ঢাকারবিবার , ২০ আগস্ট ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

আশকোনায় আবাসিক এলাকায় ট্রেনিং সেন্টার ॥ শব্দ দূষণে অতিষ্ঠ এলাকাবাসি

admin
আগস্ট ২০, ২০১৭ ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিনিধি : রাজধানীর আশকোনায় সিঙ্গাপুর ট্রেনিং সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রয়েছে ব্যাপক শব্দ দূষণের অভিযোগ। বিধি বিধান ও পরিবেশ বিনষ্টের নিয়ম উপেক্ষা করে ভারী শব্দ-দূষণ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এলাকা-বাসির বিরক্তের কারণ হিসাবে বিবেচিত হয়েছে। এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর ও রাজউক কর্তৃপক্ষ রহস্যজনকভাবে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালক করছে।
বারবার অভিযোগ পরেও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর থেকে কোন প্রকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। সরজমিনে জানা যায়, রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার আশকোনায় হজ্বক্যাম্পের পাশে ঘনবসতি আবাসিক এলাকায় প্রায় দু’বিঘা সম্পত্তির ওপর স্থাপিত হয়েছে, সিঙ্গাপুর ট্রেনিং সেন্টার নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান বিদেশি শ্রমিকদের নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। প্রশিক্ষনের বিভিন্ন কর্মকান্ডে প্রায় দিন-রাত সব সময়ই উচ্চ শব্দ সৃষ্টি হয়। প্রতিষ্ঠানটি দু’দিক থেকে প্রবেশ ও বাহির গেট রয়েছে। এখান থেকে ট্রেনিং সেন্টারের বিকট শব্দযুক্ত যন্ত্রপাতি কর্মকান্ডেই অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকা বাসি।
বিকট শব্দ-দূষণ থেকে মুক্তি পেতে এলাকা-বাসি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকবার অভিযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাজউক ও পরিবেশ অতি-দফতর থেকে পরিদর্শনপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু যারা সরজমিনে তদন্ত করতে আসে তারা রহস্যজনক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে এলাকা-বাসি আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি তুলে ধরেন।
মূলত অবৈধ লেনদেনের কারণে এ ট্রেনিং সেন্টার ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গৃহীত হচ্ছে না বলে অভিযোগ। বারেক নামে এক এলাকা-বাসি জানান, এ ট্রেনিং সেন্টারটি শব্দ-দূষণের কারণে ঘনবসতি আবাসিক এলাকা বাসিরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দিনরাত ২৪ ঘন্টাই শব্দ-দূষণ হচ্ছে। অবৈধ ট্রেনিং সেন্টারটির কারণে এলাকাটি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দুঃসহ হয়ে পড়ছে। বসবাসকারী ও চলাচলরত জনগণের স্বাভাবিক চলাফেরা ও কর্মকা- হুমকিরমুখে। সিঙ্গাপুর ট্রেনিং সেন্টারটির শব্দ দূষণে গোটা এলাকার পরিবেশ একেবারেই মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে।
এলাকার বিভিন্ন সূত্রে আরো জানা যায় এ প্রতিষ্ঠানটির মালিক তোফজ্জল হোসেন এবং তার ছেলে তুহিন সিদ্দিক অমি। তারা এ প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করতে বিধি বিধান মানেনি। ট্রেনিং সেন্টারটির মালিকপক্ষের কাছে কোনো বৈধ অনুমোদনপত্র নেই বলে এলাকা-বাসির দাবি।
সংশ্লিষ্ট ব্যাপারে ট্রেনিং সেন্টারের মালিক পক্ষের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও আলাপ করা যায়নি। তারা মিডিয়াকর্মীদের কথা শোনলেই এড়িয়ে চলেন। এ ব্যাপারে রাজউকের অনুমোদন কর্মকর্তা নুরুজ্জামান এর সাথে ফোনে আলাপ হয়।

তিনি জানিয়েছেন, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান উকিল নোটিশ এর জবাব দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০১২ সালে ইউনিয়ান পরিষদের অনুমতি নিয়ে তারা এ প্রতিষ্ঠান শুরু করে। রানাপ্লাজা দুর্ঘটনার আগ-পর্যন্ত ইউনিয়ান পরিষদের এলাকায় অবস্থিত এরকম প্রতিষ্ঠানকে চেয়ারম্যান অনুমতি দিতে পারতেন। যেহেতু অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান নিজেদের পক্ষে কিছু কাগজপত্র প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছে এবং স্থানীয় চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়ে তারা প্রতিষ্ঠান শুরু করেছে, এই জন্য আমরা বলে দিতে পারি না আপনারা অবৈধ। একসময় ইউনিয়ান পরিষদ অনুমতি দিতো। তাদের অনুমতি দেওয়া শত শত প্রতিষ্ঠান এখনো দক্ষিণখানে আছে। আমি যদি তাদের অবৈধ বলি, তবে তারাও তো আমাদের চ্যালঞ্জ করতে পারে, কীভাবে আপনার আমাদের অবৈধ বলতে পারনে। তারপরেও তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ব্যাহত রয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন আরো অনেকের সাথে কথা বলে সিধান্ত নিতে হবে। কারণ ইউনিয়ান পরিষদের চেয়ারম্যান এখনও অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কথা বলছেন, চেয়ারম্যান বলছেন, আমি অনুমতি দিয়েছি এটা কেন অবৈধ হবে।

যদিও রানাপ্লাজা ও তাজরিন দূর্ঘটনার পর থেকে সরকার ইউনিয়ান পরিষদের অনুমতিকে অবৈধ ঘোষনা করেছেন।

অপরদিকে তার অধিনস্ত সহকারী অনুমোদন কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার ট্রেনিং সেন্টার এর মালিকের সাথে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে উচ্ছেদ প্রতিহত করার চেষ্টা করছেন এমন অভিযোগ নিয়ে তার সাথে ফোনে কথা হয় চমক নিউজের। তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমাদের ইতোমধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া আছে। এবার চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হবে। তারপরে এটা ভাঙ্গার প্রক্রিয়া শুরু হবে। আমরা অবৈধ কোন প্রতিষ্ঠান রাখার পক্ষে না।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এলাকাবসির দাবী এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।  এ প্রতিষ্ঠানটি আবাসিক এলাকা থেকে উচ্ছেদ করা না হলে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হবার সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু তাই নয়, যে কোনো সময় ক্ষিপ্ত এলাকা-বাসিরা বিক্ষোভে ফেটে পড়তে পারেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

স/রাজ