জনপ্রিয় ক্রীড়া ভাষ্যকার, ক্রিকেট-হকি আম্পায়ার এবং ফুটবল ভলিবলের রেফারী আতাউল হক মল্লিকের ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।। এ উপলক্ষ্যে তাঁর পরিবার এবং বিভিন্ন সংগঠন নানারকম কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। মল্লিক ১৯৪০ সালের ৪ জুন পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।
একাধারে একজন কৃতি ক্রীড়াবিদ, আম্পায়ার, রেফারি, ক্রীড়া ভাষ্যকার এবং ক্রীড়া লেখক ছিলেন আতাউল হক মল্লিক। তাঁর বাবা আব্দুল ওয়াদুদ মল্লিক। শৈশবে ঢাকার পগোজ স্কুলেই তার শিক্ষা এবং খেলোয়াড়ী জীবনের শুরু। যশোর এম.এম কলেজের ছাত্র মল্লিক ১৯৬৭ সালে বি.এ পাশ করেন। ১৯৫৩ থেকে ১৯৮২ সাল অব্দি ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে তিনি ফুটবল এবং ক্রিকেট লীগে খেলেছেন। ১৯৫৯ সালে ক্রিকেট আম্পায়ার, ১৯৬৯ সালে ভলিবলের রেফারি, ১৯৭০ সালে ফুটবল রেফারি এবং ১৯৭২ সালে হকির আম্পায়ার হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে জনাব মল্লিকের। ১৯৮৪ সালে ফুটবল রেফারি হিসেবে ফিফা ব্যাজ অর্জন করেন। ১৯৭২ সাল থেকে তিনি বেতার এবং টেলিভিশনে ক্রীড়া ভাষ্যকার হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং তা নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখেন। আম্পায়ার এবং রেফারিংয়ের সাথে সম্পৃক্ত থাকার ফলে তিনি ধারাভাষ্যে টেকনিক্যাল বিষয়াদী সমন্ধে বেশ সাবলীল এবং আত্মবিশ্বাসী খাকতেন। ছাত্রজীবন থেকেই ক্রীড়া বিষয়ক লেখালেখির অভ্যাস গড়ে উঠে, পরবর্তিতে ক্রীড়া সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন গুণী এই ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব।
আতাউল হক মল্লিক রচিত অলিম্পিক যুগে যুগে শিরোনামে প্রথম বই প্রকাশিত হয়। এরপর তিনি সাফ গেমস এবং আইসিসি ট্রফিতে বাংলাদেশ শিরোনামে আরোও দুইটি বই প্রকাশের উদ্যোগ নেন। প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটার ও ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও তাঁর ব্যপক সুনাম ছিল। আতাউল হক মল্লিকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশ স্পোর্টস কমেন্টেটরস ফোরামের সভাপতি আলফাজ উদ্দিন আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। আমাদের পরিবারের বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটিকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি আমরা সব ক্রীড়া ভাষ্যকারগণ।
২০০১ সালের ৮ আগস্ট দেশের খ্যাতনামা এই ক্রীড়া ভাষ্যকার এক সড়ক দূর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন।
স/এষ্

