ধামরাই (ঢাকা) মো. মাসুদ সরদার:
ধামরাইয়ে আকাশ নামের এক মাদ্রাসার ছাত্র পড়া না পাড়ায় তাকে মাদ্রাসার শিক্ষক বেত্রাঘাত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে তার হাতের একটি আঙ্গুল দিয়ে রক্ত বের হয়। এসময় আকাশ প্রচন্ড ভয় পেয়ে যায়। এ অবস্থায় তাকে প্রথমে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ১১দিন পর গত রবিবার আকাশ মারা যায়। এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত ধামরাই থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না দেওয়ায় থানা পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারেনি বলে জানিয়েছে ধামরাই থানার অফির্সার ইনচার্জ শেখ রিজাউল হক।
এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ধামরাই উপজেলার গাওয়াইল গ্রামের দরিদ্র চুন্ন মিয়া স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ৭ বছরের শিশু আকাশ হোসেনকে পাশের গ্রামে হাফিজিয়া উলুম মাদ্রাসায় পড়তে দেয়। গত ৮ মার্চ শিশু আকাশ পড়তে না পাড়ায় মাদ্রাসার শিক্ষক তাকে কানে ধরে দাড় করিয়ে বেত্রাঘাত করে। এ সময় আকাশের হাতের আঙ্গুল থেকে বেতের আঘাতে রক্ত বের হয়। এতে রাতে ওই ছাত্রে গায়ে প্রচন্ড জ্বর উঠে। ৯ মার্চ তাকে প্রথমে ধামরাই সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর আহত ছাত্রের অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রবিবার বিকেলে আকাশের মৃত্যু হয়। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় দরিদ্র আকাশের পিতা চুন্নু মিয়া ছেলে আকাশের লাশ নিজ বাড়ীতে নিয়ে আসে। পরে আকাশের লাশ স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এ ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষক সোহেল রানা মাদ্রাসায় আসেনি। তবে তার সহকর্মী শিক্ষক রেজাউল হক জানান তিনি অসুস্থতার জন্য ছুটিতে আছেন।
স/জনী

