ঢাকামঙ্গলবার , ২২ আগস্ট ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

বাংলাদেশের ওষুধ নিতে চায় ইরাক

admin
আগস্ট ২২, ২০১৭ ৩:০৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইরাক এখন পুনর্গঠনের মুখে। আইএস (ইসলামিক স্টেট)-এর হুমকি সত্ত্বেও দেশটির প্রশাসন ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চাইছে।

এ অবস্থায় ইরাকের জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশ থেকে ওষুধ আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেল সমৃদ্ধ দেশটির সরকার। পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে চুক্তির বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সূত্র জানায়, ইরাকের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ওষুধের চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে বাংলাদেশে। ওষুধ আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তাবও দিয়েছে। এমনকি ঢাকা সম্মত হলে তারা (ইরাক) এ দেশ থেকে ওষুধ আমদানির লক্ষ্যে একটি পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরেও আগ্রহী বলে জানিয়েছে। বাগদাদে অবস্থিত বাংলাদেশ অ্যাম্বাসির রাষ্ট্রদূত আবু মকসুদ মো. ফরহাদ সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে  পাঠানো এক চিঠিতে বলেছেন, আমন্ত্রণ পেলে দ্রুততার সঙ্গে ইরাক সরকারের প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশ সফর করবে। বিশেষজ্ঞ দলের প্রতিবেদনের আলোকে ইরাক সরকার ওষুধ আমদানির বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেবে। ওষুধ রপ্তানি-আমদানির বিষয়টি চূড়ান্তভাবে দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কার্যকর হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে আরও বলা হয়, চীন, তুরস্ক ও ভারত ব্যাপকভাবে তাদের পণ্যসামগ্রী ইরাকে বাজারজাত করছে। বাংলাদেশি পণ্য বিশেষ করে তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য, চা, ডাল, প্লাস্টিক, সিরামিক এবং ওষুধের দাম তুলনামূলক কম এবং পণ্যের মান ভালো হওয়ায় এসব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে ইরাকে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রপ্তানি বাড়াতে আমরা নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধান করছি। ইরাক থেকে বাংলাদেশের ওষুধ আমদানির যে প্রস্তাব এসেছে এটি তারই অংশ। তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলো (এলডিসি) ২০৩৩ সাল পর্যন্ত ওষুধশিল্পে মেধাস্বত্বে ছাড় পেয়েছে। ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ সুবিধা কার্যকর হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে কম মূল্যে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ওষুধ তৈরি ও সরবরাহ করতে পারছে। এসব কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন বাংলাদেশের ওষুধশিল্পে আগ্রহ দেখাচ্ছে। ২০২১ সাল নাগাদ এই খাত থেকে তিন হতে চার বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, তৈরি পোশাকের পর দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত হিসেবে ওষুধশিল্পকে বিবেচনা করা হচ্ছে। রপ্তানি সম্প্রসারণে এই শিল্পে নগদ প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের ১২৭টি দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। ওষুধশিল্প সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দেশের দেড় শতাধিক প্রতিষ্ঠান ওষুধ উৎপাদন করছে। এসব কোম্পানি সম্মিলিতভাবে প্রায় ৫ হাজার ব্র্যান্ডের ৮ হাজারের বেশি ওষুধ উৎপাদন করে। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, জাপান, ফ্রান্স, সুইডেন, ইতালি, কানাডা, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, সৌদি আরব, ইরান মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, মরক্কো, তুরস্ক, আলজেরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাবে গত ৫ বছরে ওষুধের রপ্তানি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে ওষুধ রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৮২ লাখ ডলার। ২০১২-১৩ অর্থবছরে তা ছয় কোটি ডলারে গিয়ে পৌঁছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রায় সাত কোটি ডলারের, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৭ কোটি ২৬ লাখ ডলারের, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৮ কোটি ২১ লাখ ডলারের ওষুধ বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে। আর সর্বশেষ গত অর্থবছরে ৯ কোটি ডলারের ওষুধ রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়, যার বিপরীতে তৃতীয় প্রান্তিক শেষে (জুলাই-মার্চ) রপ্তানি আয় হয়েছে প্রায় ৭ কোটি মার্কিন ডলার।

স/এষ্