ঢাকারবিবার , ১২ আগস্ট ২০১৮
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

ঝিনাইদহে কলাবাগান ফুটসালের সেমিফাইনালে রংধনু স্পোর্টিং জুনিয়র


আগস্ট ১২, ২০১৮ ১০:১৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

এলিস হক, ঝিনাইদহ হতে :

ঝিনাইদহ শহরের উজির আলী ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত আজ রবিবার ১২ই আগস্ট’১৮ বিকেল ৫টায় কলাবাগান ফুটসাল প্রিমিয়ার লীগের দ্বিতীয় রাউন্ডের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলায় রংধনু স্পোর্টিং ক্লাব টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে আর ডি স্পোর্টিং ক্লাবকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উন্নীত হয়েছে।
প্রথমার্ধে উভয় দলের গোলশূন্য ছিল। খেলায় আর ডি স্পোর্টিং ক্লাব উভয়ার্ধে আক্রমন করেছে ৮ বার প্রতিপক্ষের বক্সে আক্রমণ রচনা করে। ২টি হাফ চান্স, ৩টি ফুল চান্স পায় এবং ৪টি পজিটিভ এ্যাটাক করার সুযোগ পায়। আরডির ফুল চান্সের মধ্যে খেলার প্রথমার্ধে ৮ মিনিটে আরডির ফরোয়ার্ড জীবনের শট রংধনুর গোলপোস্টের প্রথমপোস্টের কোনায় বল ঘেঁষে গিয়ে দ্বিতীয়পোস্টে লেগে ফেরত আসে। এই সময় রংধনুর গোলকিপার রাজু বল ক্লিয়ার করতে না পারলেও রক্ষণভাগের খেলোয়াড় মানিক বিশ্বাস এসে বিপদমুক্ত করেন। নইলে আরডি দল ১ গোলে এগিয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকতো না।

পক্ষান্তরে রংধনু স্পোর্টিং ক্লাব ১৩ বার আরডি শিবিরে আক্রমণ রচনা করে। ৫টি হাফ চান্স, ২টি ফুল চান্স এবং ৩টি পজিটিভ এ্যাটাক করেছে। বিশেষ করে রংধনুর প্রথমার্ধে ৩ মিনিটে রংধনু স্পোর্টিংয়ের এজাজ বক্সের মধ্যে দৌড়ে যান। আরডির গোলকিপার রিফাত এগিয়ে এসে বলকে ক্লিয়ার করতে যান। ক্লিয়ারেন্সের সময় ফিরতি বলে এজাজের পায়ে এসে পড়ে। এজাজের পায়ে বল লেগে বারের উপর দিয়ে চলে যায়। নইলে এই ফুলচান্সে এজাকের দেয়া গোলে এগিয়ে যেতে পারতো। কিন্তু ব্যাডলাক!

রংধনুর অধিনায়ক তামিম ইকবাল খেলার মাঠে স্পেশালিস্টের কিকার হিসেবে পুরোভাগে নেতৃত্বে দেন। উপর-নিচে সমান তালে পাল্লা দিয়ে আরডির আক্রমনের উৎস্যগুলোকে নস্যাৎ করে দেন। তামিম ইকবালের ফ্রিকিকের সূত্রে ২টি নিশ্চিত গোল দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ভাগ্য তাকে প্রতারণা করেছে।
সতীর্থ খেলোয়াড়েরা বিশেষ গোলকিপার রাজু আরডির দেয়া ৪টি শটকে তাৎক্ষণিকভাবে সেফ করে দলকে গোল খাওয়ার হতে নিশ্চিত মান-সম্মাণ দিয়ে বাঁচিয়েছেন। নইলে নিশ্চিত ৩ গোল খেয়ে প্রতিযোগিতা হতে বিদায় নিতো রংধনু স্পোর্টিং ক্লাব। সেই দিক বিবেচনায় রাজু রবিবারের খেলার আসরকে কোনোদিন ভুলতে চাইবেন না নিশ্চয়ই…। মনে রাখার মতো বিশেষ স্মরণীয় দিন রাজুর জন্য।

আরেকবার প্রথমার্ধের ১৫ ও ১৬ মিনিটে দুইবার একই কায়দায় মানিক বিশ্বাস বামপ্রান্তে মানিক বিশ্বাস বল মেরে দিয়েছিলেন কিন্তু আরডির গোলকিপার রিফাত ছিলেন প্রস্তুত। এবং দ্বিতীয়ার্ধে ৪৭ সাইফ প্রতিপক্ষের বক্সে ওপেন পেয়ে ভলিশট করেন। কিন্তু এক্ষেত্রে আরডির গোলকিপার ছিলেন অতন্দ্র প্রহরীর মতো দৃষ্টিসজাগ। আরেকবার বামপ্রান্তে রংধনুর সাইফ পেনাল্টি বক্সের ঠিক জায়গায় বল নিয়ে দৌড়ে যান। চলন্ত অবস্থায় প্লেস শট করেন। কিন্তু আরডির গোলকিপারের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়ে কর্ণারের বিনিময়ে রক্ষা করে।
খেলার বিরতির পর মুষলধারে বৃষ্টি হয়। প্রথম অবস্থায় ছিল শুকনো মাঠ। দুদিন কাঠফাঁটা রোদের সুবাদে মাঠ বেশ ভালো। তখনি আর ডি স্পোর্টিং ক্লাবের দখলে ছিল বেশির ভাগ সময়। কিন্তু সেই ধারায় আর দেখা যায়নি দ্বিতীয়ার্ধে। পিচ্ছিল মাঠে খেলার অভ্যাস ছিল রংধনুর প্রতিটি খেলোয়াড়ের। বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেরা দখলে নেয়। অখেলোয়াড়োচিত মনোভাবের কারণে সাইফকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি রবিউল ইসলাম।
শেষ পর্যন্ত কোনোপক্ষই গোলের মুখ দেখতে না পারায় টাইব্রেকারের কাছে মাথা নত করতে হয়েছে।
কিন্তু দুর্ভাগ্য তাদের…যে আরডি স্পোর্টিং ক্লাবের ৭ জন ফুটবল খেলোয়াড়ের খেলা এতো খেলেছেন। ভালো খেলেও এই দলটি টাইব্রেকারে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট হতে বিদায় নিলো।

টাইব্রেকারে প্রথম কিক নেয় আরডি স্পোর্টিং ক্লাব। আরডির পক্ষে জীবন ও রিফাত গোল করলেও মামুন, পায়েল ও টিটন তা পারেননি।
অপরদিক রংধনুর পক্ষে মানিক বিশ্বাস (১৩ নম্বর জার্সি) ও সাইফ (৭ নম্বর জার্সি) টাইব্রেকার কিকে মিস করলেও সোনামিয়া (৮ নম্বর জার্সি), তামিম ইকবাল (১২ নম্বর জার্সি) ও সবুজ (৯ নম্বর জার্সি) গোল করতে সক্ষম হয়েছেন। সবমিলিয়ে রংধনু স্পোর্টিং জুনিয়র ৩-২ গোলে জয়লাভ করে কলাবাগান ফুটসাল প্রিমিয়ার লীগের সেমিফাইনালে উঠেছে।

রংধনু স্পোর্টিং ক্লাব জুনিয়র : গোলকিপার রাজু, সোনামিয়া, সবুজ, তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), সাইফ ও এজাজ।
আরডি স্পোর্টিং ক্লাব : গোলকিপার রিফাত, জীবন, মামুন, হাশেম, পিরান্ট ও টিটন।
রেফারি : রবিউল ইসলাম। সহকারী রেফারি : জাহিদ ও আশিক।

 খেলা শেষ হওয়ার পর পরই বিজয়ীর বেশে রংধনু স্পোর্টিং জুনিয়র দলের সকল খেলোয়াড়রা আনন্দে উল্লাসে ফেটে পড়েন।

স/জনী