য পেশের সাথে সাথে সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যুরা তার উপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে। আড়ালে মিরপুর ও কাফরুল থেকে কিছু পেটোয়া বাহিনীর সদস্যকে ভাড়া করে মাইক্রোবাস ও মটর সাইকেলে করে নিয়ে আসে। তাদের হামলায় রক্তাক্ত হয়ে বিচারক আতউর রহমান মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ঐ সময় এলাকাবাসী শোর চিৎকার শুরু করলে ও লাঠিসোঠা নিয়ে এগিয়ে আসলে ভূমিদস্যু দুর্বৃত্তরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা দুটি দামি মটার সাইকেল রেখে পালিয়ে যায়। তুরাগ থানার পুলিশ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলার আলামত হিসেবে মটর সাইকেল দুটি জব্দ করে।
উল্লেখ্য যে, ইতোপূর্বে উল্লেখিত ভূমিদস্যুদের কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে গিয়েছিলেন। তিনি সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তুরাগ থানার ওসি মাহবুবে খোদাকে তার পিও মনির হোসেনের মাধ্যমে নির্দেশ দেন।
ওসি তুরাগ দিয়াবাড়ির ফাঁড়ির দারোগা শহীদকে বিষয়টি দেখার জন্য বলেন। দারোগা শহীদ এলাকার নেতাকর্মী ও মাতবরদের সমস্যার সমাধানের জন্য বলেন। কিন্তু এতে কেউ কারও কথা শুনেনি।
পরে এ বিষয়ের সমাধানের জন্য সিনিয়র এসি সাগর, ওসি তুরাগ মাহবুবে খোদাকে বলেন। এতে কোন কাজ না হলে, পুনরায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পিও মনির হোসেন ওসি তুরাগকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশের বিষয়টি জানান। এতেও কোন কাজ না হওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পিও মনির হোসেন মন্ত্রীর নির্দেশের কথাটি উপ-পুলিশ কমিশনার, উত্তরা ডিভিশন বিধান ত্রিপুরাকে জানান, বিধান ত্রিপুরায় পুনরায় ওসি তুরাগ খোদাকে মৌখিকভাবে সমস্যা সমাধানের জন্য বলেন। এরপর ওসি তুরাগ মাহবুবে খোদা দিয়াবাড়ি ফাঁড়ির দারোগা শহীদকে পূনরায় এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বলেন। দারোগা শহীদ অভিযুক্ত ভূমিদস্যুদের দিয়াবাড়ির ফাঁড়িতে নিয়ে বসেন। ঐ বৈঠকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আবুল হোসেন, স্থানীয় বিচারক ইব্রাহীম হোসেন সহ গন্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ঐ সময় সাবেক পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলাম ভূমিদস্যু দাউদ গংয়ের পক্ষ হয়ে ফাঁড়িতে উপস্থিত ছিলেন। জনপ্রতিনিধিদের তিনি ‘ওসি’ বলে পরিচয় দেন এবং ফিস ফিস করে বলেন, আমি কিন্তু ওসি! অপরদিকে দাউদের আত্মীয়া মহিলা পুলিশ সদস্য নিজেকে পলাশ থানার এসআই বলে পরিচয় দিয়ে সেখানে ভূমিদস্যু দাউদের পক্ষে কথা বলার জন্য উপস্থিত হন। মুলতঃ এই দুইজন সাবেক ও বর্তমান মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যই দাউদকে উস্কানি দেওয়ার মূল হোতা বলে এলাকাবাসি অভিযোগ করেন। সাবেক পুলিশ সদস্য নজরুল ইতোপূর্বে স্থানীয় ভূমি মালিক ও অভিযোগকারীকে হুমকি দেন এই বলে যে, আপনাকে কোনদিন বাউনিয়ার জমিতে যেতে দিব না।
কয়েক দফা বসার পর অবশেষে বুধবার স্থানীয় বিচারক ও গন্যমান্য ব্যক্তিরা এ জটিল সমস্যার সমাধানে বসলে ঘটনাস্থলেই ভূমিদস্যু দাউদ বিচারক আতাউর রহমানকে মারাত্মকভাবে রক্তজখম করে ও ভাঙচুর সহ লুটপাট চালায়। দুপুর ১২টায় এ রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটলেও গভীর রাত পর্যন্ত ওসি মাহবুবে খোদা ঐ হামলাকারী সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে মামলা নিতে পারেননি। পরে ডিসি ও এডিসির নির্দেশে মামলা রুজু করেন। মামলা রুজুর এক সপ্তাহ পরেও এখনও একজন আসামীও ধরা পড়েনি (মামলা নং ৩০ তাং ২৯/০৩/২০১৭, তুরাগ থানা)। ভূমিদস্যু দাউদ গং এলাকাবাসির ভয়ে বর্তমানে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এর আগে তারা ভূমিদস্যু দাউদ মুসা স্থানীয় ভূমি মালিকদের কাছে ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। ৭ লক্ষ টাকা নগদে চেয়েছিল। এলাকাবাসি এ ব্যাপারে উর্দ্ধতন পুলিশ কর্তৃপক্ষ ও র‌্যাবের সাহায্য চেয়েছেন।
পুলিশের উত্তরা ডিভিশন মারাত্মক অপরাধকে ভূমির মামলা আখ্যায়িত করে মামলা গ্রহন করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। অপরদিকে যত্রতত্র কতিপয় মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্য দেওয়ানি আদালত বসিয়ে টু পাইস কামাই করছেন। কাজের কথায় না আসলেই অভিযোগগুলো তখন আবার ফৌজদারী মামলায় রূপ নেয়। এলাকাবাসির প্রশ্ন জায়গা জমির মোকদ্দমা দেওয়ানী আদালতে বিচারযোগ্য। কিন্তু এই জায়গা জমিকে নিয়ে খুন রাহাজানি চাঁদাবাজি জবরদখল নির্যাতন চলছেই। এই মামলাগুলো কোথায় হবে। মানুষ কোথায় যাবে। পুলিশের ভাষা এমন মাথাব্যথা, এ কারনে মাথা কেটে ফেলতে হবে। জায়গা জমির অভিযোগ মামলা তাই গ্রহন করা যাবে না।

ভূমিদস্যু সন্ত্রাসী দাউদ বাহিনীর সশস্ত্র হামলায় মুমূর্ষ স্থানীয় বিচারক আতাউর রহমান

স/জনী