ঢাকারবিবার , ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

স্কুল খোলার আনন্দে আত্মহারা কামরাঙ্গীরচরের শিক্ষার্থীরা

চমক নিউজ মফস্বল বিভাগ
সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১ ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্কুল খোলার আনন্দে আত্মহারা কামরাঙ্গীরচরের শিক্ষার্থীরা

আবদুল কাদের সাইফুল : “স্কুল খুইলাছেরে মাওলা, স্কুল খুইলাছে, গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী, স্কুল খুইলাছে”এ বিখ্যাত গানটির মতো স্কুল খোলার আনন্দে আত্মহারা রাজধানী কামরাঙ্গীরচরের স্কুল শিক্ষার্থীরা।

তাদের এ আনন্দ যেন আজ আকাশে বাতাসে হচ্ছে প্রকম্পিত। আনন্দের রেশ অভিভাবকদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি, স্কুল শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার মাঝে এ আনন্দের রেশ বইছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর স্কুলগুলো হয়ে উঠেছে সরগরম।

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস ও সরকার ঘোষিত লকডাউন চলমান থাকায় দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর (৫৪৩ দিন) দেশের সকল স্কুল বন্ধ রাখা হয়। করোনা ভাইরাস কোমলমতি শিশুদের আক্রান্ত করতে পারে, এ আশঙ্কায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়।

তবে এ দীর্ঘ সময়ে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হয়। সারাদেশের মতো স্কুল খোলার ১ম দিনে কামরাঙ্গীরচরের শিক্ষার্থীদের মাঝেও উচ্ছ্বাস পরিলক্ষিত হয়। দীর্ঘদিন পর স্কুল খোলায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে প্রাণের সঞ্চার সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সাথে কথা বলতে গেলে তারা জানান।

৮ম শ্রেণীর ছাত্র সাকিব জানায়, করোনা ভাইরাস ও লকডাউনের জন্য আমাদের স্কুল বন্ধ থাকায়, আমরা সহপাঠীদের সাথে দেখা করতে পারেনি দীর্ঘদিন। এজন্য আমাদের মন-মানসিকতা সবসময় খারাপ থাকতো। বন্ধুদের সাথে দেখা না করতে পেরে কষ্ট লাগতো। তবে এখন সরকার ঘোষণা অনুযায়ী স্কুল খোলায় আমরা আবারো আগের মত বন্ধুদের সাথে দেখা করতে পারছি। আমরা এখন খুব খুশি।

সে জানায়, দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর আমাদের স্কুল বন্ধ থাকায় আমরা অনলাইনে ক্লাস করেছি। কিন্তু অনলাইনে ক্লাস করে আমরা সেরকম আনন্দ উপভোগ করতাম না। কেননা, সরাসরি ও স্বশরীরে স্কুলে ক্লাস করার যে আনন্দ তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

এখানে সবাই সবার সাথে কথা হয়, দেখা হয়। লেখাপড়ার বিষয়ে স্যারদের পরামর্শ নেওয়া যায়। বিভিন্ন বিষয়ের নোট সংগ্রহ করা যায়। তবে আমরা এখন আশাকরি স্কুল খোলায় আবার আগের মত আমরা আমাদের পড়ালেখা চালিয়ে যাব।

স্কুল শিক্ষার্থীর অভিভাবক শামীম হোসেন বলেন, অদৃশ্য মহামারী করোনা ভাইরাস এর কারণে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় আমরা বেশ উদ্বিগ্ন অবস্থায় ছিলাম। আমাদের ছেলেমেয়েরা প্রায় সবসময় মনমরা হয়ে থাকত। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া ও বিশ্রাম নিত না। তারা তখন কেমন জানি অস্থির অবস্থায় চলাফেরা করত। পাশাপাশি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় আমরাও ছেলে-মেয়েদেরকে ঘরের বাইরে বের হতে দিতাম না।

তিনি বলেন, এসব কারণে ছেলেমেয়েরা একরকম বন্দিদশায় জীবনযাপন করছিল। স্কুলে সরাসরি ক্লাস করার যে আনন্দ, অনলাইনে ক্লাস করে তারা সে আনন্দ উপভোগ করত না। এমনকি আমরা প্রায়শই দেখেছি, আমাদের ছেলেমেয়েরা পড়ালেখার প্রতি অনীহা হয়ে উঠেছে।

তবে এখন করোনা ভাইরাস এর ঝুঁকি কমে যাওয়ায় সরকার স্কুল খুলে দিয়েছে। একারণে শিক্ষার্থী ও আমাদের মাঝে স্বস্তির আবাস দেখা গেছে। তবে অনেক পরিচিত অভিভাবদের ছেলেমেয়েরা পড়ালেখা থেকে ঝরে পড়েছে। বিষয়টি বেশ উদ্বিগ্নতা ও দুঃখজনক।

এই বিষয়ে ওয়াজ উদ্দিন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামান বলেন, স্কুল খোলার ১ম দিনে আমরা আমাদের স্কুলের শিক্ষার্থীদের সকল শিক্ষকের উপস্থিতিতে মিষ্টিমুখ করে স্বাগত জানিয়েছে। তাদেরকে মাস্ক পরিধান করিয়েছি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য উপদেশ দিয়েছি।

এর পরের দিন ২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য আমরা ক্লাস নিয়েছি। প্রতিদিন ১টি শ্রেণীর আমরা ক্লাস নিচ্ছি। অর্থাৎ, একদিন ষষ্ঠ শ্রেণি, পরেরদিন ৭ম শ্রেণী, ৮ম শ্রেণি এভাবে ধারাবাহিকভাবে আমরা ক্লাসগুলো নিচ্ছি শিক্ষার্থীদের।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত মেয়েদের উপস্থিতি সন্তোষজনক, সে তুলনায় ছেলেদের উপস্থিতি একেবারেই কম। আমরা তাদের অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ করেছি অনেকেই ইতিমধ্যে, জীবনের তাগিদে বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছে। প্রতিদিন আমরা ২/৩টা ক্লাস নিচ্ছি।

আর প্রতি বেঞ্চে ২জন করে শিক্ষার্থী বসে। আমরা বিরতিহীনভাবে সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১ টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের ৪৫ মিনিট করে ক্লাস নিচ্ছি। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিটি ক্লাসে অংশ নিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আমার স্কুল সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক পরিচালনা করছি। করোনা ঝুঁকি ও ডেঙ্গু বৃদ্ধি পেতে পারে, এজন্য আমি নিজ উদ্যোগে স্কুল আঙ্গিনা সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখছি। এমনকি শিক্ষার্থীদের ডাস্টবিনে ময়লা ফেলার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।

পাশাপাশি, স্কুলের প্রতিটি শিক্ষক-শিক্ষার্থী প্রতিদিন স্কুল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বেশ গুরুত্ব সহকারে কাজ করছে। স্কুলে প্রবেশ করার সময় সবাই শৃংখলাবদ্ধভাবে প্রবেশ করে। আবার স্কুল থেকে বের হবার সময় সবাই শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে বের হয়। তবে, আমি আশাকরি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের স্কুলটি থাকবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।

স/এষ্