মনিরুল ইসলাম রাজীব :
গল্পটা খুব সাহসি। তরুন না বলে একদল কিশোরকে বলা চলে সেই গল্পের নায়ক। ২০১৪ সালে যাদের যাত্রা শুরু হয় সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উত্তরণের পথ খুজতে তাদের বয়স তখন কারোই সতেরোর বেশি নয়। খুব বেশি সাহস আর নিজেদের ওপর আত্মবিশ্বাস না থাকলে যেই গল্পটি অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত সেই গল্পটি ফাইজুর, লাবিব, সামিম, নাবিল, নাঈম, সোহাগ এর মত কিছু উদ্যমী তরুণের মাধ্যমে টিকে থাকলো সাথে আছি ফাউন্ডেশন নামে।
সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক কাজগুলোতে তরুণদের সামগ্রিক অংশগ্রণের প্রতি উদবুদ্ধ করাই ছিলো ফাউন্ডেশনের প্রাথমিক লক্ষ্য। সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদের পোষাক, ইফতার, ঈদ সামগ্রী বিতরণ, উত্তরাঞ্চলের শীতার্ত মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, শরণার্থী, বণ্যার্ত ও পাহাড়ধ্বসে আক্রান্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য মানসম্মত স্কুল পরিচালনা, সবুজ সুন্দর প্রকৃতি গড়তে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ নানা রকম সামাজিক কাজ করে যাচ্ছে এই তরুন দল। গাইবান্ধা শীতবস্ত্র বিতরনের একাংশ ৭ জন থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সাভার, গাজীপুর, ঢাকা, বরিশাল এ ৪ টি শাখায় শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক সমাজ পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছে। এতটুকু বয়সে ঠাকুরগাও, গাইবান্ধা, পাবনা, গাজীপুর, রাঙামাটি, কক্সবাজার এর মতো দূরবর্তী অঞ্চলগুলোতে প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে তাদের বহু বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিলো, যা পার করে সাহায্যবঞ্চিত মানুষদের মুখে হাসি ফুটানোতেই যেন তাদের আনন্দ।
সাথে আছি ফাউন্ডেশন টিম এই সকল কিছু নিয়ে মুঠোফোনে সাথে আছি ফাউন্ডেশনের সভাপতি ফাইজুর রহমান বলেন, আমাদের পথের শুরুটা খুবই কষ্টসাধ্য ছিলো, একদল তরুণ যারা তখন এসএসসির গন্ডি পার হয়নি তারা বন্ধুদের সাথে আড্ডাবাজি, ভিডিও গেম বাদ দিয়ে সমাজের নানা অসংগতি নিয়ে কাজ করবে ব্যাপারটা একটু চোখে পড়ার মত ছিলো। তবে সব বাধা উপেক্ষা করে এখনো সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মুখে হাসি ফুটিয়ে যেতে পারাটা একটা সফলতাই বলবো আমাদের জন্য।
এ ধরণের কাজ আমাদের নিজেদেরও অভিজ্ঞতা আর মানবিকতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। দেশের উন্নয়নে সকল তরুণের মধ্যেই স্বেচ্ছাসেবী মনোভাব আর দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে তোলাটা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। সাথে আছি ফাউন্ডেশন দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে আস্তে আস্তে নিজেদের কাজের পরিসর আরো বড় করার চেষ্টা করছে। কাজের ক্ষেত্র বাড়াতে চেষ্টা চালাচ্ছে। সাথে আছি ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি লাবিব মুহান্নাদ এ সম্পর্কে বলেন – আমরা অনেক কাজ করছি তা বলবো না, কিন্তু অনেক কাজ করতে চাই। ছড়িয়ে যেতে চাই দেশের আনাচে কানাচে যেনো কোথাও কেউ সুবিধা বঞ্চিত না থাকে। বর্তমানে আমরা দারিদ্রতা বিমোচনের পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া মানুষদেরকে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে সুশিক্ষার প্রতি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। পড়ালেখার পাশাপাশি তারা তাদের সামাজিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে, চেষ্টা করছে প্রত্যেকের সাথে থাকতে যাদের নূন্যতম সাহায্য করার মতো কেউ নেই।
সাথে আছি ফাউন্ডেশনের যোগাযোগ বিভাগের প্রধান কানিজ ফাতিমা রিয়া বলেন: আমরা এ ধরণের কাজে দেশের উন্নয়নে তরুণদেরকে উদবুদ্ধ করার পাশাপাশি তাদের উপযুক্ত যোগ্যতা তৈরীর দিকে নজর দিচ্ছি। আমরা মূলত সমাজের বিত্তশালীদের সাথে নিয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের পাশে থাকতে চাই। এ ধরণের কাজগুলোতে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের আর দারিদ্রতা বা নিরক্ষরতা নিয়ে ভাবতে হবেনা, তখন উন্নয়নের গতি এমনিতেই ত্বরান্বিত হবে। সাথে আছি ফাইন্ডেশনের এই পথ চলা আরো দীর্ঘ হোক, তাদের লক্ষ্য পূরণ হোক। যেনো তারা দেশের জন্য বিরামহীন কাজ করে যেতে পারে, গড়ে তুলতে পারে একটি সুন্দর সমাজ আর দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে সমৃদ্ধির দিকে।
স/এষ্

