অবকাশ
—রোজী খান
কোনো কোনো দিন ভোরবেলায়,
পাখির কলকাকলিতে জেগে উঠি।
ঘুমঘুম চোখে বিছানা ছেড়ে বারান্দার
গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে
দেখি নীরব প্রকৃতিকে ।
পূবের আকাশের রঙিন আভা
বুঝিয়ে দিচ্ছে সূর্য উঠার সময়কে।
দেখতে দেখতেই প্রাণচাঞ্চল্যময়
হয়ে উঠে ব্যাস্ত শহর ।
অফিস ,আদালত,স্কুল-কলেজ এবং কি
শপিংমল গুলিও প্রাণবন্তময় হয়ে উঠে ।
ফেরিওয়ালারা হেঁকে যায়-
শহরের এ গলি থেকে ওগলি।
কখনো ভাবি কোনো একদিন –
আমার আর ঘুম ভাঙবেনা ।
এ পৃথিবী থেকে আমি চলে যাওয়ার
পরও ঠিক এভাবেই সকালের সূর্য উঠবে,
কর্মব্যাস্তময় মানুষগুলি যে যার কাজে
ব্যস্ত হয়ে উঠবে ।
হয়তোবা কিছুক্ষণের জন্য থেমে যাবে,
আমার প্রিয়জনদের কর্ম ব্যস্ততা ।
ওদের কান্না -হাহাকার দেখে আমিও
কান্না করবো -সেই কান্নার আওয়াজ
হয়তোবা কেউ শুনবেনা-
অস্ফুট সুরে আমি শুধু বলবো,
তোমরা আর কেঁদনা –
আমিও একদিন-
এভাবেই প্রিয়হারা বেদনায় কেঁদেছি,
কোথাও খুঁজে পাইনি-শুধু স্মৃতিগুলো
আঁকড়ে ধরেই বেঁচেছিলাম।
কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি হয়ে যাব লাশ।
আমার আপনজনেরা
ব্যস্ত হয়ে উঠবে দাফনের ব্যবস্থা করতে।
আমি কারো বোন,কারো প্রেয়সী আবার
কন্যা- জায়া- জননী, না কোনো মানব-মানবী,
কোনো পরিচয়ই তখন আমার থাকবেনা।
আমার তখন একটাই পরিচয় লাশ।
কি অদ্ভুত সব নিয়ম-কানুন !
পৃথিবীর এই নিত্য পরিহাস
ভেদ করার নেই কোনো অবকাশ।
স/মা

