পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তিস্তায় পানি নেই দাবি করে কয়েকটি ছোট নদীর পানি বণ্টনের যে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন, বাংলাদেশ তা আমলে নেয়নি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর নিয়ে সোমবার সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
মমতা ব্যানার্জির প্রস্তাব নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইনু বলন, ‘এটি আমরা এখনো আমলে নেইনি, আমলে নেওয়ার দরকার নাই। তিস্তা তিস্তাই, তিস্তার পানি বণ্টন করার জন্য আরেকটি নদীর কোথায় কী হবে, সেটা এখানে আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না।’
ইনু বলেন, ভারতের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ কখনোই বলেনি যে, তার রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য চুক্তি ঝুলে আছে। এটা তারা তাদের মতো আলোচনা করে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে চুক্তি করা এবং সেই ব্যাপারে মোদি সাহেব এই তিস্তা চুক্তি করবেন সেটাই জয়েন্ট কমিউনিকায় এসেছে।
তিনি বলেন, সুতরাং তিস্তা চুক্তি করব না- যদি এ ধরনের শব্দ থাকত তাহলে আমরা ধরতাম পিছিয়ে গেলাম। সুতরাং এইবার তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি তবে এই চুক্তি করার পক্ষে দুই পক্ষই একমত। যেহেতু ঐকমত্য আছে সেটা সময়ের ব্যাপার, এই সময়টা নিয়ে আমাদের তর্ক-বিতর্ক আছে। তবে এবার হলে আমরা খুশি হতাম।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে তিস্তা চুক্তি না হলেও শেখ হাসিনা এই চুক্তির দাবি থেকে সরে আসেননি উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বরং তিনি তিস্তার পানির দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেন এবং একই সাথে তিনি বাংলাদেশ-ভারতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানির প্রবাহ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানও জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন।
শেখ হাসিনার ভারত সফরে সম্পাদিত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের মধ্যে ২২টির তথ্য সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরে ইনু বলেন, অন্যগুলোর বিষয়েও জানানো হবে, লুকোছাপার কিছু নাই।
উল্লেখ্য, শনিবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর বেরিয়ে এসে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি তিনি শেখ হাসিনাকে ‘বুঝিয়ে বলেছেন।’
তবে এর আগে নয়াদিল্লিতে দুদেশের শীর্ষ বৈঠকের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, তিনি আশাবাদী দুই দেশের বিদ্যমান সরকারই এ জট খুলতে পারবে।
স/ এষ্

