ঢাকামঙ্গলবার , ২১ মার্চ ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

যৌতুকের দাবিতে জামাই, শ্বশুর ও শ্বাশুড়ী আহত

admin
মার্চ ২১, ২০১৭ ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কলারোয়া সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় যৌতুক চাওয়ায় জামাই, শ্বশুর ও শ্বাশড়ীসহ তিন জন আহত হয়েছে। ঘটনাটি রোববার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে পৌর সদরের মির্জাপুর ৯ নং ওয়ার্ডে শ্বশুর শফিকুলের বাড়িতে ঘটে। আহত ব্যক্তিদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে কলারোয়া সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। আহত ব্যক্তি মির্জাপুর ওয়ার্ডের মহিদুজ্জামানের ছেলে জাহিদুর রহমান ওরফে জামাই রাজু (২৭) একই ওয়ার্ডের মৃত আদম মোড়লের ছেলে শ্বশুর শফিকুল ইসলাম (৫০) ও তার স্ত্রী শ্বশুড়ী আফিয়া খাতুন (৪৫)। স্থানীয়রা ও আহত শ্বশুর শফিকুল ইসলাম জানান, গত ১৭ বছর যাবৎ জামাই রাজুর সাথে শ্বশুর শফিকুলের মেয়ে আসমা খাতুনের প্রেম চলে আসছিল। প্রেমের এক পর্যায়ে আসমার রামভাদ্রপুর এলাকায় বিয়ে হয়। সেই পক্ষের বাঁধন (১০) নামের একটা ছেলে আছে। সেই ছেলে বর্তমানে নানা শফিকুলের বাড়িতে থাকেন। প্রেম মানে না বাধা, প্রেম আর গভীর রাখার জন্যে রামভাদ্রপুর আসমার স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন কারার পায়তারা করে। এক পর্যায়ে প্রেমিক রাজুর সহযোগিতায় আসমার প্রথম স্বামীকে তালাক দেয়। সেই সুবাদে আসমা প্রথম পক্ষ শ্বশুর বাড়ি থেকে ১লাখ টাকা নিয়ে চম্পট দেয়। তারপরে মেয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রবাস জীবন মালয়েশিয়ায় অবস্থায় করলে সেখান থেকে প্রেমিক রাজুর সাথে মোবাইলের মাধ্যমে আসমা যোগাযোগ চলে। প্রেমিক রাজুও মালয়েশিয়ায় যায়। প্রেমিকা আসমা গত ২ বছর আগে মালয়েশিয়া থেকে বাড়িতে চলে আসে প্রেমিক রাজুর টানে। রাজুও বাড়িতে চলে আসেন। বাড়ি আসার পর প্রেমিক রাজুর সাথে বিভিন্ন জায়গায় খোলামেলা চলাফেরা করতে থাকে। চলা ফেরার এক পর্যায়ে প্রেমিকা আসমা ও প্রেমিক রাজু অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলে প্রেমিকা আসমাকে ৪মাসের গর্ভবর্তী করেন। বিষয়টি শ্বশুর শফিকুল ইসলাম জানতে পেরে রাজুকে তার মেয়ে আসমাকে বিয়ে করার কথা বলে। রাজু বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় এক পর্যায়ে স্থানীয় গ্রামবাসীর চাপে রাজু আসমাকে ৩লাখ টাকার কাবিলে অবিভাবক ছাড়ায় বিয়ে করেন আর ৪মাসের গর্ভবর্তী বাচ্চা নষ্ট করে দেয়। প্রেমিকা আসমার তার বাবার বাড়ি থেকে চলে এসে স্বামী রাজুর বাড়িতে অবস্থান করলে রাজুর বাড়ির অবিভাবকরা এই বিয়ে মেনে না নেওয়ায় তাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। বর্তমানে ৮নং ওয়ার্ড মুরারীকাটি কাঠের বীজ্রের পাশে ভাড়া থাকে। ভাড়া থাকা অবস্থায় স্বামী রাজু স্ত্রী আসমাকে যৌতুকের জন্যে চাপ দিতে থাক এবং তার বাবা শফিকুলের কাছ থেকে গত ১৫দিন আগে ব্যবসা করার কথা বলে যৌতুক বাবদ দেড় লাখ টাকা নিয়ে যায়। সেই টাকা জামাই রাজু ব্যবসার না করে নষ্ট করে ফেলে। পরবর্তীতে জামায় রাজু আর যৌতুক লাগবে বলে স্ত্রী আসমাকে চাপ দিতে থাকে। স্ত্রী আসমা নিজের ঘর রক্ষার জন্যে বাবা শফিকুলের বাড়িতে যেয়ে জমিজমা ভাগ করার কথা বলে। এতে বাবা শফিকুল রাজি না হওয়ায় মেয়ে আসমাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেন। বাড়ি থেকে চলে না এসে সেখানে দাঁড়িয়ে স্বামী রাজুকে মোবাইল ফোন করে ডেকে আনেন। রাজু শ্বশুর বাড়িতে প্রবেশ করে শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে অপমান লাঞ্চিত কথা বার্তা বলতে থাকে। এমনতাবস্থায় রাজু ও শ্বশুর শফিকুলের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রাজু নিজেকে সামলাতে না পেরে মেয়ে আসমার সহযোগিতায় শ্বশুর শফিকুলকে লাঠি দিয়ে ডান হাত ভেঙ্গে দেওয়াসহ শরীল জখম করে। বাঁধা দিতে আসলে শফিকুলের স্ত্রী আফিয়াকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেন যা ৬টা সেলাই যুক্ত। এদিকে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের আক্রমনে জামাই রাজুকে বুকে ইট দিয়ে হাতে ও মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেন যা মাথায় ৬টা সেলাই যুক্ত। আহত জামাই রাজু, শ্বশুর শফিকুল ও শ্বাশুড়ীকে গ্রামবাসী উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। এই ঘটনার বিষয়ে উভয় পক্ষ্যের সাথে কথা হলে তারা নিজেরা নিজেদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেন।

স/জনী