ঢাকামঙ্গলবার , ২৮ মার্চ ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

মুক্তিযোদ্ধা সনদের জন্য অমুক্তিযোদ্ধাদের দৌড়ঝাপ


মার্চ ২৮, ২০১৭ ৬:০৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই- বাছাই কার্যক্রম মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে বন্ধ রয়েছে। তবুও মুন্সীগঞ্জে থেমে নেই অমুক্তিযোদ্ধাদের সদন পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাপ। এমনই ১ জন ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা ও অপরজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি করে মুক্তিভাতা ও সনদের জন্য দৌড়ঝাপ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিলই ইউনিয়নের রাকির কান্দি গ্রামের মৃত- সোবহান বেপারীর ছেলে আনোয়ার হোসেন বেপারী ও দেলোয়ার হোসেন বেপারী মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আনোয়ার ও দেলোয়ার স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সাধারন মানুষের উপর অত্যাচার করেছিলেন। বিষয়টি মুক্তিযোদ্ধারা জানতে পারেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এলাকার ক্ষিপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা আনোয়ার ও দেলোয়ারকে ধরে নিয়ে যায়। ধরে নিয়ে ২ ভাইকে বস্তায় ভরে পদ্মা নদীতে ফেলে দেয়। নদীতে ফেলে আসার পর অলৌকিকভাবে বস্তার বাঁধ খুলে গিয়ে আনোয়ার বেঁচে যায়। কিন্তু দেলোয়ারের লাশের কোন সন্ধান মিলেনি। পদ্মা নদী থেকে বেঁচে ফিরে আনোয়ার চলে যান আত- গোপনে। দীর্ঘ ৪৬ বছর পর আনোয়ার নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করছেন এবং দেলোয়ারের মেয়ে ফিরোজা নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয় গ্রামবাসী অনেকেই। সরেজমিনে মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবির বিষয়ে এলাকার সাধারন মানুষ ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা গেছে। বেশীরভাগ মুক্তিযোদ্ধা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আনোয়ার ও দেলোয়ার কখনও মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেনি। তবে ইউনিয়নটির বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বিল্লাল মিঝি প্রথম থেকেই এ বিষয়ে কিছু বলতে নারাজ ছিলেন। এলাকার অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও বিল্লাল মিঝি নিজেও বিষয়টি বার বার এড়িয়ে যান। কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বিল্লাল মিঝি ও তার সহযোদ্ধারাই বলতে পারবেন সেদিনের ঘটনার কথা। কারা এবং কেন আনোয়ার ও দেলোয়ার বেপারীকে বস্তায় ভরে পদ্মায় ফেলে দিয়েছিল। যারা দেলোয়ারকে রাজাকার বলে হত্যা করেছিল তারাই এখন দেলোয়ারকে মুক্তিযোদ্ধা এবং তার সন্তান ফিরোজা বেগমকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলে প্রচার করছেন। দেলোয়ার মুক্তিযোদ্ধা হয়ে থাকলে কেন তাকে হত্যা করা হয়েছিল? আনোয়ার ভাগ্যের জোরে বেঁচে যায়। এখন দেলোয়ারের মেয়েকে কেন সার্টিফিকেট দিতে মরিয়া সকলে। বিষয়টি নিয়ে দৌড়ঝাপ করছেন ইউনিয়ন কমান্ডার বিল্লাল মিঝি। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবিকারী ফিরোজা বেগমের পিতার নাম দেলোয়ার হোসেন কিন্তু তার প্রথম বিবাহের কাবিননামায় পিতার নাম লিখা রয়েছে আনোয়ার হোসেন বেপারী।
শিলই ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বিল্লাল মিঝি বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও পরে তিনি নিজেই স্বীকার করে বলেন , আনোয়র আর দেলোয়ার কখনই মুক্তিযোদ্ধা ছিলনা। দেলোয়ারকে মুক্তিযোদ্ধারাই মেরেছে বলে জানান তিনি। আনোয়ার আর দেলোয়ার যদি রাজাকার হয়ে থাকে তাহলে দেলোয়ারের সন্তান ফিরোজাকে প্রত্যায়নপত্র দিয়েছিলেন কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ফিরোজা বেগমের পক্ষে কোন প্রত্যায়নপত্রদেইনি।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে আনোয়ার এবং দেলোয়ারের মেয়ে ফিরোজা বেগমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে তাদেরকে বাড়ীতে গিয়ে পাওয়া যায়নি। পরে একাধিকবার ফোন করে তাদের পাওয়া যায়নি।
সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এম এ কাদের মোল্লা বলেন, দেলোয়ার বেপারীর মেয়ে ফিরোজা বেগম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের কাছ থেকে প্রত্যায়নপত্র এনে দিয়েছিল। হাই কোর্টের আদেশে বাছাই প্রক্রিয়া বন্ধ আছে। চালু হলে তখন যাচাই বাছাই করে স্বাক্ষীদের বক্তব্য অনুয়ায়ী যদি সঠিক বলে মনে হয় তাহলে দেওয়া হবে। অন্যথায় আবেদনটি বাতিল বলে গন্য হবে।

s/ jony