ঢাকামঙ্গলবার , ২১ মার্চ ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

মুন্সীগঞ্জে টমেটো চাষে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা

admin
মার্চ ২১, ২০১৭ ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:

মুন্সীগঞ্জে টমেটো চাষে বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকরা লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে জেলার টমেটো চাষীরা। অধিক ফলন আর পাশাপাশি ভাল দাম পাওয়ায় বেশ খুশি কৃষকরা। আলুর জন্য বিখ্যাত জেলায় মুন্সীগঞ্জে এবার বৃষ্টির কারনে কৃষকরা আলু তুলতে পারছেনা। জমিতেই আলু পঁচে যাচেছ। বিপাকে পড়েছে আলু চাষীরা। আর যেসকল কৃষক আলুর পরিবর্তে টমেটোসহ অন্যান্য সবজি আবাদ করেছে তারা এবার লাভবান হবে শতভাগ।এমনটাই জানাযায় জেলার সবজি চাষীদের সঙ্গে আলাপ করে। টমেটো চাষীরা জমি থেকে পাঁকা টমেটো তুলে বিক্রি করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাছাড়া মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায়ও এবার টমেটো চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার চাহিদার তুলনায় দ্বিগুন ফলন হয়েছে বলে দাবি চাষীদের। কম খরচে বেশী লাভবান হওয়া যায় বলে কৃষকরা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি টমোটো চাষে ঝুঁকে পড়ছে। এতে করে অধিকাংশ কৃষক টমেটো চাষ করে স্বাভলম্বী হয়েছেন। মুন্সীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর অফিস সূত্রে জানাযায়, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার ৩ টি ইউনিয়ন ও জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২০২ হেক্টর জমিতে এবার টমেটো চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মানিক, রতন, বারী ১, ডেল্টা হাইব্রিডসহ প্রায় ৬টি জাতের টমেটোর আবাদ হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,কৃষক জমি থেকে পাঁকা অবস্থায় টমেটো তুলে বিভিন্ন বাজারে নিয়ে পাইকারী ও খুচরা বিক্রি করছেন। মাস খানেক আগে কৃষক প্রতি কেজি টমেটোর দাম পেয়েছে ৩০-৪০ টাকা। এখন কৃষকরা পাইকারী দাম পাচ্ছেন ২০-২৫ টাকা। সম্পূর্ন প্রাকৃতিকভাবেই জমিতে টমোটোগুলো পেঁকে যাচ্ছে। টমোটো পাঁকাতে কোন ধরনের ক্যামিক্যাল ব্যবহার না হওয়ার দেশী জাতের এই টমেটোর প্রতি ক্রেতাদের চাহিদা ও পছন্দ বেড়ে গেছে বহুগুন। ফলন ভাল হওয়ার পাশাপাশি টমেটোর দাম ভাল পাওয়ায় চাষিরা বেশ খুশি। মাঠ পর্যায়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারাও সারাক্ষন ফসলী জমিতে ঘুরে ঘুরে কৃষকদের নানা ধরনের পরামর্শ প্রদান করছেন।

কৃষক সামসুদ্দিন জানান, এবার ৩০ শতাংশ জমিতে তিনি টমেটো আবাদ করেছেন। তার সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা । তিনি আশা করছেন এবার তিনি প্রায় ৭০ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারবেন। তিনি জানান, প্রথমে ১৫ দিন আগে প্রতি কেজি গাছপাঁকা টমেটো ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি করেছেন। আগাম রোপনকৃত জমিতে ফলানো টমেটোর দাম ভাল পেয়েছেন। এখন প্রতি কেজি টমেটোর পাইকারী দাম পাচ্ছেন ২০-২৫ টাকা । কৃষকরা কেউ কেউ নিজেরাই বাজারে নিয়ে পাইকারী দরে বিক্রি করছেন । জমিতে একাধিক কৃষকের সাথে আলাপকালে তারা জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা সরাসরি জমি থেকে টমেটো নিয়ে যাচ্ছে পাইকারী দামে। হিমাগার না থাকায় গাছ পাঁকা টমোটোগুলো এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভন্ন স্থানে বিক্রি করে দিচ্ছেন কৃষকরা। এগুলো সংরক্ষনের ব্যবস্থা থাকলে সারা বছর ধরে জেলার টমেটোর চাহিদা মেটানো সম্ভব হতো বলে জানান একাধিক কৃষক।

কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর , মুন্সীগঞ্জ এর উপ- পরিচালক মো: হুমায়ূন কবির বলেন, মুন্সীগঞ্জে এবার ২০২ হেক্টর জমিতে টমেটোর চাষ হয়েছে। ফলনও বেশ ভাল হয়েছে । বাজারজাত করে কৃষক ভাল দাম পাচ্ছে। এই টমেটোগুলো প্রাকৃতিকভাবেই জমিতে পেঁকে যায়। কৃষক গাছপাকা টমেটোগুলো তুলে বিক্রি করছেন। এতে কোন ধরনের ক্যামিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছেনা। দাম ভাল পাওয়ায় কৃষকরা পরবর্তী বছরে অধিক জমিতে টমেটো চাষ করিতে আগ্রহী হবে। যা পরবর্তী বছরে টমেটো চাষের লক্ষমাত্রা আরো বৃদ্ধি পাবে।

স/জনী