ঢাকাশনিবার , ১৯ আগস্ট ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

দোহারের পদ্মা পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত।। ৩০ গ্রামের মানুষ পানি বন্দী

admin
আগস্ট ১৯, ২০১৭ ১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সাদের হোসেন বুলু দোহার থেকে
রাজধানী ঢাকার অতি নিকটে অবস্থিত পদ্মা নদীর তীরবর্তী দোহার উপজেলার নয়াবাড়ী, মাহমুদপুর ও বিলাশপুরসহ ইউনিয়নসহ নিম্নঅঞ্চল সমূহ পদ্মার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। যার ফলে বসত বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কৃষি জমি পানিতে ডুবে গেছে। প্রায় ৩০ টি গ্রামের মানুষ দিশেহারা।
বন্যা সর্তকীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, গত ২দিনে দোহার নবাবগঞ্জে ৫০সে.মি. পানি পদ্মা নদীর বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এলাকা ও ঘরবাড়ী। শুক্রবার দুপুরে দোহারের মাহমুদপুর ও বিলাশপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম পানিতে প্লাবিত হওয়ার যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এছাড়া বানের পানিতে তলিয়ে গেছে নারিশা ও নয়াবাড়ীর বেশীরভাগ গ্রাম ও রাস্তাঘাট। পানি বন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ১০/১২ হাজার পরিবার। তাদের হাট বাজারে যেতে একমাত্র বাহন এখন নৌকা ও কলার ভেলাই ভরসা।
দোহারের মধুরচর গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা হোসেন জানান, পদ¥া আমাদের জমি নিয়ে গেছে। এখন আবার পানিতে ভাসাচ্ছে।
এভাবে পানি বাড়তে থাকলে পরিবার পরিজন নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হবে।
সরেজমিনে দোহারের নয়াবাড়ী ইউনিয়নে গিয়ে বন্যার পানিতে অনেক গ্রামের ঘরবাড়ী ডুবে যাওয়ার চিত্র পাওয়া যায়। কাঁচা পাকা রাস্তা ছোট সেতু ডুবে গেছে। এলাকার সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা পানি মাড়িয়ে তাদের প্রয়োজনীয় কাজে যাচ্ছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই ঘর বাড়ী ছেড়ে উচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। গবাদিপশু ও হাঁস মুরগী রাস্তায় তুলেছে। পানিতে ডুবে গেছে বিলাশপুরের মাঝিরচর, মধূর চর, রাধানগর, হাজার বিঘা, নারিশা জোয়ার, মাহমুদপুরের হরিচন্ডী, নারায়নপুর, চর কুশাইর চর জামার চরসহ প্রায় ৩০টি গ্রাম এখন পানিতে ভাসছে। ঘর বাড়ীতে পানি প্রবেশ করায় দূর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুুষ। মধূরচর আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা রাহিমা বেগম বলেন, আমার স্বামী নেই। দুটি সন্তান নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটছে। প্রতিদিন সাতরে বাজার যেতে হয়। সাপের ভয়ও আছে। ঘরে খাবারও সংকট। ছেলেরা পানির কারণে দিনমজুরের কাজ করতে পারে না।
দোহার পৌরবাসিন্দা নাজমা নৌকা দিয়ে ঘরবাড়ির আসবাবপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। কষ্টের সুরে বলেন, বাই আমরা রাজধানী ঢাকার পাশে থেকেও বন্যা থেকে রেহাই পাই না।
এদিকে বন্যার পানির কারণে দোহার নবাবগঞ্জে প্রায় ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দোহারের সুন্দরীপাড়া, পুরুলিয়া, হরিচন্ডী, বিলাশপুর, রাধানগর এবং নবাবগঞ্জে জয়কৃষ্ণপুরের ঘোশাইল,চারাখালীতে প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিতে ডুবে গেছে।
বন্যার পানি প্রবেশে করেছে খোদ পৌরসভা এলাকায়। সোনার বাংলা গ্রামের অনেকগুলো বসতবাড়ী পানির নিচে। এ অবস্থা কতদিন স্থায়ীত্ব হবে তা নিয়ে শংকা দোহারবাসীর।
দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আল আমিন বলেন, আমরা দোহার উপজেলার বন্যা কবলিত বিভিন্ন গ্রাম গুলো ঘুরে দেখছি। উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। এমপি মহোদয়ও নিয়মিত খোঁজ খবর রাখছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে দ্রুত ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
দোহারের বন্যা পরিস্থিতির সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নিচ্ছেন ঢাকা-১ আসনের সাংসদ সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। তিনি কয়েকদিন যাবত তার নিবার্চনী এলাকায় অবস্থান করছেন। দুই উপজেলার ইউএনওসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা , দলীয় নেতাকর্মী ও সুশীল সমাজকে বন্যা কবলিত মানুষের দাড়াতে নির্দেশ দেন। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করারও তাগিদ দেন।
এ দিকে নবাবগঞ্জের বান্দুরা ইউনিয়নের সাদাপুর ইছামতির শাখা নদীর পাশে  স্রোতের চাপ প্রায় ৩৮ টি পরিবার বসতভিটে হারিয়েছে। গত কয়েকদিনে পানি বাড়ার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

স/এস্